ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

অব্যবস্থাপনায় সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে ॥ ফখরুল 

উপজেলা নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা বিএনপির

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২২:৫৭, ১৬ এপ্রিল ২০২৪

উপজেলা নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা বিএনপির

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

উপজেলা নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। সোমবার রাতে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয় বলে মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপির মুখপাত্র ও দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান। এদিকে এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকারের অব্যবস্থাপনায় দেশে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রিজভী বলেন, বিএনপি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ও তার সাজানো নির্বাচন কমিশনের অধীনে এবং প্রশাসন ও পুলিশের প্রকাশ্য একপেশে ভূমিকার জন্য ইতোপূর্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন বর্জন করেছে। এখনো সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়নি। বিদ্যমান অরাজক পরিস্থিতি আরও অবনতিশীল হওয়ায় আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার যৌক্তিক কারণ রয়েছে।
রিজভী বলেন, বর্তমান সরকার ভোট, সংবিধান, ভিন্নমত প্রকাশ, বহুদলের অংশগ্রহণে নির্বাচনসহ মানুষের সহজাত অধিকারগুলোকে নির্দয় দমনের কষাঘাতে বিপর্যস্ত করেছে। আওয়ামী লীগের রাজনীতির একমাত্র ভিত্তি হচ্ছে মানুষকে ভয় দেখিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখা। তাই সহিংস সন্ত্রাসের ব্যাপক বিস্তারের ফলে এ সরকারের অপরাজনীতি ও নির্বাচনী প্রহসনের অংশীদার না হওয়ার বিষয়ে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বিএনপি ৮ মে থেকে শুরু হওয়া সকল ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বর্জন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিএনপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থায়ী কমিটির বৈঠকে চার ধাপে উপজেলা পরিষদের নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি যারা প্রতিটি ক্ষেত্রে জনগণের কাছে জবাবদিহি করে সেই নির্বাচন গণতন্ত্রের অপরিহার্য শর্ত। এই শর্তের অনুপস্থিতিতে স্বৈরতন্ত্র হিংস্ররূপে আত্মপ্রকাশ করে। বর্তমানে দেশে এক বিকট স্বৈরাচারের অভ্যুদয় হয়েছে। 
রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগ শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতাসীন হয়ে দেড় দশক ধরে অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও সবার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বাংলাদেশ থেকে উচ্ছেদ করেছে। এদের আমলে কখনোই জাতীয় ও স্থানীয় সরকার কোনো নির্বাচনই অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি। জনগণের ভোটের তোয়াক্কা না করে ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীদেরই আজ্ঞাবাহী নির্বাচন কমিশন বিজয়ী ঘোষণা করে। শাসকগোষ্ঠী প্রতিটি নির্বাচনের পূর্বে জনগণকে প্রতারিত করার জন্য নতুন নতুন রণকৌশল গ্রহণ করে।
রিজভী বলেন, প্রাণবন্ত গণতন্ত্রে নিরপেক্ষ নির্বাচনের সংস্কৃতি আওয়ামী লীগ কখনোই রপ্ত করেনি। ক্ষমতাসীনদের অধীনে সকল জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী বিরোধী দলের প্রার্থীদের নানাভাবে হামলা, মামলা ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। মনোনয়নপত্র তোলা, জমা দেওয়া এবং নির্বাচনী প্রচারকালে হামলা ও শারীরিক আক্রমণসহ পথে পথে বাধা দেওয়া হয়। অনেককে মনোনয়নপত্র জমা দিতেও দেওয়া হয়নি।
রিজভী স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অগণতান্ত্রিক শক্তি কখনো অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের মিত্র হতে পারে না। আওয়ামী লীগ শাসকগোষ্ঠী ভোটারবিহীন ৭ জানুয়ারির ডামি নির্বাচনের সব আয়োজন সম্পন্ন করার পরও তারা আশঙ্কামুক্ত হতে পারেনি। তাই নির্বাচনী পর্যবেক্ষকদেরও নির্বাচন পর্যবেক্ষণের সুযোগ না দেওয়া, ইন্টারনেটের গতি শ্লথ করা, নাগরিকদের নজরদারি নস্যাৎ ইত্যাদি নজিরবিহীন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন বিনাশী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

