২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ব্যাঙ্কসি স্টেনসিল ও তার গ্রাফিতি


এই গ্রাফিতি শুরু হয়েছিল অনেক আগেই। এর ইতিহাস এতই পুরনো যে প্রাচীন মিসর, গ্রিস ও রোমান সাম্রাজ্যেও এর নিদর্শন আছে। এই শিল্পকর্মগুলোর মূল উপজীব্য সমসাময়িক বিভিন্ন রাজনৈতিক কিংবা সামাজিক ঘটনা। ব্যঙ্গ-বিদ্রপের ভেতর দিয়ে কখনও এগুলোতে ফুটিয়ে তোলা হয় যুদ্ধবিরোধী বক্তব্য কিংবা শান্তির বার্তা। কখনও এটি হয়ে ওঠে রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, প্রচলিত নীতি কিংবা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের শৈল্পিক রূপ হিসেবে

ধ্রুব হাসান

সম্প্রতি ‘সুবোধ’-এর সূর্যের রং লাল। ভাগ্যবিড়ম্বিত সুবোধ এখানেও পালাচ্ছেন। এই শহরের দেয়ালে আঁকা সুবোধ কখনও হাতে বাক্সবন্দী সূর্য নিয়ে পালাতে উদ্যত, কখনও জেলেবন্দী, কখনও হতাশায় ঝুঁকে পড়া এক মানুষের প্রতিমূর্তি। এই গ্রাফিতি শুরু হয়েছিল অনেক আগেই। এর ইতিহাস এতই পুরনো যে প্রাচীন মিসর, গ্রিস ও রোমান সাম্রাজ্যে ও এর নিদর্শন আছে। এই শিল্পকর্মগুলোর মূল উপজীব্য সমসাময়িক বিভিন্ন রাজনৈতিক কিংবা সামাজিক ঘটনা। ব্যঙ্গ-বিদ্রপের ভেতর দিয়ে কখনও এগুলোতে ফুটিয়ে তোলা হয় যুদ্ধবিরোধী বক্তব্য কিংবা শান্তির বার্তা। কখনও এটি হয়ে ওঠে রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, প্রচলিত নীতি কিংবা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের শৈল্পিক রূপ হিসেবে। কখনও হয়ে ওঠে নাগরিক অধিকার আদায়ের হাতিয়ার। গ্রাফিতি-শিল্পীদের কাছে পৃথিবীর সব দেয়ালই একেকটা ক্যানভাস। বিশ্ববাসীর কাছে এই গ্রাফিতি আঁকিয়ের মধ্যে পরিচিত নাম ব্যাঙ্কসি (ইধহমংু) স্টেনসিল। যার গ্রাফিতি মানুষের মনে নাড়া দেয়। ব্যঙ্কসি সময়ের কথা বলেন, জীবনের কথা বলেন। শিল্প তার প্রতিবাদের মাধ্যম। ব্যঙ্কসি (ইধহমংু) স্টেনসিল তার কাজে স্টেনসিল (লেখা বা আঁকার জন্য ছিদ্রময় পাত) ব্যবহার করেণ। এই পদ্ধতিতে স্প্রে করে দ্রুত আঁকার কাজ করা যায়। ব্যাঙ্কসি (ইধহমংু) স্টেনসিল অবৈধ বেলফোর ঘোষণার বিরোধিতা করেন তার গ্রাফিতির মাধ্যমে। সম্প্রতি এই কলঙ্কিত বেলফোর ঘোষণার মাধ্যমে ফিলিস্তিনীদের উচ্ছেদ করে সেখানে জায়নবাদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ১০০ বছর পার হয়েছে। ১৯১৭ সালের ২ নবেম্বর ব্রিটেনের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস আর্থার বেলফোর ফিলিস্তিনে ইহুদীদের জন্য তথাকথিত আবাসভূমি বা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে ব্রিটেনের অবস্থানের কথা ঘোষণা করেন। এই ঘোষণা বেলফোর ঘোষণা নামে পরিচিত। মূলত এই ঘোষণার মাধ্যমেই ইসরাইল নামক রাষ্ট্রের গোড়াপত্তন করা হয়। পরবর্তীতে ৩১ বছর পর ১৯৪৮ সালে ব্রিটেন এবং আমেরিকার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ফিলিস্তিনীদের নিজস্ব ভূখ-ে জবরদখল করে ইসরাইল নামক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা লাভ করে। কলঙ্কিত বেলফোর ঘোষণার ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই ব্রিটেন আর্টিস্ট এক এ্যাপোলজি পার্টির আয়োজন করেন। সেখানে সব ফিলিস্তিনী রিফিউজি ক্যাম্পের শিশুরা অংশগ্রহণ করে। ফিলিস্তিনের প্রায় ৫ লাখ বেসামরিক মানুষ হত্যা, গাজায় অবরুদ্ব মানবতার সঙ্গে নির্মম নিষ্ঠুরতার দায় ব্রিটেন, ইসরাইল, আমেরিকার সঙ্গে জাতিসংঘ ও সমানভাবে দায়ী, সেই কথাই তুলে ধরা হয়েছে সমগ্র আয়োজনে। তারা চান বেলফোর ঘোষণার এই কলঙ্কিত দিনে ব্রিটেন সরকারের তাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুক এবং ফিলিস্তিনীদের তাদের অধিকার ফিরিয়ে দেয়া হোক।