হকি আর ব্যাডমিন্টনের কথাও আলাদা করে বলতে হবে
দিন যায় ক্ষণ যায়, সময় কাহারো নয়, বেগে ধায় নাহি রহে স্থির...। দিন-মাস পেরিয়ে ক্যালেন্ডারের পাতা থেকে ঝরে গেল আরও একটি বছর। সমাজ-সংস্কৃতির অন্য অঙ্গনের মতো বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনেও বিদায়ী ২০২৫ সালটা ছিল সাফল্য-ব্যর্থতা, আশা-নিরাশার চাদরে মোড়ানো। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের (ইপিএলে) মতো বিশ্বের অন্যতম সেরা লিগে খেলা হামজা চৌধুরীকে ঘিরে ফুটবলে যেমন প্রাণ ফিরেছে, শমিত সোম, কিউবা মিচেলের মতো প্রবাসী তারকার অন্তর্ভুক্তি দিয়েছে বাড়তি মাত্রা।
এশিয়া কাপ বাছাইয়ে প্রত্যাশা পূরণ না হলেও বছরের শেষদিকে ঢাকায় ভারতকে হারিয়ে প্রায় দুই যুগের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে জামাল ভুঁইয়াররা। মেয়েদের ফুটবলে বছরটা ছিল সাফল্যম-িত। মিয়ানমারে বাছাই পেরিয়ে প্রথমবারের মতো এএফসি এশিয়ান কাপের মূল মঞ্চে জায়গা করে নিয়ে ইতিহাস গড়ে আফঈদা, ঋতুপর্ণারা। এছাড়া ঘরের মাঠে দারুণ নৈপুণ্যে অনূর্ধ্বÑ২০ সাফের শিরোপা জয় করে মেয়েরা। ক্রিকেটে প্রিয় ওয়ানডেতে চরম ব্যর্থ বাংলাদেশ টি২০তে দেখিয়েছে সাফল্যের ঝলক। ছোট্ট ফরম্যাটের ইতিহাসে বিদায়ী বছরেই সবচেয়ে বেশি জয়ের রেকর্ড গড়েছে টাইগাররা। টেস্টে ছিল ভালো-মন্দের মিশেল।
হকি আর ব্যাডমিন্টনের কথাও আলাদা করে বলতে হবে। যে কোনো পর্যায়ের হকিতে প্রথমবারের মতো যুব হকি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশ। ১৭তম স্থান অধিকার করে জিতে নেয় চ্যালেঞ্জার্স কাপ। টুর্নামেন্টে গোলের রেকর্ড গড়েন হকির হামজা খ্যাত আমিরুল ইসলাম। ১৮ নভেম্বর’২০২৫, কানায় কানায় পূর্ণ ঢাকা স্টেডিয়ামের গ্যালারি। কে বলবে আগেই এশিয়া কাপে ওঠার আশা শেষ হয়ে গেছে। শেখ মোরসালিনের একমাত্র গোলে গ্যালারিতে জনসমুদ্রের উত্তাল ঢেউ রাঙিয়ে দুই দশক পর ভারতকে হারায় বাংলাদেশ।
২০০৩ সালে ঢাকায় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে যে আবেগে ভেসেছিল গোটা দেশ; মতিউর মুন্নার গোল্ডেন গোলে ভারতকে হারিয়ে সাফের ফাইনালে উঠেছিল জর্জ কোটানের বাংলাদেশ। এরপর গত ২২ বছরের দুই দলের ১০ সাক্ষাতে বাংলাদেশ একটি ম্যাচও জেতেনিÑ৬ ড্র, ৪ হার। প্রায় দুই যুগ পর আবার ভারতকে হারাতে পারে লাল-সবুজের দল। সেদিক থেকে এই জয়ের মাহাত্ম্য অনেক। আর দশটা জয় থেকে পুরোপুরি আলাদা, যেখানে মিশে আছে গর্ব, অপেক্ষা ফুরোনোর তৃপ্তিও। এমন উৎসবের রাতেই আরেকবার আলোয় ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া, লেস্টার সিটির হয়ে এফএ কাপ জেতা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী।
শিলংয়ে এই ভারতের বিরুদ্ধে দারুণ পারফরম্যান্সে লাল-সবুজের জার্সিতে অভিষেক, ঢাকায় দ্বিতীয় ম্যাচেই গোলÑ তারপর হামজা বাংলাদেশ দলের শক্তির নিয়মিত উৎস। ভুটানের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে দুর্দান্ত হেড, হংকং চায়নার বিপক্ষে ফ্রি কিক, নেপালের বিপক্ষে পেনাল্টি ও অবিস্মরণীয় বাইসাইকেল কিকে গোল। প্রতিটি গোলেই নতুন করে স্বপ্ন দেখানো। হামজা যেন এসেছেন নতুন আলো হয়ে।
শুধু ‘পোস্টার বয়’ হামজা নন, জাতীয় দলে প্রবাসী ফুটবলার সাতজনÑ জামাল ভূঁইয়া, তারিক কাজী, কাজেম শাহ, হামজা চৌধুরী, ফাহামিদুল ইসলাম, শমিত সোম এবং সর্বশেষ যোগ দিয়েছেন কিউবা মিচেল। তাঁদের আগমন এক নতুন সম্ভাবনার আভাস নিঃসন্দেহে। আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে এই বাংলাদেশ প্রতিপক্ষের কাছ থেকে বাড়তি সমীহ পাচ্ছে। এটিকে বাংলাদেশে ফুটবল– বিপ্লবের পূর্ণতা দেওয়ার প্রথম পদক্ষেপ বলছেন অনেকে। বাংলাদেশ নিজেদের শক্তিটা দেখিয়েছে। মানুষের মধ্যে এই আত্মবিশ্বাস ছড়িয়ে দিতে পেরেছে যে আরও কিছুটা সামনে এগোনো সম্ভব।
তবে এটা জানা যে এই বাংলাদেশ লড়াকুÑযারা গোল করে ৭৯ মিনিট তা ধরে রাখার দৃঢ়তা দেখাতে পারে। এই বাংলাদেশের খেলা দেখতে মাঠে ছোটেন দর্শক। কালোবাজারিতে ৬০০ টাকার টিকিট বিক্রি হয় ২-৩ হাজার টাকায়। যারা কখনো ফুটবল দেখতেন না, তাদের কাছেও ফুটবল এখন বেশ আকর্ষণীয়। ঢাকার রাস্তায় ফুটবল জনতার মিছিল হচ্ছে। ভারত ম্যাচের আগে স্টেডিয়াম এলাকায় তেমন মিছিল মুগ্ধতা ছড়িয়েছে। অনেক নারী দর্শক মাঠে যাচ্ছেন ফুটবল দেখতে। সবার মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা, স্বপ্ন আর বিশ্বাস; বাংলাদেশ পারবে। এই বিশ্বাসটাই যে ফিরে এসেছে, এটাই ফুটবলের নবজাগরণ, এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা।
আফঈদা খন্দকার, ঋতুপর্ণা চাকমাদের কথা বলতে হবে বিশেষ ভাবে। বাংলাদেশ পুরুষদের জাতীয় দল যেখানে ১৯৭৩ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলে যাত্রা শুরু করেছিল, সেখানে নারী দল অপেক্ষা করেছে আরও ৩৭ বছর। ২০১০ সালের জানুয়ারিতে ঢাকায় সাফ নারী ফুটবলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পা-রেখেছে বাংলাদেশ। কিন্তু ছেলেদের চেয়ে অনেক দেরিতে সূচনার পরও নারীরা যা করেছেন, তা সোনালি অক্ষরে লেখার মতো। দীর্ঘদিন ধরে পুরুষ ফুটবলের অর্জনের খাতা যদি হয় বিবর্ণ, নারীদের খাতা অনেক উজ্জ্বল।
অল্প সময় আর সীমিত সুযোগের পরও বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল পুরুষদের চেয়ে কতটা এগিয়ে গেছে, তা পরিসংখ্যানই বলে দেয়। ২০১০ সালে শুরুর পর ২০২৫ সালের এই জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশ নারী দল খেলেছে ফিফা-স্বীকৃত ৭০টি ম্যাচ। এর মধ্যে জয় এসেছে ২৮টিতে। জয়ের হার শতকরা ৪০। হার ৩১টি, ড্র ১১টি। অন্যদিকে ২০১০-২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত ১৫ বছরে পুরুষ দল খেলেছে ১২৭টি ফিফা-স্বীকৃত ম্যাচ। জয় মাত্র ৩৫টি। শতকরা জয়ের হার ২৭। হার ৬২টি, ড্র ৩০টি। গত বছর জুনের প্রথম সপ্তাহে ইয়াঙ্গুনের থুন্না স্টেডিয়ামে বাহরাইনাকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর নারী ফুটবলে এই অঞ্চলের অন্যতম পরাশক্তি মিয়ানমারকে ২-১ গোলে হারিয়ে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপের মুল মঞ্চে জায়গা করে নিয়েছে আফঈদার দল।
জোড়া গোলে ম্যাচটা স্মরনীয় করে রেখেছেন ঋতুপর্ণা। ১৯৮০ সালে বাংলাদেশ পুরুষ ফুটবল দল প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপ খেলেছিল। এরপর আর কখনো বাংলাদেশের কোনো জাতীয় দল এশিয়া কাপে খেলতে পারেনি। নারী ফুটবল দলের এই অর্জন দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল বয়ে আনবে বলে সবার বিশ্বাস। ২০১৮ সালে অলিম্পিক বাছাইপর্বে ৫-০ গোলে মিয়ানমারের কাছে হেরেছিল বাংলাদেশ। তবে সেসব পরিসংখ্যান পেছনে ফেলেছে আফঈদার নেতৃত্বাধীন দলটি। নারী ফুটবল দলের এই অর্জন দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল বয়ে আনবে। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে মিয়ানমার ৫৫তম স্থানে, বাংলাদেশ ১২৮ নম্বরে। অর্থাৎ দুই দলের মধ্যে র্যাঙ্কিংয়ের ব্যবধান ৭৩ ধাপ।
এর আগে এই মাঠেই ২০১৮ সালে অলিম্পিক বাছাইপর্বে ৫-০ গোলে মিয়ানমারের কাছে হেরেছিল বাংলাদেশ। তবে সেসব পরিসংখ্যান পেছনে ফেলেছেন আফঈদা, ঋতুপর্ণারা। আগামী মার্চে অস্ট্রেলিয়াতে অনুষ্ঠিত হবে এশিয়ান কাপের মূল আসর। এই আসরের চূড়ান্ত পর্ব কাজ করবে বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব হিসেবেও। মেয়েদের এশিয়ান কাপ প্রথম শুরু হয় ১৯৭৫ সালে। এরপর ২০২২ সাল পর্যন্ত প্রথম ২০ আসরে খেলেছে ২২টি দল। ক্রিকেটে ওয়ানডেতে দুঃস্বপ্নের বিদায়ী বছরে সেরা সাফল্য এসেছে টি২০তে। ২০২৫ সালে টি২০ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ৩০ ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি সর্বোচ্চ ১৫ ম্যাচ জয়ের রেকর্ডও গড়েছে টাইগাররা। নতুন বছরে বিশ্বকাপের আগে টি২০তে এমন রেকর্ড দলকে উজ্জীবিত করবে নিশ্চয়ই। পারফরম্যান্সের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল- ছক্কা মারায় পারদর্শিতা দেখানো।
প্রথমবারের মতো এক বছরে ২শ ছক্কার মারার নজির গড়েছে তারা। বছরে ২০৬টি ছক্কা মেরেছে বাংলাদেশের ব্যাটাররা। এর আগে ২০২৩ সালে সর্বোচ্চ ১২২টি ছক্কা হাঁকিয়েছিল লিটন-হৃদয়-ইমন-জাকেররা। টেস্টে বিদায়ী বছরে ৬ ম্যাচ খেলে জয় ৩টিতে, সাফল্য ৫০ শতাংশ, নিশ্চয়ই মন্দ নয়। এক সময়েল প্রিয় ফরম্যাট ওয়ানডেতে ১১ ম্যাচ খেলে ৮টিতেই হেরেছে বাংলাদেশ! হেরেছে একের পর এক সিরিজ।
না, চ্যাম্পিয়ন হয়নি, ওঠেনি কোয়ার্টার কিংবা সেমিতে। তবে যে কোনো পর্যায়ের হকিতে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে অনূর্ধ্ব-২১ হকি দল যা করে দেখিয়েছে সেটিকে স্মরণীয় বলতেই হবে। গ্রুপ-পর্বে জয় না পেলেও স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ওমানকে ১৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এর পরের ম্যাচে শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়াকেও হারিয়েছে জয়-আমিরুলরা। নিয়মিত বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দেশটি একবার সেমিতেও খেলেছিল। সবশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে ৫-৪ গোলে হারিয়ে ২৪ দলের বিশ্বমঞ্চে ১৭তম স্থানে থেকে জুনিয়র হকি বিশ্বকাপের চ্যালেঞ্জার ট্রফি জিতেছে যুবারা। ভারতের চেন্নাই ও মাদুরাই শহরে অনুষ্ঠিত শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স করেছেন আমিরুল ইসলাম।
পাঁচ ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে ইতিহাস গড়েছেন ফরিদপুর থেকে উঠে আসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ তুর্কি এ হকি খেলোয়াড়। করেছেন আসরের সর্বোচ্চ ১৮ গোল। ‘জীবনের প্রায় সায়াহ্নে এসে দারুণ এক মুহূর্তের সাক্ষী হলাম। বাংলাদেশ শুধু প্রথমবার হকির বিশ্বকাপেই খেলেনি। ছেলেরা এটা প্রমাণ করেছে তারা পারে। এটা সম্ভব হয়েছে ছেলেদের পারফরম্যান্স, ফেডারেশনের পরিকল্পনা ও কোচিং স্টাফদের পরিশ্রমের কারণেই।’ বলছিলেন যুবাদের ম্যানেজার ও সাবেক কোচ কাওসার আলী। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৫-৩ গোলে হারে বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে তিনটি গোলই ছিল আমিরুলের। পরের ম্যাচেও দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেন তিনি। ম্যাচটি বাংলাদেশ ড্র করে ৩-৩ ব্যবধানে।
এরপর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সাবেক ফাইনালিস্ট ফ্রান্সের বিপক্ষে আরও একবার লড়াই করে ৩-২ গোলে হারে বাংলাদেশ। দুই বছর হয়ে গেল বাংলাদেশে লিগ হয় না। ডাচ কোচ সিগফ্রাইড আইকম্যানের সঙ্গেও প্র্যাকটিসের সুযোগটা হয়েছে মাত্র ৩-৪ মাসের। তারপরও ভারতে নিজেদের অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন যুবারা। এমন সাফল্যের পর তাদের পুরস্কৃত করা উচিত বলে মনে করেন কিংবদন্তি সাবেক হকি খেলোয়াড় রফিকুল ইসলাম কামাল। বাংলাদেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় খেলা হকি। বিশ্বকাপ পর্যায়ে খেলার সামর্থ্য বাংলাদেশ হকির রয়েছে।
সামর্থ্য থাকলেও পরিকল্পনা-সাধ্য ও বাস্তবায়ন নানা বিষয় মিলিয়ে এতদিন স্বপ্নই ছিল। গত ডিসেম্বরে ওমানের মাসকাটে অনূর্ধ্ব-২১ থাইল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো যুব হকি বিশ্বকাপ খেলা নিশ্চিত করে। ২০১৭ যুব অলিম্পিকে বাংলাদেশ ফাইভ এ সাইড হকিতে খেলেছিল। ১৯৭৭ সাল থেকে যুব হকি খেলা বাংলাদেশের কখনই বিশ্বকাপ খেলা হয়নি। ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশের হয়ে প্রথম যুব বিশ্বকাপ বাছাই খেলা দলের অধিনায়ক হাসান ইমাম চৌধুরী সান্টা বলেন, ‘১৯৭৭ সালে মালয়েশিয়ায় আমরা এশিয়ার ১২ দলের মধ্যে পঞ্চম হয়েছিলাম। চতুর্থ হলে পরের বছর প্যারিসে যুব বিশ্বকাপ খেলতে পারতাম। আমরা না পারলেও চার যুগ পর বাংলাদেশ যুব বিশ্বকাপে প্রথম সুযোগেই যা করেছে, আমি ভীষণ গর্বিত।’
আশি-নব্বই দশকে বাংলাদেশের কয়েকজন খেলোয়াড় ছিলেন এশিয়ান মানের। জুম্মন লুসাই, রফিকুল ইসলাম কামাল, মামুনুর রশীদদের সময়ে বাংলাদেশ যুব বিশ্বকাপ খেলতে পারেনি। এর কারণ সম্পর্কে কামাল বলেন, ‘আমরা ১৯৯৬ সালে খুব ভালো দল ছিলাম। যুব এশিয়া কাপের সেমিফাইনাল হেরে বিশ্বকাপ মিস করি। সেই সময় বিশ্বকাপে এশিয়ার কোটা কম ছিল, আবার প্রতিদ্বন্দ্বিতাও ছিল একটু বেশি। অনূর্ধ্ব-২১ দলের হাত ধরে বাংলাদেশ শুধু প্রথমবারের মতো হকির বিশ্বকাপেই খেলেনি, স্থান নির্ধারণী ‘চ্যালেঞ্জার ট্রফি’ জিতে জয়-আমিরুলরা প্রমাণ করেছে তারাও পারে, সমর্থকদের চাওয়া, শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে যুবাদের সাফল্যে নতুন করে জেগে উঠবে দেশের হকি।
সর্বশেষ গত সপ্তাহে ব্যাডমিন্টন দেখিয়েছে আশার আলো। প্রথমবার কোনা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের ফাইনালে ওঠে আগেই ইতিহাসে গড়েন আল আমিন জুমার-ঊর্মি আক্তার জুটি। তবে ইউনেক্স-সানরাইজ বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল চ্যালেঞ্জ ২০২৫Ñএ স্বর্ণ জিততে পারেননি। মিশ্র দ্বৈতের ফাইনালে মালয়েশিয়ান জুটির কাছে হেরে গেছেন তারা। ব্যাডমিন্টনের মতো টেকনিক্যাল ও ব্যয়বহুল খেলায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে ভালো করা প্রায় অসম্ভব মনে করেন জুমার।
তাই পৃষ্ঠপোষকদের এগিয়ে আসা উচিত, ‘আমাদের অনুশীলনের অভাব তো আছেই। এক বক্স শাটলের দাম এখন ৬০০০ টাকা, যা দিয়ে বড়জোর ২-৩ দিন অনুশীলন করা যায়। এত ব্যয়বহুল খেলায় একা ট্রেনিং চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।’ মিশ্র দ্বৈতে আশার সঞ্চার করা ঊর্মিরও প্রায় একই মত। চান দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও ধারাবাহিক অনুশীলন।
প্যানেল হু








