২৪ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৩ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

হ্যাকার আতঙ্কে মার্কিন সামরিক প্রতিরক্ষা সিস্টেম


সাইবারস্পেস অপারেশন কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালনার জন্য, ২০০৯ সালে ইউএস সাইবার কমান্ড প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বিভিন্ন সামরিক নেটওয়ার্ক নিরাপদে রাখা, জটিল অবকাঠামো সুরক্ষিত রাখা এবং সামরিক অন্যান্য শাখাগুলোর গোপনীয়তা রক্ষা করা খুবই কঠিন। কারণ সাইবার আক্রমণ এত সহজ কিন্তু মারাত্মক যে, যে কোন দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল করে দেয়া এখন মামুলি ব্যাপার মাত্র! গোপন নথি চুরি কিংবা সামরিক সিস্টেমকে জটিল প্রোগ্রামের সহায়তায় এলোমেলো করে দেয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। অবশ্য এ ক্ষেত্রে সমস্ত বাহবার দাবিদার নিশ্চয় দেয়া জেতে পারে এসব দুর্ধর্ষ ও জিনিয়াস হ্যাকারদের! সাইবার এ্যাটাক করার জন্য এডভেসরিস হিসাবে ব্যবহার করা হয় লঞ্চপ্যাড যা অস্ত্রবিহীন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়।

এটা এখন আর কোন গোপনীয় বিষয় নয়, চীনা হ্যাকাররা সফলতার সঙ্গে ‘রিমোট এক্সেস টুলকিটস (র‌্যাটস)’ ব্যবহার করে আমেরিকান প্রতিরক্ষা সিস্টেম কন্ট্রোল করে, সেখানে প্রচারণা শুরু“করেছে। এসব হ্যাকাররা নিয়মিতভাবে বেশ কয়েক মাস বা বছর ধরে এক্সেস স্থাপনা পরিদর্শন করে বিভিন্ন তথ্য চুরিসহ, প্রযুক্তিগত খেয়াল, মালিকানা উৎপাদন প্রক্রিয়া, পরীক্ষার ফলাফল, ব্যবসা পরিকল্পনা, অংশীদারিত্ব চুক্তি এবং রাষ্ট্রীয় ই-মেইল এ্যাকাউন্ট চেকিং করে সামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল করে দিতে পারে।

শুনে আশ্চর্য হওয়ার বিষয় এই যে, মাত্র ১০ মাসে একটি হ্যাকারচক্র একাই একটি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬.৫ টেরাবাইট গোপন নথি চুরি করেছে। আর চাইনিজ হ্যাকাররা তো বরাবরই আমেরিকান ট্রান্সকমের বিপরীতে অবস্থান নিয়ে থাকে। কারণ এই ইউএস ট্রান্সপোটেশন কমান্ডের দায়ীত্বই হলো অস্ত্র আর সামরিক সরঞ্জাম পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে আনানেয়া করা। ট্রান্সকমের বিরুদ্ধে সাইবার আক্রমণ বছর ধরে চালাতে থাকে চাইনিজ হ্যাকাররা।

চাইনিজ ডিফেন্স মিনিস্ট্রি, এফবিআই-এর এক অভিযোগের ব্যাপারে করা আপত্তি জানায় যে, ওয়েব ডটকমের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান রেজিস্ট্রার ডটকমে সাইবার এ্যাটাকের বিষয়ে তাদের কোন ইন্ধন ছিল না।

এদিকে ইউএস মিনিস্ট্রি এক ফ্যাক্স বার্তায় রয়টারের এক প্রশ্নের জবাবে বলেছে যে, চাইনিজ মিলিটারি সরাসরিভাবে অংশগ্রহণ করে ইন্টারনেট হ্যাকিং করেছে। যেখানে বাজান হয় একই রকম পুরনো মিউজিক এবং এটা সম্পূর্ণভাবে তাদের কাছ থেকে অপ্রত্যাশিত।

ফাইন্যানশিয়াল টাইম্সের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হ্যাকাররা মাঝে মাঝে ওয়েব ডটকমের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান রেজিস্ট্রার ডটকমে প্রায় ১ বছর ধরে এক্সেস করেছে, কিন্তু চুরি করা ক্লাইন্টের কোন ডাটা নষ্ট বা প্রকাশ করেনি।

এখনও এটা স্পট নয় যে, চাইনিজ সামরিক বাহিনী কি খুঁজছিল। উল্লেখ্য, রেজিস্ট্রার ডটকম -এর ওয়েবসাইটে প্রায় ২.৫ মিলিয়নেরও অধিক ডোমেইন নেইম, ওয়েব ম্যানেজমেন্ট এবং ডিজাইন সার্ভিস রয়েছে।

এ কথা সত্য যে, প্রতিনিয়তই আমেরিকা এবং চায়না সাইবার এ্যাটাকের জন্য একে অপরকে দোষারোপ করে যাচ্ছে। দেখা যায়, গত বছরে আমেরিকার ৪,৭৬১টি আইপি এ্যাড্রেস চাইনিজরা নিজেদের কন্ট্রোলে রেখেছিল যা কিনা রিমোট কম্পিউটার এক্সেসের মাধ্যমে করা হয়েছিল।

চাইনিজ মিলিটারি একটু জোরেশোরেই বলেছে যে, ইউএসকে অবশ্যই পরিষ্কারভাবে এ বিষয় নিয়ে ব্যাখ্যা দেয়া দরকার।

অন্যদিকে ইউএস সামরিক বাহিনী ধারণা করছে, সাইবার সিস্টেমের ফলে হ্যাকাররা দূরবর্তী অবস্থান থেকে উপগ্রহ নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হবে যা কিনা স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন (ঝধঃপড়স) সিস্টেম দুর্বল করে রাষ্ট্রের অন্যান্য অস্ত্র সরবরাহ এবং সামরিক বিমান ব্যবস্থাপনায় প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়াও জিপিএস ব্যবস্থা হ্যাক করে সামরিক ড্রোন নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

এদিকে আবার ‘ইসলামিক স্ট্রেট’ নামক জঙ্গীগ্রুপের দ্বারা ইউএস সামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বার বার সাইবার আক্রমণের শিকার হচ্ছে বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় বয়ে যাচ্ছে। দ্য ‘সেন্টকম’ টুইটারে বিভিন্ন ছবিসহ মেসেজ ‘ইসলামিক স্ট্রেট’ নামক জঙ্গীগ্রুপের প্রশংসা করে ৩০ মিনিট পর পর দেখা যাচ্ছে। সেই মেসেজে এভাবে লেখা যে, আমেরিকান সোলজারস! উই আর কামিং, ওয়াচ ইউর ব্যাক আইএসআইএস।

চারদিকের হ্যাকারদের এতসব কাণ্ড কেন যে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে, সে প্রশ্নের উত্তর রীতিমতো হাস্যকর! বিভিন্ন দেশে প্রভাব বিস্তার করতে গিয়ে, নিজেরাই অন্যের শিকারে পরিণত হয়েছে। পরবর্তী যুদ্ধ যে সাইবার যুদ্ধ সেটা এরই মধ্যে সবাই অনুমান করতে পারছে।

সূত্র: আইটি ডট কম ডেস্ক