ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩

জুনে রপ্তানি আয় বেড়েছে প্রায় ২৬ শতাংশ

প্রকাশিত: ২০:২৪, ২ জুলাই ২০২৬

জুনে রপ্তানি আয় বেড়েছে প্রায় ২৬ শতাংশ

চলতি বছরের জুন মাসে দেশের পণ্য রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ভূরাজনৈতিক চাপের মধ্যেও বিভিন্ন খাতে প্রবৃদ্ধির ফলে এ সাফল্য এসেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়, ২০২৬ সালের জুন মাসে বাংলাদেশ পণ্য রপ্তানি থেকে আয় করেছে ৪২০ কোটি মার্কিন ডলার, যা ২০২৫ সালের একই সময়ের ৩৩৪ কোটি ডলারের তুলনায় প্রায় ২৫ দশমিক ৯১ শতাংশ বেশি।

তবে সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পুরো হিসাব বিবেচনায় মোট রপ্তানি আয় কিছুটা কমেছে। এ সময়ে দেশের মোট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮০০ কোটি মার্কিন ডলার, যেখানে আগের অর্থবছরে এ আয় ছিল ৪ হাজার ৮২৮ কোটি ডলার।

ইপিবির মতে, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি, সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং প্রধান রপ্তানি বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ার মতো প্রতিকূলতার মধ্যেও প্রায় সমপর্যায়ের রপ্তানি আয় ধরে রাখা দেশের রপ্তানি খাতের সক্ষমতা ও অভিযোজন ক্ষমতার প্রতিফলন।

খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক জুন মাসে ৩৩৯ কোটি মার্কিন ডলার আয় করেছে, যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ২১ দশমিক ৫২ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে নিট পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১৯ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং ওভেন পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ২৪ দশমিক ২ শতাংশ। পুরো অর্থবছরে এ খাত থেকে মোট রপ্তানি আয় হয়েছে ৩ হাজার ৮৭০ কোটি ডলার।

অন্যান্য খাতেও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। জুন মাসে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে ৪৭ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং পুরো অর্থবছরে এ খাত থেকে আয় হয়েছে ১২৩ কোটি ডলার। পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি জুনে বেড়েছে ৭৬ দশমিক ৬ শতাংশ, আর অর্থবছরজুড়ে আয় দাঁড়িয়েছে ৮৮ কোটি ডলারের বেশি।

এছাড়া হোম টেক্সটাইল খাতে জুনে ৫৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ এবং পুরো বছরে ৬ দশমিক ৫২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি জুনে বেড়েছে ৪৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ এবং অর্থবছরে ২১ দশমিক ৭৭ শতাংশ। কৃষিপণ্যের রপ্তানিও জুন মাসে ৪৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

দেশভিত্তিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র, যেখানে ৯০৫ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে—যা আগের বছরের তুলনায় ৪ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। জার্মানি ও যুক্তরাজ্য যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বৃহত্তম বাজার হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। জুন মাসে শীর্ষ ২০টি রপ্তানি গন্তব্যেই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো আশা করছে, পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি আরও জোরদার হবে এবং তা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

×