২০ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট পূর্বের ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

ফ্যাশনেবল ব্যাগ


ফ্যাশনের জগতটা এমনি, সব সময় চাই নতুন কিছু যা মানিয়ে নেবে নতুন পরিবেশে। হোক তা, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা অফিসপাড়া। আমরা যে ফ্যাশনের কথা বলছি সেই ফ্যাশনকে ঘিরেই আমাদের দিনাতিপাত। যার মধ্যে থাকে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি উপকরণ-ব্যাগ, যা পুরনোকে ছাপিয়ে বর্তমান সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে স্থান করে নিয়েছে ফ্যাশনেবল, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী থেকে গোটা অফিসপাড়া পর্যন্ত। তবে সব জায়গাতেই ব্যাগের কদর থাকলেও স্থান বা বয়সের তারতম্যেও যেন আলাদা ধাঁচের অথচ ভিন্ন ভিন্ন ডিজাইন, ভিন্ন ধরনের কাপড়ের এমনকি প্রাত্যহিক জীবনে সাজসজ্জার ব্যাগ পাওয়া যায় আধুনিক এই বাজারে। যার রুচি বা বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী উল্লিখিত জায়গায়, মনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যবহার উপযোগী, যা শরীর ও মনের প্রশান্তিকে বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ।

বিভিন্ন ধরনের ফ্যাশনেবল এবং অতি প্রয়োজনীয় ব্যাগ এখন বাজারে পাওয়া যায়। সেগুলো ক্রেতা খুব সহজেই সংগ্রহ করতে পারেন। ব্যাগগুলোর মান, ধরন, ব্যবহারের ক্ষেত্র ইত্যাদি পাঠকের ও ক্রেতার জন্য তুলে ধরা হলো-

বই-খাতা নেয়ার ব্যাগ

বাড়ির ছোট্ট সোনামণি কিংবা স্কুল-কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের জন্য নিত্য ডিজাইনের ব্যাগসমূহ বাজারে পাওয়া যাচ্ছে, যার গুণাগুণ বিচার করে নিজের পছন্দ অনুযায়ী ক্রয় করতে পারেন। বাচ্চাদের ব্যাগ কিনতে আপনি সহজেই কার্টুন বা ফুল দ্বারা আচ্ছাদিত ব্যাগ কিনে সোনামণির মন প্রফুল্ল করে তুলতে পারেন এতে করে সে স্কুলে যেতেও আপত্তি করবে না। এই ব্যাগগুলো বেশ কয়েকটি পকেট দ্বারা তৈরি, ফলে আলাদা করে বই, খাতা বহন করতে পারবে। এগুলো আকারে একটু ছোট বলে বাচ্চাদের কষ্টও কম হবে। বাড়তি সুবিধা পেতে পানির পট নেয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে নতুন এই ব্যাগে।

কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েরা নিজের পছন্দমতো ব্যাগ কিনতে পারবে, যেখানে থাকছে আলাদা রং, ডিজাইন, ২ থেকে ৬টি পর্যন্ত চেনসমৃদ্ধ এই ব্যাগ কাছের বন্ধুদের সহজেই আকৃষ্ট করবে। এ প্রসঙ্গে লেদার ক্রাপ্টের ম্যানেজার মোঃ মোবারক হোসেন বলেন- আমাদের দেশে যে সমস্ত ব্যাগ পাওয়া যায় সেগুলোর গুণগতমান ভাল। পাশাপাশি ব্যাগগুলোর কোয়ালিটিও বেশ। রুচিশীল ছেলেমেয়েরা তাদের মনের সঙ্গে মিলিয়ে বিভিন্ন ডিজাইনের, ভিন্ন রঙের এই সব ব্যাগ ব্যবহার করতে পারবে। একটি বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন- আমাদের দেশে এখন যে সমস্ত ব্যাগ হাতে প্রচলিত তা বিগত দিনের সেই চিরাচরিত অর্থাৎ পুরনো আদলে তৈরি ব্যাগের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা ধাঁচের। ফলে ক্রেতা সাধারণের হাতে আমরা খুব সহজেই তুলে দিতে পারছি। আরও একটি বিষয়Ñ ইদানীং লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, ব্যাগগুলো আকর্ষণীয়ভাবে পার্ট বাই পার্ট তৈরি করার ফলে ডবল কাপড়ের কাজের সমন্বয় ঘটছে। এতে পছন্দের ঐ ব্যাগটি দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায় সাবলীলভাবে।

