মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৯ আশ্বিন ১৪২৪, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

মুসার সম্পদের খোঁজে মাঠে নেমেছে দুদক

প্রকাশিত : ৬ জুলাই ২০১৫, ০২:২৫ পি. এম.

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিতর্কিত ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসেরের দেশীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের খোঁজে প্রথমবারের মতো মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক। এরই অংশ হিসেবে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানসহ ২৪ জায়গায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চিঠি পাঠিয়েছে। তবে দেশী বিদেশী সকল সম্পদের তথ্য পাওয়ার পর দুদক পুরোদমে মাঠে নামবে বলে জানা গেছে। অনুসন্ধান কর্মকর্তা উপ-পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী স্বাক্ষরিত চিঠিগুলো সোমবার সকালে নির্ধারিত ঠিকানায় পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে মুসার সম্পদ সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য জরুরি ভিত্তিতে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে। একইভাবে সুইস ব্যাংকে রাখা অর্থের তথ্য জানতে শিগগির সুইজারল্যান্ড সরকারের কাছে এমএলএআর (মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট) পাঠানো হবে। দুদক সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

গত ৭ জুন মুসার দেশে-বিদেশে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার সম্পদের হিসাব পেশের পর এর মধ্য দিয়ে সম্পদের হিসাব যাচাইয়ের কাজ শুরু হলো। চিঠিতে তার বাড়ি, গাড়ি, জমি, ফ্ল্যাট, ব্যবসায়িক কোম্পানি, ব্যাংকে জমানো টাকা, মেয়াদি আমানত, সঞ্চয়পত্র, বীমা, শেয়ারসহ অন্যান্য সম্পদের তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে। দুর্নীতির সুষ্ঠু অনুসন্ধান ও তদন্তে সরকারি-বেসরকারি যেকোনো প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করতে দুদক আইনে বলা হয়েছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে ওই সব চিঠি পাঠানো হয়েছে। দেশ-বিদেশের সম্পদের হিসাব পাওয়ার পর মুসার লিখিত সম্পদের হিসাবের সঙ্গে তা যাচাই করা হবে। তার দখলে থাকা সম্পদের সঠিক হিসাব পেশ করা হয়েছে কি না, কোনো সম্পদ গোপন করা হয়েছে কি না- এসব তথ্য যাচাই করা হবে বলে জানা গেছে।

মুসার সম্পদের খোঁজে সরকারের যেসব প্রতিষ্ঠান ও দফতরে চিঠি পাঠানো হয়েছে সেগুলো হলো- বাংলাদেশ ব্যাংক, রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ, হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন (এইচবিএফসি), জাতীয় সঞ্চয় পরিদপ্তর, শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা (এসইসি), বীমা নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), জীবন বীমা করপোরেশন, ডাক বিভাগ, রিহ্যাব, ঢাকা সিটি করপোরেশন উত্তর ও দক্ষিণ। এছাড়া জমির হিসাব জানার জন্য ঢাকা জেলাসহ ৮ জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে চিঠি পাঠানো হয়। অন্য জেলাগুলো হলো- গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, পাবনা ও চট্টগ্রাম।

সম্পদ বিবরণীতে বলা হয়, রাজধানীর গুলশানের ৮৪ নম্বর রোডে তার স্ত্রী কানিজ ফাতেমা চৌধুরীর নামে ′দি প্যালেস′ নামের ১৫ নম্বর বাড়িটি বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য একটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে ২০ কোটি টাকা নিয়েছেন। ওই বাড়িটি মুসার নামে ছিল। পরে তিনি তার স্ত্রী কানিজ ফাতেমা চৌধুরীকে বাড়িটি দান করেছেন। এছাড়া গাজীপুর ও সাভারে তার নামে ১২০০ বিঘা জমি রয়েছে। ওইসব জমির দলিল থাকলেও জমিগুলো দখলে নেই। জমিগুলোর দখল ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা চালিয়ে চাচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন। এছাড়া দুদকে জমা দেয়া সম্পদের সকল তথ্যের সঠিকতা যাচাই করবে দুদক।

প্রকাশিত : ৬ জুলাই ২০১৫, ০২:২৫ পি. এম.

০৬/০৭/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: