ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ২৬ জুন ২০২৪, ১৩ আষাঢ় ১৪৩১

জিয়ার মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ফখরুল 

নেতাদের সাজা দিয়ে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২৩:৪৪, ৩০ মে ২০২৩

নেতাদের সাজা দিয়ে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বিএনপি নেতাদের সাজা দিয়ে চলমান আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না বলে সরকারকে উদ্দেশ্য করে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় শেরেবাংলানগরে সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের নিয়ে তার মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। জিয়ার মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের সিনিয়র নেতারা রাজধানীর ৫৭টি স্পটে দুঃস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করেন। 
ফখরুল বলেন, সরকার দেশের জনগণকে গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে দূরে রাখা, রাজনীতি থেকে দূরে রাখা এবং সত্যিকার অর্থে  দেশে যেন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন না হতে পারে সে জন্য আবার একদলীয় নির্বাচন চায়। সেই লক্ষ্যে সরকার এসব কাজ করছে। কিন্তু এবার জনগণ এটা করতে দেবে না। এসব ঘটনা থেকে পরিষ্কার হয়ে গেল বর্তমান সরকারের কোনো রকমের শুভ বুদ্ধির উদয় হওয়ার সম্ভাবনা নেই। একমাত্র জনগণের উত্তাল আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই সরকারকে পরাজিত করেই আইনের শাসন, গণতন্ত্রের শাসন,গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং সুষ্ঠু নির্বাচন ফেরত আনতে হবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া এখনো গণতন্ত্রের জন্য গৃহে অন্তরীণ হয়ে আছেন, তারেক রহমান নির্বাসিত হয়ে আছেন এবং প্রায় ৪০ লাখ মানুষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে দমন করা হচ্ছে, জনগণের অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে স্তব্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই  সময়ে আমাদের মহান নেতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী আমাদের নতুনভাবে অনুপ্রাণিত করছে। আমরা আজকে নতুন করে শপথ নিয়েছি যেকোনো মূল্যে আমরা দেশের হারিয়ে যাওয়া গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করব।
ফখরুল বলেন, আজকে এমন এক সময়ে জিয়াউর রহমানের  মৃত্যুবার্ষিকী পালন করছি যখন বাংলাদেশ একদলীয় শাসন ব্যবস্থার জাঁতাকলের মধ্যে পড়েছে, যখন মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে, মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে, যখন দেশের অস্তিত্বকে বিপন্ন করা হচ্ছে। 
দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমানের বিরুদ্ধে দেয়া বিচারিক আদালতের সাজা উচ্চ আদালতে বহাল রাখার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ফখরুল বলেন, এই মামলাগুলোর রায় দেয়া থেকে বোঝা যায় যে, এই সরকার সম্পূর্ণ রাষ্ট্র যন্ত্রকে দখল করে নিয়েছে, বিচার ব্যবস্থাকে দখল করে নিয়েছে। ফরমায়েসি রায় দিয়ে যারা গণতান্ত্রিক আন্দোলন করছে তাদের কারাগারে পাঠিয়ে আন্দোলনকে স্তব্দ করতে চাইছে। দীর্ঘ ১২ বছর ধরেই তারা একই কাজ করছে।
জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে ছিলেন  দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম,  সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, শ্যামা ওবায়েদ, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, কেন্দ্রীয় নেতা নাসির উদ্দিন অসীম, শাম্মী আখতার, নিলোফার চৌধুরী মনি, শামীমুর রহমান শামীম, মীর নেওয়াজ আলী, আমিনুল হক, কাজী আবুল বাশার, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খান প্রমুখ। 

×