মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১১ আশ্বিন ১৪২৪, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

চট্টগ্রাম কলেজে ছাত্রলীগের ওপর শিবিরের হামলা ফুল দিতে বাধা

প্রকাশিত : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৫
  • ছাত্রদের হল ত্যাগের নির্দেশ, ক্লাস ও পরীক্ষা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ বিজয় দিবসের কর্মসূচী পালন করাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম কলেজে ছাত্রলীগ-শিবিরের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে ছাত্রলীগ কলেজের শহীদ মিনারের বেদিতে ফুল দিতে গেলে শিবিরকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এরপরই উভয়পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নূরুল আজিম রনিসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনার এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের কয়েক শ’ নেতাকর্মী কলেজ ঘিরে অবস্থান নেয়। ছাত্রলীগের সংঘবদ্ধ প্রতিরোধের মুখে শিবিরের নেতাকর্মীরা কলেজ ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শিবিরকর্মী সন্দেহে অন্তত ৬৬ জনকে আটক করেছে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে কলেজের তিনটি ছাত্রাবাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। সন্ধ্যার মধ্যেই ছাত্রদের হল ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এদিকে, আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে চট্টগ্রাম কলেজে শীতকালীন ছুটি। আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কলেজের সকল ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকবে। তবে দাফতরিক কাজকর্ম চালু থাকবে।

এদিকে ঘটনার পর ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা আবাসিক হোস্টেলগুলো বন্ধ করে দেয়ার দাবি জানালেও কর্তৃপক্ষ আবাসিক হল বন্ধ করতে রাজি হয়নি। ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশ সোহরাওয়ার্দী হলে তল্লাশি চালানোর আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে শহীদ মিনারে ফুল দিতে যান। খবর পেয়ে শিবিরের নেতাকর্মীরা শহীদ মিনারের সামনে জড়ো হয়। পরে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা শহীদ মিনারে ফুল দিতে গেলে শিবিরকর্মীরা বাধা দেয়। উভয়পক্ষ পাল্টাপাল্টি সেøাগান দিতে শুরু করে। এক পর্যায়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা শিবিরকে প্রতিরোধ করার প্রস্তুতি নিলে এক দফা ধাওয়া পাল্টাধাওয়া হয়। শিবিরের নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে ছাত্রলীগকে কলেজের বাইরে বের করে দিয়ে মূল গেটে তালা লাগিয়ে দেয়। পরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সরকারী মহসিন কলেজের সামনে অবস্থান নিলে সেখানেও তাদের ওপর হামলা চালায় শিবির। বিষয়টি নগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত নেতাকর্মী নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নূরুল আজিম রনির নেতৃত্বে মিছিল করে ঘটনাস্থলে আসেন। তারা সেখানে গেলে শিবিরের নেতাকর্মীরা চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজ থেকে তাদের লক্ষ্য করে রাস্তায় ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও পাল্টা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। পরে নগর পুলিশের কয়েক শ’ সদস্য উভয়পক্ষের মধ্যে অবস্থান নেয়। পরে কয়েক রাউন্ড গুলি নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় হোস্টেলে রেইড দেয়ার কথা বলে পুলিশ ছাত্রলীগকে সরিয়ে দেয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পুলিশ হোস্টেলে অভিযান চালায়নি। তবে কলেজের ভেতরে থেকে কয়েক শ’ ছাত্রকে আটক করে মূল ভবনের সামনে আনে পুলিশ। পরবর্তীতে তাদের যাচাই-বাছাই করে শিবির সন্দেহে ৬৬ জনকে গাড়িতে তুলে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

কোতোয়ালি থানার ওসি জসিম উদ্দিন জানান, চট্টগ্রাম কলেজের শহীদ মিনারে বিজয় দিবসের ফুল দিতে যায় কলেজ ছাত্রলীগ। ছাত্রশিবিরও শহীদ মিনারে আসে। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে শিবিরকর্মীরা ছাত্রলীগ কর্মীদের ধাওয়া দেয়। ধাওয়া খেয়ে ছাত্রলীগ কর্মীরা মহসিন কলেজের সামনে যায়। সেখানে শিবিরকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। পরে ছাত্রলীগ কর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে শিবিরকে ধাওয়া দিলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় শিবির সন্দেহে ৬৬ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

চট্টগ্রাম কলেজ শাখা ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদুল করিম জানান, ফুল দিয়ে শহীদ মিনার থেকে নেমে যাওয়ার সময় কলেজের বাংলা ভবনের ভেতর থেকে শিবিরকর্মীরা আমাদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়ে। আমাদের লক্ষ্য করে শিবিরের সন্ত্রাসীরা গুলিও করে। এ সময় শাওন নামে আমাদের এক কর্মী শিবিরের ইট-পাটকেলের আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন।

উল্লেখ্য, আশির দশকের শুরু পর্যন্ত চট্টগ্রাম কলেজ প্রগতিশীল শক্তির ঘাঁটি ছিল। জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় থাকাকালে ১৯৮১ সালের চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রসংসদের এজিএস ও ছাত্রলীগ নেতা তবারক হোসেনকে শিবিরের ক্যাডাররা নির্মমভাবে হত্যা করে। এরপর এ কলেজেরই ছাত্রাবাসে শিবিরকর্মীরা জবাই করে হত্যা করে ছাত্র ইউনিয়ন কর্মী শাহাদাতকে। ক্যাম্পাসে খুন করার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম কলেজে শিবিরের আবির্ভাব ঘটে। এরপর ১৯৮৪ সালের রাতের আঁধারে হোস্টেলে দু’জন মেধাবী ছাত্রকে জবাই করে খুন করে শিবির। এরপর ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ হয়ে যায়। কলেজ ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত হয় প্রগতিশীল শক্তি। নিয়ন্ত্রণ নেয় শিবির। পাশের হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজও তারা নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর ছাত্রলীগ কিংবা অন্যান্য নিয়মতান্ত্রিক ছাত্র সংগঠনগুলো কখনই আর চট্টগ্রাম কলেজের ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারেনি। তবে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ছাত্রলীগ চট্টগ্রাম কলেজে শাখা কমিটি গঠন করে ক্যাম্পাসে রাজনীতি করার চেষ্টা করলেও বার বার শিবিরের কাছ থেকে বাধা পেয়ে আসছে।

প্রকাশিত : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৫

১৭/১২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: