ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৯

monarchmart
monarchmart

তলে তলে ৩শ’ আসনে প্রার্থী বাছাই করছে বিএনপি

শরীফুল ইসলাম 

প্রকাশিত: ১৬:১৬, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২; আপডেট: ১৬:৩৯, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২

তলে তলে ৩শ’ আসনে প্রার্থী বাছাই করছে বিএনপি

বিএনপির লগো।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সারাদেশে ৩০০ আসনে প্রার্থী বাছাই করছে বিএনপি। নির্বাচন কমিশন এ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার আগে থেকেই প্রার্থী বাছাই শুরু করে বিএনপি। তবে রোডম্যাপ ঘোষণার পর এ কাজে গতি বাড়িয়েছে। প্রতিটি সংসদীয় আসন থেকে ৩ জনের নাম ঠিক করে ৩০০ আসনের জন্য ৯০০ জনের নামের একটি তালিকা ঠিক করে তা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে পাঠানো হবে। পরে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সেখান থেকে প্রার্থী চূড়ান্ত করবে। এদিকে দলের নির্বাচনী  ইশতেহার প্রণয়নের কাজও এগিয়ে রাখা হচ্ছে। এতে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে নতুন কিছু তথ্য সংযোজন করে তা নির্বাচনের কাছাকাছি সময়ে চূড়ান্ত  করা হবে। 

সূত্র মতে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বিএনপি প্রার্থী বাছাই করছে কয়েকভাবে। লন্ডন থেকে তারেক রহমান সরাসরি বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে একটি সম্ভাব্য তালিকা তৈরি করছেন। এ ছাড়া দলের ক’জন সিনিয়র নেতা ফাইল ওয়ার্ক করে আরেকটি তালিকা তৈরি করছেন। আর সরাসরি তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাধ্যমে একটি তালিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। এই তিনটি তালিকা সমন্বয় করে প্রথমে ৩০০ আসনের জন্য  ৯০০ জনের একটি তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। আর সেখান থেকেই পরে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। 

সূত্র জানায়, বিএনপির সিনিয়র নেতারা দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাবে না বলে ব্যাপক প্রচার চালালেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখছে দলটি। এ জন্য ভেতরে ভেতরে প্রস্তুতি জোরদার করছে। তবে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে চাপে রাখতে বিএনপি নেতাকর্মীরা ধারাবাহিকভাবে বলছেÑ আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবেন না। এটি তাদের রাজনৈতিক কৌশল বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন।  

জানা যায়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা তৎপর হয়ে পড়েছেন। তাদের মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নির্বাচনে যাওয়ার জন্য যা যা করণীয় তা নিজেদের মতো করে যাচ্ছেন। তারা মনে করছেন, কোন দল জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীরা নিষ্ক্রিয় হয়ে যান, রাজনীতি থেকেও দূরে সরে যান। তাই সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে চাপে রেখে বিএনপি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গেলে এবং মোটামুটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ থাকলে ইতিবাচক ফল আশা করা যায়। 

এদিকে প্রার্থী বাছাইয়ের অংশ হিসেবে লন্ডন থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিনিয়র নেতাদের পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ের বিভিন্ন  নেতার সঙ্গেও নিয়মিত বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করছেন। এ সময় তিনি তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের কাছ থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছেন। এ জন্য তিনি তৃণমূল নেতাদের কাছে কিছু তথ্যও জেনে নিচ্ছেন। যে তথ্যগুলো তিনি বেশি জানতে চাচ্ছেন তার মধ্যে রয়েছে-  প্রতিটি সংসদীয় এলাকায় এবার বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থী কে কে?  এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় কে? বিএনপির দুর্দিনে কার ভূমিকা কি? এলাকায় অতীত রাজনীতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে কার কি অবদান এবং কাকে প্রার্থী করলে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকবে? 

এদিকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ১৫ মাসের বেশি সময় বাকি থাকলেও বিএনপি এ নির্বাচনের প্রস্তুতির পাশাপাশি রাজপথে আন্দোলন জোরদার করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিএনপি নেতাদের মতে, রাজপথে আন্দোলনও নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ। কারণ, রাজপথে শক্তি প্রদর্শন করতে না পারলে নির্বাচনে অংশ নিয়েও তেমন সুবিধা আদায় করা যাবে না। তাই নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ও নিরপেক্ষ ইসির দাবিতে সমমনা দলগুলোকে নিয়ে রাজপথে যুগপৎ আন্দোলন  ক্রমান্বয়ে জোরদার করতে চায় বিএনপি। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আপাতত জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে বিএনপি যতই নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করুক না কেন শেষ পর্যন্ত তারা দলের স্বার্থেই নির্বাচনে যাবে।  কারণ, নির্বাচনে না গেলে দলের নেতাকর্মীরা আরও বেশি হতাশ হয়ে পড়বেন। এ ছাড়া কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন (কুসিক) নির্বাচন বিএনপিকে একটি ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। আর তা হচ্ছে নির্বাচন সুষ্ঠু ও যোগ্য প্রার্থী হলে দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও ভোট দেয়। কুসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একক মেয়র প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিএনপির ২ মেয়র প্রার্থী থাকার পরও অনেক ভোট পেয়েছেন তারা। বিএনপি দলীয়ভাবে এ নির্বাচনে অংশ না নিলেও দলটির ২  নেতা স্বতন্ত্রভাবে ভোটে অংশ নেন। এর মধ্যে একজন আওয়ামী লীগ প্রার্থীর চেয়ে মাত্র ৩৪৩ ভোট কম পেয়ে পরাজিত হন। আরেকজন ভোট পান প্রায় ২৯ হাজার। তাই সুষ্ঠু নির্বাচন ও যোগ্য প্রার্থী হলে কুমিল্লার নির্বাচনের মতো বিভিন্ন জায়গায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বিএনপি বিজয়ী হতে পারবে বলে দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরাও মনে করেন। 

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, বিএনপি এখন নির্বাচন নয়, রাজপথে আন্দোলন নিয়ে ভাবছে। শীঘ্রই রাজপথে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে নিয়ে যুগপৎ আন্দোলন শুরু হবে। আর বিএনপি দেশের একটি বড় গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। তাই গণতান্ত্রিক দলের নির্বাচনের প্রস্তুতি সব সময়ই থাকে। দলের নির্বাচন করার মতো অসংখ্য যোগ্য নেতা আছে। তাই সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা হলে বিএনপি যাকে যেখানে মনোনয়ন দেবে সে-ই বিজয়ী হবে। তবে আমাদের এখন একটাই লক্ষ্য নিরপেক্ষ সরকার ও নিরপেক্ষ ইসির অধীনে নির্বাচন।  

দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিএনপি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেয়ার পাশাপাশি কিভাবে সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করা যায় সেজন্য বিভিন্ন কর্মকৌশল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এ জন্য দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মহলের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার চেষ্টা করছে। ঢাকায় কর্মরত কূটনীতিকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রভাবশালী দেশে লবিং জোরদার করা হচ্ছে বলেও জানা যায়। 

এসআর

সম্পর্কিত বিষয়:

monarchmart
monarchmart

শীর্ষ সংবাদ:

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক জবির মাহাদী সেকেন্দার
আর্জেন্টিনা জিতলে বাংলাদেশও জেতে!
কলকাতায় শুরু হলো ১০ম বাংলাদেশ বইমেলা
বাংলাদেশিদের জন্য বাংলায় টুইট করছেন সেই আর্জেন্টাইন সাংবাদিক
প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে ঘিরে উৎসবমুখর চট্টগ্রাম
রাজশাহীতে বিএনপির গণসমাবেশ শুরু
বাংলাদেশের পরিবেশ উন্নয়নে ২৬৫০ কোটি টাকা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক
রাশিয়ার যুদ্ধে ইউক্রেনের ১৩ হাজার সৈন্য নিহত
খালেদা জিয়া তো মুক্ত, তাকে আবার কীভাবে জামিন দিব?
নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হোটেলে কাভার্ডভ্যান, বাবা-ছেলেসহ নিহত ৫
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হতে পারে লঘুচাপ, কমতে পারে তাপমাত্রা
শান্তি চুক্তির ২৫ বছর: সমস্যা ও উত্তরণের উপায়
চেয়ারম্যান পদে স্বামী-স্ত্রীর মনোনয়নপত্র দাখিল
বাঙ্গালি নিধনে পাকিস্তানিদের বিশ্বাসঘাতকতার উপাখ্যান
শিগগিরই মানব মস্তিষ্কে চিপ বসাবে নিউরালিংক