২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ১২ ফাল্গুন ১৪২৬, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

আবরার হত্যা মামলায় সাদাত ৫ দিনের রিমান্ডে

প্রকাশিত : ১৭ অক্টোবর ২০১৯

কোর্ট রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ রাব্বী (২২) হত্যা মামলায় গ্রেফতার এএসএম নাজমুস সাদাতের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে সিএমএম আদালত। বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম মোর্শেদ আল মামুন ভূইয়া বুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের এ শিক্ষার্থীর রিমান্ডের আদেশ দেন।

রিমান্ড আবেদনের শুনানিকালে বিচারকের জিজ্ঞাসায় এ আসামি বলেন, সিনিয়র ভাইদের কথামতো আবরার ফাহাদ রাব্বীকে রুম থেকে তিনি ডেকে আনেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর ডিবির লালবাগ জোনাল টিমের পুলিশ ইন্সপেক্টর মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান এ আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, উক্ত আসামি মামলার এজাহারনামীয় ১৫ নম্বর আসামি। মামলার তদন্ত, সাক্ষ্য প্রমাণে ও ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনায় এবং পারিপাশির্^ক সাক্ষ্য-প্রমাণে এ আসামির সূত্র বর্ণিত মামলার ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকার সম্পর্কে যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। ইতিপূর্বে এ মামলায় আদালতে স্বীকারোক্তিকারীদের মধ্যে কয়েকজন এ আসামি জড়িত মর্মে নাম প্রকাশ করেছেন। তাই মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য এ আসামিদের ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

রিমান্ড শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষে পুলিশের জিআরও এসআই মাজহারুল ইসলাম ও সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হেমায়েত উদ্দিন খান হিরণ রিমান্ড আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন। আসামি নাজমুস সাদাতের পক্ষে কোন আইনজীবী না থাকায় বিচারক তাকে জিজ্ঞাসা করেন কিছু বলার আছে কি না? জবাবে তিনি বলেন, আমি বড় ভাইদের কথায় আবরারকে রুম থেকে ডেকে এনে দেই। আমি আবরারকে মারিনি। এরপর বড়ভাই কারা বিচারকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনিক, সকাল, মুজাহিদ ও রবিন, মনির। তিনি আরও বলেন, ওরাই আবরারকে মারে। আমি সাড়ে ১২টায় চলে আসি। এরপর কি হয়েছে জানি না।

রিমান্ডে যাওয়া সাদাত বুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। সে জয়পুরহাট জেলার সদর থানার কড়ই উত্তর পাড়ার মোঃ হাফিজুর রহমানের ছেলে। মঙ্গলবার তাকে গ্রেফতার করা হয়। মামলাটিতে ৬ জন আসামি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দী দিয়েছেন। এরা হলেন, বুয়েট ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মোঃ অনিক সরকার, উপ-সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক ইফতি মোশারেফ সকাল, ক্রীড়া সম্পাদক মোঃ মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন, মোঃ মনিরুজ্জামান মনির ও শিক্ষার্থী মোঃ মুজাহিদুর রহমান।

মামলাটিতে রিমান্ড শেষে কারাগরে রয়েছেন, বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুহতামিম ফুয়াদ, কর্মী মুনতাসির আল জেমি, গ্রন্থ ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ইসতিয়াক আহম্মেদ মুন্না, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভির, আকাশ হোসেন ও মিজানুর রহমান।

রিমান্ডে রয়েছেন, বুয়েট ছাত্রলীগের আইন বিষয়ক উপ-সম্পাদক অমিত সাহা, বুয়েটের শিক্ষার্থী শামীম বিল্লাহ, মুয়াজ ওরফে আবু হুরায়রা, সাসছুল আরেফিন রাফাত ও হোসেন মোহাম্মাদ তোহা। আবরার বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭তম ব্যাচ) ছাত্র ছিলেন। তিনি থাকতেন বুয়েটের শেরেবাংলা হলের নিচতলার ১০১১ নম্বর কক্ষে। গত ৬ অক্টোবর একই হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে তাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়।

প্রকাশিত : ১৭ অক্টোবর ২০১৯

১৭/১০/২০১৯ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

অন্য খবর



শীর্ষ সংবাদ: