ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৩ জুন ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

 রাজধানীর পরিবহন  ব্যবস্থায় ঘটবে  বিপ্লব

ইবরাহীম মাহমুদ আকাশ

প্রকাশিত: ২২:৪৯, ৬ জুন ২০২৩

 রাজধানীর পরিবহন  ব্যবস্থায় ঘটবে  বিপ্লব

দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ। কুড়িল ও বিমানবন্দর সড়ক এলাকা থেকে তোলা

বর্তমান সরকারের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আরেকটি উন্নয়নের মাইলফলক ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে (উড়াল সড়ক)। রাজধানীর উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের জন্য উড়াল সড়কটি নির্মাণ করা হচ্ছে। উত্তরার বিমানবন্দর থেকে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী পর্যন্ত ১৯ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার মূল উড়াল সড়কের সঙ্গে থাকছে ২৭ কিলোমিটারের ৩১টি র‌্যাম্প।  এটি নির্মাণ হলে মাত্র ২০ মিনিটে উত্তরা থেকে কুতুবখালী দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ওঠা যাবে। প্রকল্পটি চালু হলে বদলে যাবে রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থা। রাজধানী ঢাকা নগরী গড়ে উঠেছে মূলত উত্তর-দক্ষিণমুখী। শুরু থেকে উত্তর-দক্ষিণের সংযোগে পরিকল্পিত কোনো সড়ক নির্মাণ করা হয়নি।

অপরিকল্পিত সড়কে তীব্র যানজটে যাত্রাবাড়ী থেকে উত্তরা পর্যন্ত চলাচল খুবই দুরূহ। মূলত উত্তর দক্ষিণের সংযোগের জন্যই ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়। উড়াল সড়কের সুবিধা গোটা নগরীতে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য পরিকল্পনা করা হয় ৩১টি র‌্যাম্প নির্মাণে। এসব র‌্যাম্প দিয়ে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে উড়াল সড়কে ওঠানামা করা যাবে। কয়েক দফা রদবদল করে চূড়ান্ত হয়েছে সড়কের নক্সা। এ জন্য অবশ্য প্রকল্পের সময় কিছুটা বেড়েছে। এখন কাজ এগিয়ে চলেছে খুব দ্রুত। আশা করা হচ্ছে, চলতি বছর ডিসেম্বরের মধ্যে বিমানবন্দর থেকে তেজগাঁও পর্যন্ত চালু করা হবে। আগামী বছর জুন মাসে পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে আশা করছেন সেতু কর্তৃপক্ষ।  
সেতু কর্তৃপক্ষ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি)’র মাধ্যমে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শুরু হয়ে উড়াল সড়কটি যাবে দক্ষিণে কাওলা-কুড়িল-বনানী-মহাখালী-তেজগাঁও-মগবাজার-কমলাপুর-সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী-ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক (কুতুবখালী) পর্যন্ত। র‌্যাম্পসহ উড়াল সেতুর মোট দৈর্ঘ্য ৪৬ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা শহরের উত্তর-দক্ষিণ অংশের সংযোগ ও ট্রাফিক ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। উন্নত হবে উত্তর ও দক্ষিণ গেটওয়ের সংযোগ। শহরের যানজট অনেকাংশে কমবে। হ্রাস পাবে ভ্রমণের সময় ও খরচ।

সার্বিকভাবে যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন প্রকল্পের সংশ্লিষ্টরা। প্রকল্প পরিচালক এ এইচ এম শাখাওয়াত আকতার জনকণ্ঠকে বলেন, ‘তিনটি অংশে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটি। প্রথম অংশ- বিমানবন্দরের দক্ষিণে কাওলা থেকে বনানী রেলস্টেশন পর্যন্ত মোট দৈর্ঘ্য ৭ দশমিক ৪৫ কিলোমিটার। এ অংশের অগ্রগতি ৯৬ শতাংশ। দ্বিতীয় অংশ- বনানী রেলস্টেশন থেকে মগবাজার পর্যন্ত ৫ দশমিক ৮৫ কিলোমিটার। এই অংশের অংশের অগ্রগতি ৫১ শতাংশ। তৃতীয় অংশ- মগবাজার-যাত্রাবাড়ী হয়ে কুতুবখালী পর্যন্ত দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ৬৩ কিলোমিটার। এ অংশের অগ্রগতি ৫ শতাংশ। সার্বিকভাবে এ পর্যন্ত প্রকল্পের ৬১ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।’
প্রকল্পের সূত্র জানায়, চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত উড়াল সড়কটির প্রথম অংশের একহাজার ৪৮২টি পাইল, ৩২৬টি পাইল ক্যাপ, ৩২৫টি কলাম ও ক্রস-বিম, ৩০৪৮টি আইগার্ডার নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া র‌্যাম্প নির্মাণে আরও ৩০২০টি আই গার্ডার নির্মাণ ও ৩২২ ব্রিজ ডেকের সব কাজ শেষ হয়েছে। এখন শুধু রোড মার্কিং, লাইটিং ও ফিনিশিং কাজ বাকি আছে। এছাড়া বনানী থেকে তেজগাঁও রেলস্টেশন পর্যন্ত প্রকল্পের দ্বিতীয় অংশে দুইহাজার ২৫২টি পাইলের মধ্যে শেষ হয়েছে একহাজার ৫৮৪টি, পাইল ক্যাপ ৬৩১টির মধ্যে ৩২১টি শেষ হয়েছে।

