ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১

সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল

সরকার নির্বাচনী মাঠ থেকে বিরোধী দল সরিয়ে দিতে চায়

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২৩:৩৭, ৩১ মে ২০২৩

সরকার নির্বাচনী মাঠ থেকে বিরোধী দল সরিয়ে দিতে চায়

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

নির্বাচনী মাঠ থেকে সরকার বিরোধী দল সরিয়ে দিতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এককভাবে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার জন্যই সরকার মহাপরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছে। বুধবার দুপুরে নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। এর আগে জাতীয় প্রেসক্লাবে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশ) সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা এখন অত্যন্ত সংকটময় মুহূর্ত অতিক্রম করছি।  
ফখরুল বলেন, বর্তমান সরকারের উদ্দেশ্য  অত্যন্ত পরিষ্কার। আর তা হলো বিরোধী দলের নেতাদের যদি আটক করে ফেলা যায়, সাজা দিয়ে দেওয়া যায় তাহলে আর নির্বাচন করতে পারবে না। আমাদের কানে এসেছে যে, প্রায় সাড়ে ১৩শ’ মামলা চিহ্নিত করা হয়েছে, যে মামলাগুলো নির্বাচনের পূর্বেই তারা শুনানি করে সব শেষ করে নেতাদের সাজা দিয়ে দেবে। প্রত্যেকটি মামলার আসামি হচ্ছেন বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতারা। বিএনপির সিনিয়র নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা করে গোটা দেশে ভয়, ত্রাস ও   নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চায় সরকার। 
বিএনপি মহাসচিব বলেন, মৃত্যু যখন ঘনিয়ে আসে, যখন আর কোনো আশা থাকে না তখন অনেকেই চেষ্টা করেন কোনো রকমে কোনো কিছু ধরে যদি টিকে থাকা যায়। আজকে বিরোধী দলের নেতাদের সাজা দেয়ার যে রায় হচ্ছে, তা হচ্ছে দেশের রাজনীতিকে একেবারে তিরোহিত করা, বিরাজনীতিকরণ করা, রাজনীতিবিদদের রাজনীতির মাঠ থেকে দূরে সরিয়ে আবার এককভাবে নির্বাচনে পার হয়ে যাওয়া।
ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ সংবিধান অনুযায়ী একদম একা খেলার মাঠে খেলবে আর গোল দিয়ে যাবে। যেটাকে আমরা বলি যে, প্রতিপক্ষ কেউ থাকবে না। ওই লক্ষ্যেই তারা এগোচ্ছে। তিনি বলেন, জনগণ জেগে উঠেছে, জনগণের উত্থানের মধ্য দিয়ে এ সরকারকে সরে যেতে হবে, পরাজিত হতে হবে। পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া দেশে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হওয়া সম্ভব নয়।
ফখরুল বলেন, দুদক আয় বহির্ভূত মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জোবায়দা রহমানের বিরুদ্ধে মামলার শুনানি এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান ও তার সহধর্মিণী সাবেরা আমানকে সাজা প্রদানের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তিনি বলেন, আদালতে আমাদের আইনজীবীরা নেতাদের বিরুদ্ধে মামলার রায়ের বিষয়ে কথা বলতে চেয়েছিলেন তাদের সেখানে শুধু বলতেই দেয়া হয়নি তা নয়, তাদের ওপর সরকারি দলের আইনজীবীরা আক্রমণ করেছে, তাদের জখম করেছে, এমনকি পুলিশ সেখানে বেআইনিভাবে প্রবেশ করে তাদের ওপর নির্যাতন করেছে। এরপরেও আমরা কিভাবে বলব, দেশে গণতান্ত্রিক নির্বাচন হওয়ার সুযোগ আছে? কিভাবে বলব বিরোধী দলের রাজনীতি করার ও দেশের মানুষের ভোট দেয়ার অধিকার আছে? 
মির্জা ফখরুল বলেন, পরিষ্কার বলতে চাই, মামলা-মোকাদ্দমা দিয়ে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাওয়ার যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের যে আন্দোলন শুরু হয়েছে তা বন্ধ করা যাবে না। তাই সরকারকে বলছি এখনো সময় আছে, এই সমস্ত খেলাধুলা বাদ দেন সোজা পথ ধরেন এবং একটা নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্ত করে দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, আবদুল আউয়াল মিন্টু, শামসুজ্জামান দুদু, নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, সিনিয়র যুগ্ম  মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, দলের নেতা শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু প্রমুখ। 
এর আগে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় ফখরুল বলেন, দেশে গণতন্ত্র নেই, মুক্ত সাংবাদিকতা নেই, ভিন্নমত সহ্য করার মতো সরকারের মানসিকতা নেই। তারা তাদের ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার জন্য, একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করার জন্য বল প্রয়োগ করে মানুষের ভিন্নমত পোষণ করা অধিকার, ভোটের অধিকার, বেঁচে থাকার অধিকার ক্ষুণœ করছে। 
বিএনপি মহাসচিব বলেন, প্রতিবাদ না করলে, সোচ্চার  না হলে এবং রুখে না দাঁড়ালে কখনো দাবি আদায় করা যায় না। সরকার সব সময় জনগণকে ভ্রান্ত পথে পরিচালিত করতে চায়।  তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যেখানে জবাবদিহিতা থাকবে, দায় থাকবে।

×