২৪ জানুয়ারী ২০২০, ১১ মাঘ ১৪২৬, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 

আওয়ামী লীগ সরকার সব খেয়ে ফেলছে ॥ মির্জা ফখরুল

প্রকাশিত : ২৩ নভেম্বর ২০১৯

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার সব খেয়ে ফেলতে শুরু করেছে। সরকারের একমাত্র উদ্দেশ্য কোনভাবে ক্ষমতায় টিকে থেকে লুটপাট করা। আর লুটপাটের সেই সম্পদ বিদেশে পাচার করা, তাদের পরিবারকে নিরাপদে রাখা। দেশের মানুষের কথা চিন্তা করার অবকাশ তাদের নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, পরিস্থিতি এতটাই নাজুক হয়ে উঠেছে যে দেশের মানুষ আর কুলিয়ে উঠতে পারছে না।

শুক্রবার দুপুরে সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, এই সরকার এখন সব কিছু খেয়ে ফেলছে, এরা ক্যাসিনো খেলো, কী কী খেলো, বড় বড় মেগা প্রজেক্টের সব খেয়ে ফেলছে। এখন সাধারণ মানুষের পেঁয়াজ আর লবণ নিয়ে টানাটানি শুরু করেছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা একটি নাটক দেখেছিলাম মুনতাসির ফ্যান্টাসি। সেই নাটকের প্রধান যে চরিত্র সে সবকিছু খেয়ে ফেলে। তার এত খিদে যে চেয়ারটেবিল, কাগজপত্র সব খেয়ে ফেলে। বর্তমান সরকারেরও একই অবস্থা। তারাও সবকিছু খেয়ে ফেলছে। অনেকে এই সরকারকে স্বৈরাচারী সরকার বলে। কিন্তু এরা তো স্বৈরাচার নয়, স্বৈরাচারের বাবা-ফ্যাসিবাদ। স্বৈরাচারেরও একটা মিনিমাম অবস্থা থাকে। স্বৈরাচার এরশাদ, আইয়ুব খানের সময়ও এমন অবস্থা ছিল না।

তিনি বলেন, আমরা দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার কাজ করছি। আমরা দলমত সবাইকে নিয়ে এমন একটা গণআন্দোলন সৃষ্টি করব যার মাধ্যমে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন। দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসবে। এটা আমাদের বিশ্বাস। আমরা জানি এটা হবে। কারণ এদেশের ইতিহাসে এ ধরনের স্বৈরাচার কখনও টিকে থাকতে পারেনি।

খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে নেতাকর্মীদের ‘পাহাড়ের মতো শক্তিশালী’ ঐক্য গড়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সব ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে, বিভ্রান্তি ভুলে গিয়ে, আমাদের নিজেদের মধ্যে কোন রকম দ্বিধা সৃষ্টি না করে পাহাড়ের মতো শক্তি নিয়ে আমাদের একতাবদ্ধ হয়ে শক্তিশালী হতে হবে।

নেতাকর্মীদের হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘ দশ-বারো বছর ধরে এই অবস্থার মধ্যে আছি। হতাশ হওয়ার কিছু নেই। নেলসন ম্যান্ডেলা ২৭ বছর জেলে ছিলেন। আমার পাশের দেশের যাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খুব খারাপ, মিয়ানমার, তার নেত্রী সুচি (আউং সান সুচি) ২২ বছর ধরে গৃহবন্দী ছিলেন প্রায়। আমাদের নেত্রী দেশনেত্রী আজকে কারাগারে। কারাগারে কিন্তু নিজের জন্য নয়, কারাগারে তিনি আজকে আমাদের জন্য, এদেশের গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার জামিন সরকারের কারণে আটকে আছে। অন্য সবাইকে জামিন দিয়ে দেন, দেশনেত্রীকে জামিন দেন না একই ধরনের মামলায়।

প্রকাশিত : ২৩ নভেম্বর ২০১৯

২৩/১১/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



শীর্ষ সংবাদ: