২২ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৬ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

সর্বত্র ঈদের কেনাকাটা


ঈদের যে আর খুব বেশি দেরী নেই, তা বড় বড় শপিংসেন্টর থেকে শুরু করে ফুটপাতের দিকে তাকালেই বোঝা যায়। সবর্ত্রই উপচে পড়া ভীড়। ক্রেতা-বিক্রেতার দরকষাকষি, হাসাহাসিই জানান দিচ্ছে, এবারে ঈদের বাজার বেশ চাঙা। তিন মাসের মন্দায় ব্যবসায়ীদের চোখের নিচে কালি পড়লেও, এখন সেই চোখগুলো যেন চিকচিক করছে খুশির আমেজে। প্রতিবছরই ঈদে ব্যবসায় রমরমা থাকে, বিশেষ করে পোশাক, জুতো, কসমেটিকস,জুয়েলারীসহ অন্য আরও অনেক ব্যবসায়। ব্যবসায়ীদের চোখে সেসময় খুশির ঝলক দেখা যায়। তবে এবার যেন একটু বেশিই খুশি তারা। এবারের ঈদের বাজার শুধু ব্যবসায়ীদেরই চাঙা করছে না, চাঙা করছে দেশের অর্থনীতিকেও।

পোশাক খাত

ঈদের বাজারে সবচেয়ে বেশি জমজমাট থাকে পোশাকের দোকানগুলো। ঈদকে সামনে রেখে দেশীয় ব্যান্ডগুলো বাজারে এনেছে বিভিন্ন ডিজাইনের সেলোয়ার কামিজ, কুর্তি, শাড়ি ও পাঞ্জাবি। এছাড়াও ক্রেতাদের চাহিদার দিকে লক্ষ্য রেখে তারা বাজারে এনেছে পশ্চিমা ধরনের পোশাক-আশাক। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তারা মিশ্রণ ঘটিয়েছে পশ্চিমা ও দেশীয় পোশাকের। এবার বিক্রেতারা প্রত্যাশা করছেন গত ঈদের চেয়ে এবারের ঈদে ২০%-২৫% বিক্রয় বৃদ্ধি পাবে। ঢাকার নিউমার্কেট, গাউছিয়া, চন্দ্রিমা ও মৌচাক মার্কেটে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষে উপচে পড়ছে। মার্কেটগুলো সাজানো হয়েছে লাল-নীল বাতিতে। এ সব মার্কেটে ছেলেদের ও মেয়েদের জন্য বিভিন্ন ডিজাইনের পোশাক রয়েছে। হিন্দি সিরিয়ালের কিরণমালা নামের পোশাকটির বিক্রি হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। সাত-আটশ টাকা থেকে দশ বারো হাজার টাকারও পোশাক এই মার্কেটগুলোতে বিক্রি হচ্ছে। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ফুটপাতে যে দোকানগুলো বসেছে, সেখানে পোশাকের দাম তুলনামূলক অনেক কম। পঞ্চাশ থেকে শুরু করে পাঁচশ টাকার পোষাক বিক্রি করছে হকাররা নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে। তবে এসব দোকানে মধ্যবিত্তরাও ভীড় করছে। রাজধানীতে বেশ কিছু শপিংসেন্টার শুধু উচ্চবিত্তদের জন্য। এসব মার্কেটে পোশাকের দাম লাখ টাকার ওপরেও আছে।

অনেকেই আবার নিজের পছন্দমতো পোশাক তৈরি করতে চান। এ জন্য তারা ভিড় জমাচ্ছে দর্জিবাড়িগুলোতে। দর্জিবাড়ির দর্জিদের এখন ঘুমানোর সময়ও নেই। অন্যান্য সময়ের চেয়ে পোশাক তৈরিতে টাকা একটু বেশি নিলেও ক্রেতাদের এ নিয়ে কোন অভিযোগ নেই। দেশের সবর্ত্র জেলা ও থানা সদরের মার্কেটগুলোতেও পোষাক বিক্রির ধুম লেগেছে। সব মিলিয়ে আশা করা হচ্ছে, এবার তিন হাজার কোটি টাকার পোশাক বিক্রি হবে।

জুতো

পোশাকের পরই জমজমাট জুতোর দোকানগুলো। জনপ্রিয় ব্যান্ডগুলো বিভিন্ন ডিজাইনের জুতা দিয়ে সাজিয়েছে তাদের দোকান। ঈদকে কেন্দ্র করে দেশীয় জুতোর কারখানার জুতো ছাড়ায় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়েছে বিভিন্ন ডিজাইনের জুতা। জুতো কিনতে ক্রয়ক্ষমতা অনুযায়ী ক্রেতারা বড় বড় শপিংমল থেকে শুরু করে টুকরিতে সাজিয়ে রাখা ফুটপাতের জুতোর দোকানে ভীড় করছে। জুতোর বাজারের চাঙাভাব দেখে আশা করা হচ্ছে, জুতার বাণিজ্যে ছাড়িয়ে যাবে হাজার কোটি টাকা।