এছাড়া ৬৩১টি কলাম ও ক্রস-বিমের মধ্যে ৩০৮টি কলাম ও ২৯০টি ক্রস-বিম শেষ হয়েছে, ৪ হাজার ৪৫৫টি আই গার্ডারের মধ্যে একহাজার ৮৯৮টি শেষ হয়েছে। এছাড়া র‌্যাম্পের আরও চারহাজার ২৯৯টি আই গার্ডারের মধ্যে ১৭৫৫টি শেষ হয়েছে ও ৬৩৩টি ব্রিজ ডেকের মধ্যে ১৩৭টি স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি কুড়িল এলাকায় প্রকল্পের সেন্ট্রাল কন্ট্রোল বিল্ডিং (সিসিবি) নির্মাণের কাজ ৮৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। র‌্যাম্প ও এলাইনমেন্টে জটিলতার কারণে প্রকল্পের দ্বিতীয় ও তৃতীয় অংশের কাজ পিছিয়ে আছে। 
ওঠানামার জন্য ৩১টি র‌্যাম্প ॥ ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে (উড়াল সড়কে) ওঠানামার জন্য মোট ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ৩১টি র‌্যাম্প নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে প্রথম অংশে রয়েছে ১০টি র‌্যাম্প। এগুলো হলো-হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবেশ ও বের হওয়ার দুটি র‌্যাম্প যুক্ত হবে উড়াল সড়কে। বিমানবন্দরে প্রবেশ র‌্যাম্পের (ইএন) দৈর্ঘ্য ৯৯৪ মিটার এবং বিমানবন্দরে বের হওয়ার (ইএক্স) র‌্যাম্প-৫২২ মিটার। কুড়িল এলাকায় তিনটি র‌্যাম্প নির্মাণ করা হবে। এগুলো হলো-কুড়িল ইএন-ওয়ান-৬৯৭ মিটার, কুড়িল ইএন-টু-৮২৫ মিটার, কুড়িল ইএক্স-৭০৪ মিটার। বনানী এলাকায় চারটি র‌্যাম্প নির্মাণ করা হচ্ছে। এগুলো হলো-বনানী ইএন-ওয়ান-৭৪৬ মিটার, বনানী ইএন-টু-৬০০ মিটার, বনানী ইএক্স-ওয়ান-৪১৫ মিটার ও বনানী ইএক্স-টু-৫১৬ মিটার। প্রথম অংশের ৫৬৫ মিটার দীর্ঘ ক্যান্টনমেন্ট ইএক্স-টু-র‌্যাম্পের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
দ্বিতীয় অংশে ১৫টি র‌্যাম্প নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে মহাখালী এলাকায় উড়াল সড়কে প্রবেশের জন্য একটি ও বের হওয়ার জন্য দুটি র‌্যাম্প নির্মাণ করা হবে। এছাড়া তেজগাঁও এলাকায় উড়াল সড়কে প্রবেশের জন্য তিনটি ও বের হওয়ার জন্য দুটি র‌্যাম্প নির্মাণ করা হবে। সোনারগাঁও হোটেল এলাকায় উড়াল সড়কে প্রবেশের জন্য তিনটি ও বের হওয়ার জন্য চারটি র‌্যাম্প নির্মাণ করা হবে। তৃতীয় অংশে উড়াল সড়কে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য কমলাপুর এলাকায় চারটি ও কুতুবখালী এলাকায় ২টি র‌্যাম্প নির্মাণ করা হবে।
র‌্যাম্প ও এলাইনমেন্ট জটিলতা ॥ প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, উড়াল সড়কে গাড়ি ওঠানামার জন্য মোট ৩১টি র‌্যাম্পের মধ্যে মূল নক্সা অনুযায়ী সোনারগাঁও-বুয়েট র‌্যাম্পটি সোনারগাঁও হোটেলের পেছনে পান্থকুঞ্জ পার্কের মধ্য দিয়ে হাতিরপুল-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে পলাশী মোড়ে শেষ হবে। এছাড়া প্রকল্পের সেন্ট্রাল কন্ট্রোল বিল্ডিংটি পান্থকুঞ্জ পার্কের মধ্যে নির্মাণ করার কথা ছিল। তাই ২০১৬ সালে রাজধানীর পান্থকুঞ্জ পার্কের ৪ দশমিক ১৩ একর জায়গা প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ হয়। এর মূল্য বাবদ ৩৩৫ কোটি ঢাকা জেলা প্রশাসককে পরিশোধ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৪ দশমিক ১৩ একর জায়গা বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নামে নামজারি করা হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি)’র বাধার কারণে সোনারগাঁও-বুয়েট র‌্যাম্পের কাজ শুরু করা যাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। 
প্রকল্পের একজন কর্মকর্তা জানান, র‌্যাম্প ও এলাইনমেন্ট জটিলতা নিরসনে ডিএসসিসি ও ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে একাধিকবার বৈঠক করা হয়। সর্বশেষ ২০১৯ সালে ডিএসসিসির সঙ্গে আলোচনা করে প্রকল্পের সেন্ট্রাল কন্ট্রোল বিল্ডিং (সিসিবি) পান্থকুঞ্জ পার্কের ভেতর হতে সরিয়ে কুড়িল এলাকায় নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া হাতিরঝিল-পান্থকুঞ্জ-হাতিরপুল-কাঁটাবন-পলাশী মোড় পর্যন্ত র‌্যাম্প নির্মাণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে এলাকা কয়েক দফা পরিদর্শন করে লিংকের এলাইনমেন্ট বিষয়ে বিশদ পর্যালোচনা করে বিশেষজ্ঞ কমিটি।

কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন প্রয়াত প্রকৌশলী অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী। পর্যালোচনার প্রেক্ষিতে বুয়েটের অধ্যাপক ড. মো. সামছুল হক ও হাতিরঝিল প্রকল্পের স্থাপতি মো. ইকবাল হাবিবের সহায়তায় হাতিরঝিল অংশে পানিতে খুঁটি যথাসম্ভব বাদ দিয়ে হোটেল সোনারগাঁও এর অবস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পূর্বদিকে বিয়াম ভবনসহ ১১ তলা স্কুল ও বিদ্যমান ২টি সুয়্যারেজ লাইন অক্ষত রেখে লিংকের এলাইনমেন্ট পুনর্নির্ধারণ করা হয়। এটি মগবাজার রেলগেট থেকে শুরু হয়ে বিয়ামের পাশ দিয়ে পান্থকুঞ্জ পার্কের দক্ষিণ প্রান্ত দিয়ে হাতিরপুল-কাঁটাবন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে পলাশী মোড়ে গিয়ে শেষ হবে।
এই এলাইনমেন্টটি প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উপস্থাপন করা হলে ২০২০ সালে ২৩ ফেব্রুয়ারি তা অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বুয়েটের প্রফেসর ড. মো. সামছুল হক এবং হাতিরঝিল প্রকল্পের স্থপতি প্রতিষ্ঠানের সহিত আলোচনা করে হাতিরঝিল-বুয়েট লিংকের পুনঃ ডিজাইন করা হয়। এতে হাতিরঝিল এলাকায় সৌন্দর্য্য অক্ষুণœ রেখেই স্কাই ওয়াক, বাইসাইকেল লেন, সিটিং অ্যারেঞ্জমেন্ট, পাবলিক টয়লেট, পার্কিং স্পেস, ক্যাফে, ঘাট নির্মাণসহ ঝুলন্ত বাগান ইত্যাদি নির্মাণ কাজ করার বিষয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)’র বাধার কারণে গত দুই বছর ধরে পান্থকুঞ্জ-হাতিরপুল-কাঁটাবন-পলাশী মোড় র‌্যাম্প নির্মাণের কাজ শুরু করা যায়নি বলে প্রকল্পের সংশ্লিষ্টরা জানান।
বুয়েটের অধ্যাপক ড. সামছুল হক জনকণ্ঠকে বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে শহরের মধ্যে দিয়ে ফ্লাইওভার নির্মাণের বিপক্ষে। কারণ এতে শহরের যানজট আরও বেড়ে যায়। তবে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের শুরু থেকে এর সঙ্গে আমি ছিলাম। এক্ষেত্রে আমার একটি বক্তব্য হলো পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) প্রকল্প গ্রহণ করার আগে ১০ বার ভেবে-চিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দরকার ছিল। কারণ পিপিপি প্রকল্প নির্মাণের ক্ষেত্রে একবার চুক্তি হয়ে গেলে তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে হয়। চুক্তির শর্ত ভঙ্গ হলে এটা রাষ্ট্রের জন্য বড় ক্ষতি। পিপিপি ভিত্তিতে যেহেতু ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ চলছে তাই  ক্ষেত্রে রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একটু ছাড় দিতে হবে। এজন্য প্রকল্পের নির্মাণ জটিলতাগুলো দ্রুত সমাধানের পরামর্শ দেন তিনি।  
বিলম্বের কারণ ॥ ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে। প্রকল্পের ডিপিপি অনুমোদন হয় ২০০৯ সালে। ২০১১ সালের ৩০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। রুট জটিলতা ও অর্থায়ন নিশ্চিত না হওয়ায় প্রকল্পের কাজ আর শুরু হয়নি। পরবর্তী সময়ে ২০১৩ সালে এক্সপ্রেসওয়ের রুট সংশোধন করা হয়। এর ভিত্তিতে সংশোধন করা হয় এক্সপ্রেসওয়ের নক্সা। পরে প্রকল্পটি সংশোধন করা হয়। এর মধ্যে প্রকল্পে ব্যয় দুই দফা ও মেয়াদ তিন দফা বাড়ানো হয়েছে। ডিপিপি অনুমোদনে মূল প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩ হাজার ২১৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

