ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ১৭ আগস্ট ২০২২, ২ ভাদ্র ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

চিহ্নিতকরণ সহজ করতে এবার মোড়কে থাকবে লাল চিহ্ন

৬৭ শতাংশ ফার্মেসি কর্মী জানে না এন্টিবায়োটিকের ব্যবহার

প্রকাশিত: ১৮:১৮, ১৮ মে ২০২২

৬৭ শতাংশ ফার্মেসি কর্মী জানে না এন্টিবায়োটিকের ব্যবহার

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দেশের অন্ততঃ ৬৭ দশমিক ৩ শতাংশ ওষুধ বিক্রয় কেন্দ্রের (ফার্মেসি) কর্মী জানে না এন্টিবায়োটিকের সঠিক ব্যবহার। আর তাই যত্রতত্রভাবে বিক্রি হচ্ছে জীবন রক্ষায় জরুরী এসব ওষুধ। যার অধিক ব্যবহারে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মানুষের মধ্যে কমছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। আর তাই এবার থেকে অ্যান্টিবায়োটিক চিহ্নিতকরণ সহজ করতে ওষুধের মোড়ক (প্যাকেট) বদলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এখন থেকে সব অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের লেভেলে লাল চিহ্ন ব্যবহার হবে। বুধবার বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিটিউক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই) ও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা (সিডিসি) আয়োজিত বাংলাদেশে চলমান অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেসিস্ট্যান্সের (এএমআর) পরিস্থিতি ও এএমইউ ট্রেন্ডস শীর্ষক অনুষ্ঠানে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (ডিজিডিএ) সহকারী পরিচালক এস এম সাবরিনা ইয়াছমিন এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গত জানুয়ারিতে বিএপিআইয়ের সঙ্গে আমাদের একটি সভায় অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের লেভেলে লাল চিহ্ন ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এটি অনুমোদনও দেয়া হয়। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে অন্যতম একটি সমস্যা হচ্ছে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে সেবনের প্রবণতা। অসুস্থ হলেই ফার্মেসি থেকে সাধারণ মানুষ ওষুধ কিনে সেবন করেন। দেশের ৮টি বিভাগের ৪২৭টি ফার্মাসিতে জরিপ চালিয়ে আমরা দেখেছি, ৬৭ দশমিক ৩ শতাংশ ফার্মেসি কর্মী অ্যান্টিবায়োটিক সম্পর্কে ভালোভাবে জানেন না। এছাড়া তারা সহজে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ চিনতেও পারে না। তাই মানুষ এবং পশু দুই ক্ষেত্রেই অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের এই চিহ্ন ব্যবহার করা হবে। অনেক কোম্পানি বর্তমান সময়েও তাদের ওষুধের লেভেলে এই চিহ্ন ব্যবহার করছে। অনুষ্ঠানে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার নিয়ে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (ডিজিডিএ ও সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানসহ (আইইডিসিআর) কয়েকটি সংস্থা বিভিন্ন গবেষণা তুলে ধরেন। এ সময় ডিজিডিএ মহাপরিচালক ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ইউসুফ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক আহমেদুল কবির, রোগ নিয়ন্ত্রণ (সংক্রামক) শাখার পরিচালক অধ্যাপক নাজমুল ইসলামসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। এসময় বক্তারা বলেন, আমাদের চারপাশে অনেক রকমের ব্যাকটেরিয়া থাকে। এগুলোর সংক্রমণে শরীরে নানা রোগ বাসা বাঁধে। সারাতে খেতে হয় অ্যান্টিবায়োটিক। কিন্তু অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা অনেকটাই নির্ভর করে এর ব্যবহারবিধির ওপর। এ ব্যাপারে তাই সচেতনতা জরুরি। অধ্যাপক নাজমুল ইসলাম বলেন, অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার আগে চিকিৎসককে শরীর সম্পর্কে সব তথ্য জানানো জরুরি। চিকিৎসক হয়তো নিজে থেকেই অনেক কিছু জিজ্ঞেস করবেন। তারপরও রোগীর সচেতনতা দরকার। যেকোনো জ্বরের জন্যই অ্যান্টিবায়োটিক নয়। কখনোই চিকিৎসককে অ্যান্টিবায়োটিক লেখার জন্য জোর করবেন না বা অনুরোধ করবেন না। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে মা-বাবারা প্রায়ই এমনটা করেন। ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে জ্বর হয়েছে এমন প্রমাণ হাতে পাওয়ার আগে অ্যান্টিবায়োটিক নয়। এর এরকম যথেচ্ছ ব্যবহার না কমালে সমূহ বিপদের শংকা রয়েছে। এর আগে এক অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, আগামী ২০৫০ সালে করোনাভাইরাসের চেয়ে বেশি সংকটে পড়বে বাংলাদেশ, এর কারণ হবে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স। তিনি বলেন, মাত্রাতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলে আগামী ২০৫০ সালে দেশে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর চেয়ে দ্বিগুণ মানুষ মারা যেতে পারে। সবার স্বার্থে মাত্রাতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার রোধ করতে হবে। যত্রতত্র অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধ করতে হবে। সচেতনতার তাগিদ দিয়ে উপাচার্য বলেন, রেজিস্ট্রার্ড চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া যাতে কোন ফার্মাসি অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ বিক্রি করতে না পারে, সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের এগিয়ে আসতে হবে।