২৪ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৮ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

নারী পুরুষের বিভাজন সংসদ থেকেই দূর করার আহ্বান এরশাদের


অনলাইন রির্পোটার॥ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ তার স্ত্রী বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, আমার ভুলে অন্য কারও ক্ষমা চাওয়ার অধিকার নেই।

তিনি বলেন, এই সংসদে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে নারী ক্ষমতায়ন বিষয়ে একটি কথা বলেছিলাম। পরে আমি শব্দটি প্রত্যাহার করি। আমার বক্তব্যের পর বিরোধী দলীয় নেতা আমার বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। এটা তার এখতিয়ার বর্হিভূত। এটা তিনি পারেন না। তার বক্তব্যে আমার বক্তব্য সংক্রান্ত যে শব্দগুলো আছে তা প্রত্যাহার করা হোক।

স্পিকারের উদ্দেশে সাবেক রাষ্ট্রপতি বলেন, আমি যে শব্দটি ব্যবহার করেছিলাম ‘আন-পার্লমেন্টারি’ না, তারপরেও আমি প্রত্যাহার করেছিলাম। এরপর কী তা এক্সপাঞ্জ করা যায়? এক্সপাঞ্জ করায় আমি মনে দুঃখ পেয়েছি। কিন্তু কিছু করার নেই। যেহেতু এক্সপাঞ্জ করা হয়েছে আমাকে দুঃখ নিয়েই মরতে হবে।

সোমবার দুপুরে জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এ দাবি করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। তিনি বলেন, সেদিন আমি নারী ক্ষমতায়ন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে একটি শব্দ ব্যবহার করেছিলাম, যা নারী সদস্যরা প্রতিবাদ করেছিলেন। পরে আমি শব্দটি প্রত্যাহার করি। আমি বাজেট বক্তব্যে যে কথাটি বলতে চেয়েছিলাম, সেটা বলতে পারিনি, কারণ মাঝখানে এসে আমার একটি শব্দ সংসদে উপস্থিত মহিলা সদস্যরা পছন্দ করেননি। পছন্দ না করাতে আমি বলতে পারিনি।

তিনি বলেন, আমরা নারীর ক্ষমতায়নের কথা বলি। আমরা প্রায়ই বলি আমাদের জনগোষ্ঠীর অর্ধেক নারী। কিন্তু আমাদের নারীরা কী ক্ষমতা অর্ধেক ভোগ করেন? আমরা কী নারীর নিরাপত্তা দিতে পেরেছি? এখনো বৈষম্য রয়েছে। তারা সমান সুযোগ পাচ্ছেন না। নারী শ্রমিকরা পুরুষের সমান কাজ করেও সমান পারিশ্রমিক পান না। নারীরা নির্যাতনের শিকার হয়, লাঞ্চনার শিকার হয়, পুলিশের কাছে বিচার না পেয়ে আত্মহত্যা করে।

স্পিকারের উদ্দেশে এরশাদ বলেন, আপনি বিদূষী নারী, আপনি স্পিকার হয়েছেন, সিপিএ সভাপতি হয়েছেন। বাংলাদেশের জন্য গৌরব অর্জন করেছেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী নারী-পুরুষের বিভাজনের মধ্যে পড়েন না। বড় কথা তিনি বঙ্গবন্ধুর কন্যা। নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকার ও সমাজের দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, এই সংসদেই ৫০ জন সংরক্ষিত নারী সদস্য রয়েছেন, তারা কি আমাদের সমান সুযোগ পান? পান না। আমরা যে বরাদ্দ পাই তারা তা পায় না। বিভাজন এখানেই। বিভাজন দূর করতে হলে এখান থেকেই করতে হবে।

এ সময় সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীসহ সকল নারী ও পুরুষ সদস্যরা হাসতে থাকেন। অনেক নারী সদস্য তার বক্তব্যে টেবিল চাপড়িয়ে অভিনন্দন জানান।

এর আগে গত ৩০ জুন বাজেট পাসের আগে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে এরশাদ বলেছিলেন, নারীর ক্ষমতার কথা বলা হয়। আসলে নারীরা হলো শোপিস। এরপর তার পাশে বসা বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ তার এই বক্তব্যের জন্য সংসদে দুঃখ প্রকাশ করেন।