পরে প্রকল্প ব্যয় অপরিবর্তিত রেখে প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। পরে ডিপিপি প্রথম সংশোধনীতে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৮৮৯ কোটি টাকা। একই সঙ্গে সময় বাড়ানো হয় ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। দ্বিতীয় সংশোধনী প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। ব্যয় বেড়ে ৮ হাজার ৯৪০ কোটি ১৮ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্যয় ঠিক রেখে প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর মধ্যে চায়না এক্সিম ব্যাংক ও আইসিবি চায়না যৌথভাবে ৭ হাজার ৩১৮ কোটি কাটা ঋণ সহায়তা  দেবে। বাকি টাকা বাংলাদেশ সরকারের তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদার (পিপিপি) ভিত্তিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ইতালিয়ান-থাই ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি।
টোল ব্যবস্থাপনা ॥ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে টোল দিয়ে চলাচল করবে সব যানবাহন। প্রাথমিকভাবে টোল ধরা হয়েছে প্রাইভেটকারসহ অন্য মোটরগাড়িতে ১২৫ টাকা, যাত্রীবাহী বাসে ২৫০ টাকা, ছয় চাকার ট্রাকে ৫০০ টাকা আর ছয় চাকার বেশি ট্রাকের জন্য ৬২৫ টাকা। তিন বছর পর পর টোলের হার পুনর্নির্ধারণ করা হবে। এক্সপ্রেসওয়ে থেকে ২৫ বছর টোল আদায় করবে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। প্রকল্প ব্যয় ও টোলের হার বৃদ্ধি সংক্রান্ত প্রস্তাব ২০১৩ সালের নভেম্বরে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে অনুমোদন করা হয় বলে সেতু বিভাগের সূত্র জানায়। চালু হওয়ার আগে এই হার পুনর্নির্ধারণ হতে পারে। প্রকল্প পরিচালক এ এইচ এম শাখাওয়াত আকতার বলেন, ‘পিপিপি ভিত্তিতে নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ইতালিয়ান থাই ডেভেলপমেন্ট পাবলিক কোম্পানি লিমিটেড। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ২৫ বছর টোল আদায়ের মাধ্যমে খরচ উঠাবে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ অর্থায়ন জটিলতায় কাজে ধীরগতি ছিল। এখন এই সমস্যা কেটে গেছে। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হবে বলে আমরা আশা করছি।

×