এর আগেও জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিরোধী দলের পোলিং এজেন্টদের নানাভাবে বাধা দেওয়া হয়েছে। কিছু এজেন্টকে ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হলেও পরক্ষণেই তাদের বের করে দেওয়া হয়।
সারা দেশে নেতাকর্মীদের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতনের কথা তুলে ধরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এরা একতরফা নির্বাচন করতে গিয়ে বিএনপিসহ গণতন্ত্রমনা দলগুলোর হাজার হাজার নেতাকর্মীকে কারাগারে ভরে রাখে। ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ ২৫ হাজারেরও বেশি নেতাকর্মীকে কারান্তরীণ করা হয়, এদের অনেকেই এখনো কারাগারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এমতাবস্থায় বিএনপি উপজেলা নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয়।
সড়কে হতাহতে ফখরুলের ক্ষোভ ॥ এদিকে বিভিন্ন এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমানে সড়ক দুর্ঘটনা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। সরকারের অব্যবস্থাপনায় দেশে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে। তিনি বলেন, ফরিদপুরে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩ জনের প্রাণহানি খুবই হৃদয়বিদারক ও মর্মস্পর্শী। দেশব্যাপী প্রায় প্রতিদিনই সড়ক দুর্ঘটনায় যারা প্রাণ হারাচ্ছে ও আহত হচ্ছে তাদের স্বজনদের মতো আমিও গভীরভাবে ব্যথিত ও শোকাহত। সরকারের চরম উদাসীনতার কারণেই সড়ক দুর্ঘটনার মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিএনপি মহাসচিব তার দেওয়া বিবৃতিতে নিহতদের পরিবার-পরিজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং সারাদেশে প্রতিনিয়ত এ ধরনের দুর্ঘটনায় মানুষের হতাহতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এদিকে সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত বিএনপির ভার্চুয়াল প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বান্দরবান জেলায় কেএনএফ (কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট) এর হামলা, ব্যাংক ও অস্ত্র লুট এবং পার্বত্য এলাকায় বিরাট অংশে তাদের স্বায়ত্তশাসন দাবি নিয়ে আলোচনা করেছে বিএনপির স্থায়ী কমিটি। দলটি মনে করে, এ ধরনের দাবি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত। ব্যাংক থেকে এই সংগঠনটির অর্থ ও অস্ত্র লুট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটি মনে করে, সরকার এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য দেয়নি, যা জনমনে আরও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটি মনে করে, ‘বিডিআর হত্যাকা-, সীমান্তে বাংলাদেশী নাগরিকদের হত্যা এবং এই ধরনের আক্রমণের ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটা বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণœœ করার একটি পরিকল্পিত চক্রান্ত। সরকারের সীমাহীন ব্যর্থতার কারণে আজ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হয়ে পড়ছে।’  
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিএনপির স্থায়ী কমিটি মনে করে, ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইসরাইল থেকে দুটি কার্গো বিমানের অবতরণ সর্বমহলে উদ্বেগ ও সমালোচনার সৃষ্টি করেছে। ইসরাইলের সঙ্গে বাংলাদেশে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কোনো চুক্তি না থাকার পরও বিমানগুলো তেলআবিব থেকে ঢাকা বিমানবন্দরে সরাসরি অবতরণ করে এবং তা নিয়ে পরবর্তীকালে বেবিচকের দেওয়া বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়।

বেবিচকের দাবি অনুযায়ী বাংলাদেশের গার্মেন্টস সামগ্রী ইউরোপে পরিবহনের বিষয়টি বিজেএমইএ অস্বীকার করায় জনমনে আরও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। যখন ইসরাইল কর্তৃক গাজায় ভয়াবহ আক্রমণ, ফিলিস্তিনিদের নির্বিচারে হত্যা নিয়ে সারা বিশ্বে নিন্দার ঝড় বইছে, সেই সময় ইসরাইল থেকে ঢাকায় বিমান অবতরণ রহস্যের সৃষ্টি করেছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটি অবিলম্বে এই বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি জানায়।

×