ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ 

সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই প্রেসক্রিপশন পয়েন্টে তালা ঝুলিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

প্রকাশিত: ১৭:৩১, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩; আপডেট: ১৭:৩২, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩

সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই প্রেসক্রিপশন পয়েন্টে তালা ঝুলিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

সংবাদ সম্মেলন

কোনো কারণ ছাড়াই রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত প্রেসক্রিপশন পয়েন্ট লি. নামের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে তালা দিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একজন মন্ত্রীর ছেলে প্রতিষ্ঠানটি দখলের পাঁয়তারা করছে বলেও অভিযোগ করেছে ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষ। রবিবার দুপুরে সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে (ক্র্যাব) এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক খন্দকার আবুল খায়ের এই অভিযোগ করেন।

খন্দকার আবুল খায়ের বলেন, প্রেসক্রিপশন পয়েন্টের মতো একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে ব্যবহার করে একটি কুচক্রী মহল বেআইনিভাবে বন্ধ করে তালা ঝুঁঁলিয়ে দিয়েছে। একজন মন্ত্রীর ছেলের নির্দেশেই তা করা হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করতে আইন-আদালতকে তোয়াক্কা করা হয়নি, শুধুমাত্র ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে নিয়ম বহির্ভূতভাবে জোরপূর্বক তা করা হয়েছে। আমাদের সেবামূলক প্রতিষ্ঠানটি ও ভবনটি দখল করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য। এই প্রতিষ্ঠানে অভিযান ও তালা দেয়ার নেপথ্যে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির হাত আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাহী পরিচালক বলেন, আমরা জানতে পেরেছি- একজন মন্ত্রীর ছেলের হাত আছে। উনি আমাদের ম্যানেজারকে বলেছিল- তিনি প্রেসক্রিপশন পয়েন্ট কিনে নিতে চান। তখন আমাদের ম্যানেজার তাকে বলেছিল আপনার তো টাকা আছে আপনাকে এটা কিনে নিতে হবে কেন? তখন মন্ত্রীর ছেলে বলেছেন- যদি বাড়ি ছেড়ে না দেন তাহলে আঙ্গুল বাঁকা করতে হবে। 

খন্দকার আবুল খায়ের জানান, প্রতিষ্ঠানটিতে এখন প্রায় ২০০ কর্মকর্তা ও কর্মচারী জড়িত। এছাড়াও ৫০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়মিত চেম্বার করে উন্নত চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছিলেন। চলতি বছরের গত ১৮ মে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি পরিদর্শন দল সেখানে যান। এরপর ১৮ মে তারিখ দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে চিঠি পাঠানো হয়। একই সঙ্গে কোন প্রকার কারণ দর্শানোর নোটিশ না দিয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ ও লাইসেন্স স্থগিত করার আদেশ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এই আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে তারা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আপিল করলে তা অগ্রাহ্য করে ৭ জুন তাদের চিঠি দেয়। পরে নিয়মানুযায়ী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আপিল করলেও তারা রহস্যজনকভাবে নিশ্চুপ ভূমিকা পালন করে। পরে তারা এই আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট করেন। রিটটি এখন শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। হাইকোর্ট খুললে সেটির শুনানি হবে। 

উল্লেখ্য, গত বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে প্রেসক্রিপশন পয়েন্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি তালাবদ্ধ করে দেয়।
 

 

ফজলু

×