খাদ্য

ঈদের উৎসবকে কেন্দ্র করে সকল শ্রেণীর মানুষই তাদের পরিবারে আয়োজন করে নানান ধরনের খাবার। অনেকে আবার প্রোগ্রামের আয়োজনও করে বিভিন্ন হোটেল ও রেস্টুরেন্টে। এ সব প্রোগ্রাম আয়োজন করা হয় নানা ধরনের খাবার দিয়ে। ঈদকে কেন্দ্র করে সফট ড্রিংকস, পোলাওয়ের চাল, মাংস, সেমাই, বিভিন্ন মসলা ও মিষ্টি জাতীয় খাবারের চাহিদা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। এখনও ঈদের কয়েকদিন বাকী। কিন্তু কারওয়ানবাজারসহ বিভিন্ন বাজারে ক্রেতারা এসব খাদ্য সামগ্রী কিনতে ভীড় করছে।

ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাবপত্র

বিক্রি বাড়ছে ইলেকট্রনিক সামগ্রীর দোকানগুলোতেও। ঈদকে কেন্দ্র করে অনেকেই কিনছেন ইলেকট্রনিক্স পণ্য। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন কোম্পানিও দিচ্ছে ডিসকাউন্ট। ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীর মধ্যে সবেচেয় বেশি বিক্রি হচ্ছে মোবাইল, ট্যাব, টিভি, ল্যাপটপ ইত্যাদি।

নিজের ঘরকে নতুন করে সাজাতে অনেকেই অপেক্ষায় থাকেন ঈদের। আর সেই জন্যই ক্রেতাদের ভিড় জমছে আসবাবপত্র বিক্রির দোকানগুলোতে। এছাড়াও বিক্রয় বাড়ছে অন্যান্য আসবাবপত্রের দোকানসমূহ ও ঘর সাজানোর নানা উপকরণের দোকানে।

জুয়েলারি ও কসমেটিক

জুয়েলারি ও কসমেটিক্স দোকানগুলোতে বিক্রয় হচ্ছে নানা ধরনের প্রসাধনী ও গহনা। মেয়েদের ভীড়ই বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তারা গহনা কিনছেন তাদের পোশাকের সঙ্গে ম্যাচ করে; আর নিজেকে সাজানোর জন্য কিনছেন দেশী বিদেশী ব্যান্ডের নানান প্রসাধনী। এছাড়াও ঈদকে কেন্দ্র করে বিক্রয় বেড়েছে স্বর্ণের দোকানগুলোতেও। সাধারণত ঈদের পর বিয়ে অনুষ্ঠান বৃদ্ধি পায় বলে স্বর্ণের গহনার বিক্রয়ও বাড়ছে।

স্যালুন ও পার্লার

ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন স্যালুন ও পার্লারে কাস্টমারদের অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে তারা খ-কালীন লোক নিয়োগ দিচ্ছে। দেশের সব স্যালুন ও পার্লারই ঈদকে কেন্দ্র করে উপচেপড়া ভীড়। ঈদ উপলক্ষে মজুরি ও বোনাস মিলিয়ে তারা বেশ টাকাকড়ি আয় করছে নাপিত, বিউটিশিয়ানরা। অন্যান্য মাসের তুলনায় এ মাসে তারা কয়েকগুণ রোজগার করবে বলে আশা করছেন তারা।

মেলা

ঈদ মৌসুমকে কেন্দ্র করে ঢাকাসহ সারাদেশের বিভিন্ন জায়গায় আয়োজন করা হয়েছে মেলার। এ সব মেলায় পোশাক, জুতো,খেলনা থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় গৃহস্থালী সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে দেদাড়ছে। ঈদের দিনটির জন্য বেশ ব্যস্ত সময় যাচ্ছে খেলনা তৈরির কারখানাগুলোতে।

ঈদকে কেন্দ্র করে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য চাঙা হয়ে উঠেছে। অর্থনীতি ফিরে পেয়েছে প্রাণ। বছরের প্রথম প্রান্তিকে রাজনৈতিক অস্থির অবস্থার কারণে দেশের অর্থনীতিতে যে কালো ছায়া নেমে ছিল, যে স্থবিরতা ভর করেছিল, যে মন্দার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছিল সামষ্টিক অর্থনীতিকে, তা কেটে গেছে রমজান ও ঈদের কল্যাণে। এখন সময় শুধূ সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া।