ক্যামেরার ব্যাগ

বর্তমান সময়ে বিভিন্ন ধরনের দামী ক্যামেরা বহন করতে হয় নিত্যপ্রয়োজনীয় সব কাজের ক্ষেত্রে, যা হাতে কিংবা নরমাল ব্যাগে নেয়া একটু অসাবধানতা ছাড়া কিছু না। আর এই অসাবধানতা দূর করার লক্ষ্য নিয়ে বাজারে এসেছে আধুনিক মানের লেদার ও কাপড়ের তৈরি ক্যামেরা ব্যাগ। এর ধরন অত্যন্ত আকর্ষণীয় যেটা বিভিন্ন সাইজের ক্যামেরার আকার অনুযায়ী তৈরি। এর মধ্যে একটু গোলাকার সাইজ, যা সাধারণ স্কুল-কলেজ ব্যাগের চেয়ে ভিন্ন ধরনের। সঙ্গে থাকছে, ক্যামেরার লেন্স, বডি, ঝুম রাখার জন্য আলাদা, আলাদা কাভার পকেট। ক্যামেরার এই ব্যাগগুলো অবশ্য কিছুদিন আগেও সিনথেটিকসের ওপর তৈরি হতো, যেটা রেকসিন নামেই পরিচিত, যা এখন আর ব্যবহার হয় না বললেই চলে। কারণ রেকসিনের ব্যাগগুলো খুব সহজেই ফেঁসে যার ফলে যে কোন সময় ক্ষতি হতে পারে মূল্যবান ক্যামেরার। আর এই সমস্ত বিপদ থেকে রক্ষা পেতেই মূলত বিভিন্ন ব্যাগ তৈরির প্রতিষ্ঠান বাজারে এনেছে লেদারের তৈরি ক্যামেরা ব্যাগ ও কাপড়ের তৈরি ব্যাগ। বলছিলেন ব্যাগের বিক্রয় প্রতিনিধি মোঃ জাবেদ আলী।

অফিসিয়াল ব্যাগ

অফিসিয়াল ব্যাগের ক্ষেত্রে যে ব্যাগগুলো ব্যবহার উপযোগী বা মানানসই সে সম্পর্কেও মোবারক হোসেন বলেন, অফিসিয়াল ব্যাগের বেলায় কিছু বিষয় অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হয়, যা অফিসের সাধারণ পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাবে।

সচরাচর দেখা যায়, সেমিনারে বিদেশী ব্যাগের পাশাপাশি দেশে তৈরি লেদারের ব্যাগগুলো বেশ মানিয়ে যাচ্ছে। একটু ভিন্নতা আনতে কাপড়ের তৈরি ব্যাগগুলোও অফিসে ব্যবহার করতে পারবেন। যেগুলো ক্যানভাস কাপড়ের ওপর তৈরি করা হয়। তবে সবচেয়ে ভাল হয় লেদারের ব্যাগগুলো ব্যবহার করলে, যা সাম্পূর্ণ দেশীয় কারখানায় তৈরি এবং অগণিত ডিজাইন, আকারের সঙ্গে কয়েকটি কালার সম্পৃদ্ধ করা হয়েছে। আবার লেদারের তৈরি ব্যাগগুলোর বাইরে যে ব্যাগ এ দেশে বেশি চলে তা আসা চীন থেকে এবং এগুলোর মানও ভাল। এগুলো আপনি আপনার চাহিদার সঙ্গে মানিয়ে ক্রয় করতে পারবেন।

ব্যবহারের পার্থক্য

ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটু খেয়াল রাখতে হবে- কোন ধরন বা কোন ডিজাইনের ব্যাগ কোথায় মানিয়ে নেয়া যেতে পারে। যেমন-স্কুল কিংবা কলেজের ছেলেমেয়েরা তাঁদের পাছন্দ অনুযায়ী যে কোন রং বা ডিজাইন সিলেক্ট করতে পারেন যা পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে যাবে। কিন্তু অফিসিয়াল ব্যাগ ব্যবহারের বেলায় বাড়তি খেয়াল-খুশি রাখতে হবে নিশ্চয়ই। যেহেতু অফিসিয়াল ব্যাপার সেক্ষেত্রে খুব বেশি বড় বা খুব ছোট ব্যাগ না হাওয়াই ভাল। আবার কালারের ক্ষেত্রেও নজর রাখা উচিত। বেশি রংসমৃদ্ধ ব্যাগ না ব্যবহার করাই ভাল। সবচেয়ে ভাল হয় কালো, ডিপ কালারের ব্যাগগুলোও মানিয়ে যাবে।

কোথায় পাওয়া যায়

বিভিন্ন ধরনের ব্যাগগুলো ঢাকার বিভিন্ন মার্কেটে পাওয়া যায়। নিউমার্কেট, বায়তুল মোকাররম মার্কেট, শাহবাগ পিজি মার্কেট, চকবাজার, সদরঘাট এবং মিরপুর-১ নম্বর। উল্লেখ্য, শাহবাগের অজিজ সুপার মার্কেটের গোডাউন প্লাজার বাইরে থেকে আসা ব্যাগগুলো পাওয়া যায়, যা ক্রেতা ইচ্ছে করলে দু-একটি সংগ্রহ করতে পারেন। দরদাম-বিভিন্ন ধরনের স্কুল ব্যাগের দাম পড়বে দেশী/বিদেশী অনুপাতে। যেমন দেশী ব্যাগ ৩০০-৫০০ টাকা এবং বিদেশী ব্যাগ পড়বে, ৬০০-১০০০ টাকা পর্যন্ত। কলেজ ব্যাগ দেশীগুলোর দাম পড়বে ৩০০-৫০০, বিদেশী ৭০০-১২০০ টাকা। এছাড়া অফিসিয়াল ব্যাগগুলোর যথাক্রমে দাম পড়বে-দেশী ৩০০-১০০০ টাকা এবং বিদেশী ৬০০ থেকে ২,০০০ টাকা পর্যন্ত।

মডেল: অনিক ও ইফতি

কৃতজ্ঞতা : শ্রীময়ী