ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯

যৌথ সভায় কাদের

হামলা সংঘর্ষে না জড়াতে নির্দেশ আওয়ামী লীগের

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৩:৪২, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২

হামলা সংঘর্ষে না জড়াতে নির্দেশ আওয়ামী লীগের

যৌথ সভায় কাদের

কোন ধরনের সংঘর্ষে না জড়াতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। দলের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেয়া হয়েছে, দলের নির্দেশের বাইরে গিয়ে কেউ যদি এসব হামলায় জড়িয়ে পড়ে, আওয়ামী লীগ তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে। এসব করে সরকারের ওপর এসে দায় পড়বে এক্ষেত্রে ছাড় দেয়া হবে না। আওয়ামী লীগ কাউকে লেলিয়ে দেয়নি, দলের প্রধানও (প্রধানমন্ত্রী) কোন খারাপ কাজ সহ্য করেন না, কাউকে রেহাই দেননি।
সোমবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের কেন্দ্রীয় সম্পাদকম-লীর সঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ এবং সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনসমূহের নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত যৌথ সভায় এমন সাবধান বাণী উচ্চারণ করেন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
বৈঠকে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মবাষির্কী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের সিদ্ধান্ত হয়। বঙ্গবন্ধুকন্যার জন্মদিন উপলক্ষে দলের পক্ষ থেকে ওইদিন আলোচনা সভা করবে আওয়ামী লীগ। বিকেল ৩টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া বৈঠকে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলোর দ্রুত সম্মেলনের আয়োজনের নির্দেশনা দেয়া হয়।
যৌথ সভায় আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, এ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, ড. হাছান মাহমুদ, আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, ত্রাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, শিক্ষা ও মানবসম্পদ সম্পাদক শামসুন নাহার চাঁপা, উপ-দফতর সম্পাদক সায়েম খানসহ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির ওপর হামলার কোন নির্দেশনা আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দেয়নি জানিয়ে কোন ধরনের সংঘর্ষে না জড়াতে নেতাকর্মীদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, নেত্রীর নির্দেশনার বাইরে কেউ যদি এসব হামলায় জড়িয়ে পড়েন, আমরা কিন্তু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেব। কাউকে আমরা লেলিয়ে দেইনি।
তিনি বলেন, কুমিল্লায়, মিরপুরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু বরিশাল ও চট্টগ্রামে তো বিএনপি নিজেরা নিজেরা মারামারি করেছে। সেটা কিন্তু মিডিয়া ছাপতে চায় না। এসব ঘটনা ঠিকভাবে সংবাদমাধ্যমে আসছে না। তাদের (বিএনপি) নেগেটিভ নিউজও ছাপে না অনেকে। বলতে চায় না কেন তা জানি না। তবে তাদের বিবেকের কাছে প্রশ্ন রাখছি আমরা।
ওবায়দুল কাদের বলেন, একটি চিহ্নিত মহল দেশের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করতে চায়। দেশে বিদেশে ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা জানে না শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর মতো পিছু হটতে জানেন না, ভয় পান না। এরা জানে না তিনি হেরে গেলে বাংলাদেশ হেরে যাবে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা হেরে যাবে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হেরে যাবে। যদি শেখ হাসিনা ক্ষমতায় না থাকে বাংলাদেশ আর বাংলাদেশ থাকবে না।
জাতীয়তাবাদীরা আবারও বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানাতে চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপির নেতা মির্জা ফখরুলের বক্তব্যে তাদের মনের কথা বেরিয়ে গেছে। বিএনপির ফখরুল সাহেব বলেছেন পাকিস্তান আমলেই ভাল ছিলাম। আসলে তাদের মনের সত্য কথা বেরিয়ে গেছে। এই জাতীয়তাবাদীরা আবারও বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানাতে চায়। আমরা আমাদের প্রিয় জন্মভূমিকে পাকিস্তান বানাতে দেব না। এটাই আমাদের আজকের দিনের শপথ, আমরা এই শপথ করছি।
পাকিস্তানের প্রতি বিএনপির এত কেন প্রেম সেই প্রশ্ন তুলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, মির্জা ফখরুলদের পাকিস্তানের প্রতি এত প্রেম কেন? আবার তারাই বলে পাকিস্তানের নাম শুনলেই নাকি আওয়ামী লীগের গাত্রদাহ হয়। গাত্রদাহ তো হবেই, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াই করে আমরা স্বাধীন। যে পাকিস্তান আমাদের ত্রিশ লাখ মানুষকে হত্যা করেছে, আমার মা-বোনের সম্ভ্রম নষ্ট করেছে; তাদের প্রতি আপনার (ফখরুল) এত পেয়ার-পিরিত কেন? কেন এত মহব্বত? এই হত্যাযজ্ঞের কথা কি ভুলে গেছেন? পাকিস্তান আমাদের এখনও ক্ষতিপূরণের টাকা দেয়নি। ফখরুল সাহেবদের পাকিস্তান প্রেমের কথা শুনলে তো এটাই প্রমাণ হয় ’৭১-এর বদলা নিতে জিয়ারউর রহমান ’৭৫-এ বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে।
এ সময় ওবায়দুল কাদের সভায় উপস্থিত আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, লক্ষ্য করবেন যে কি অবস্থা চলছে। এসব চ্যানেলগুলো শেখ হাসিনা দিয়েছেন। গণমাধ্যম কি আচরণটা করছে। মিডিয়া, গণমাধ্যম বিএনপির সব নেতার কাভারেজ দেয়। আওয়ামী লীগের কত বড় বড় নেতাদের কি কাভারেজ দেয় বিভিন্ন মিডিয়া, গণমাধ্যম, একটু দেখুন। এখানে তথ্যমন্ত্রী আছেন, কাভারেজের ক্ষেত্রে মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলা উচিত।
সরকারের উন্নয়ন কর্মকা- তুলে ধরে ওবায়দুল কাদের বলেন, শেখ হাসিনা তাহলে কি পদ্মা সেতু করে ভুল করেছেন? করোনাকালে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দিয়েছেন, যেটা আমেরিকাও পারেনি। আমেরিকার রাষ্ট্রদূত পিটার হাস নিজেই স্বীকার করেছেন। এটা করেও কি প্রধানমন্ত্রী ভুল করেছেন? বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ভারসাম্য অবস্থায় রাখা, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, কর্ণফূলী ট্যানেল, পায়রা সমুদ্রবন্দর- এগুলো করে কি শেখ হাসিনা ভুল করেছেন? উন্নয়নের কি কোন মূল্য নেই? উন্নয়নের মূল্য আছে, আমরা দেখব আগামী নির্বাচনে। মানুষ দুইটি বিষয়কে গুরুত্ব দেবে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সততা আর উন্নয়ন।