ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২০ আগস্ট ২০২২, ৫ ভাদ্র ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

নেপথ্য কাহিনী ॥ চক্রের হোতা গ্রেফতার

চুরি, ছিনতাই করতে কক্সবাজার থেকে ঢাকা আসত ওরা

প্রকাশিত: ২৩:১৪, ১৮ মে ২০২২

চুরি, ছিনতাই করতে কক্সবাজার থেকে ঢাকা আসত ওরা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিভিন্ন উৎসবে কক্সবাজার থেকে চুরি-ছিনতাই করতে রাজধানীতে আসত রেদোয়ান। রাজধানীর মিরপুরের একটি চুরির ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে রেদোয়ানসহ বেশ কয়েক জনকে শনাক্ত করে মিরপুর গোয়েন্দা পুলিশ। পরে রেদোয়ানকে বাসাবো কেন্দ্রীয় মসজিদ মাঠ এলাকা থেকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে এ বিষয়ে জানতে পারেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। গত ৮ এপ্রিল মিরপুরের হাজী রোডের একটি বাসা থেকে তিনটি মোবাইল ও একটি এইচপি ল্যাপটপ চুরি হয়। ভিকটিমের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ১২ এপ্রিল মিরপুর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মিরপুর গোয়েন্দা বিভাগের আওতাধীন হওয়ায় থানা পুলিশের পাশাপাশি ছায়া তদন্ত শুরু করে মিরপুর গোয়েন্দা বিভাগের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও মাদক নিয়ন্ত্রণ টিম। এক পর্যায়ে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং প্রযুক্তির সহায়তায় রেদোয়ানকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় দুটি চোরাই ল্যাপটপ এবং ১২টি মোবাইল ফোন। যার মধ্যে ওই বাসা থেকে চুরি হওয়া একটি এইচপি ল্যাপটপ এবং একটি মোবাইল ফোন ছিল। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, ছিনতাই ও চুরির সঙ্গে জড়িত থাকা এই চক্রের সদস্যরা সব সময় রাজধানীতে অবস্থান করে না। বিভিন্ন উৎসব ও জনসমাগমের বিষয় পরিলক্ষিত হলে, সে সময়টিকে তারা বেছে নেয়। ঈদকে কেন্দ্র করে চুরি-ছিনতাই করতে কক্সবাজার থেকে বাসে করে ঢাকায় চলে আসত তারা। তাদের মূল টার্গেট থাকে দামী ফোন এবং ল্যাপটপ। চুরি কিংবা ছিনতাইয়ের পর মোবাইল কিংবা ল্যাপটপ যদি কারও মাধ্যমে বিক্রি করতে না পারত, তাহলে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ খুলে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করত তারা। এবার ঈদে তারা যা হাতিয়ে নেয়, তা নিয়ে কক্সবাজার ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে ধরা পড়ে চক্রের হোতা রেদোয়ান। অভিযানসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, চুরি ও ছিনতাইয়ের পর টাকা-পয়সা শেষ হয়ে গেলে আবারও রাজধানীতে এসে এ ধরনের অপতৎপরতা চালাত তারা। বেশ কয়েক বছর ধরে চক্রটি এ ধরনের কাজের সঙ্গে জড়িত। এই চক্রের সদস্যরা মূলত বাসাবাড়িতে চুরির পাশাপাশি যানজটে আটকে থাকা সাধারণ জনগণের মোবাইল নিয়ে দৌড় দেয়। বাসাবাড়ি বা রাজপথ দুই জায়গাতেই তাদের বিচরণ। চক্রের সদস্যরা ২০ থেকে ২৫ বছর বয়সী। ১০ থেকে ১২ জনের একটি গ্রুপ রয়েছে তাদের। গ্রেফতারকৃত রেদোয়ান গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, যখনই সে আর্থিক সমস্যার সম্মুখীন হয়, তখনই চক্রের অন্য সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে রাজধানীতে চলে আসে। পরে চুরি-ছিনতাই করে। বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরি করে। পরিচিতদের মাধ্যমে মেস ভাড়া নিয়ে সেখানে অবস্থান করে। এক মেসে বেশি সময় অবস্থান করে না। ফেসবুকের মার্কেটপ্লেসে বিজ্ঞাপন দিয়েও এসব চোরাই মোবাইল ও ল্যাপটপ বিক্রি করত তারা। রেদোয়ান মোবাইল ছিনতাই এবং চুরি করত। তবে সে সিনিয়র হওয়ায় এগুলো বিক্রির দায়িত্ব ছিল তার ওপর। দুই বছর ধরে সে এ কাজের সঙ্গে জড়িত থাকলেও এবারই প্রথম আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে পাকড়াও হলো। জিজ্ঞাসাবাদে রেদোয়ান আরও জানায়, ফেসবুকের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিলে দুপুরের মধ্যেই বিক্রি হয়ে যেত চোরাই কিংবা ছিনতাই করা মোবাইল বা ল্যাপটপ। ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা দামের ফোন তারা বিক্রি করত ৫ থেকে ৭ হাজার টাকায়। ফজরের নামাজের সময় কিংবা দারোয়ানের গতিবিধি লক্ষ্য করে সময়-সুযোগ বুঝে ভবনে ঢুকে যেত। ভবনের বাসার দরজা খোলা পেলে ভেতরে ঢুকে মোবাইল ও ল্যাপটপ জাতীয় কিছু থাকলে তা নিয়ে চম্পট দিত। এ ছাড়া পার্ক করা কোন গাড়ির দরজা খোলা থাকলে গাড়িতে থাকা মূল্যবান যন্ত্রপাতি কিংবা জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে যেত। তারা সব সময় সুযোগের অপেক্ষায় থাকে, যখনই সামনে কিছু আসে, তখনই তা চুরি করে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-ডিএমপি মিরপুর বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার সালাউদ্দিন খান নাদিম বলেন, ‘এ চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের ধরতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এক একটি মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ চুরি কিংবা ছিনতাইয়ের পর সঙ্গে সঙ্গে তা দ্রুত সময়ের মধ্যে বিক্রি করে দিত। কোন ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার আগেই তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোনগুলো ক্রেতাদের হাতে চলে যেত। এ ছাড়া যখন কোন ব্যক্তি কম দামে কোন মোবাইল পাচ্ছে, তখন তারা অন্যান্য বিষয় চিন্তা না করে এসব মোবাইল কিনে নিয়ে যাচ্ছে। পরে এসব চোরাই মোবাইল কিনে অনেকেই নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। চোরাই মোবাইল কেনার অপরাধে আইনের আওতায় আসছেন তারাও।’ তিনি বলেন, ‘আমরা বলব, যারাই কম দামে মোবাইল বা ল্যাপটপ কিনবেন, কেনার আগে বিক্রেতার একটি জাতীয় পরিচয়পত্র এবং ক্যাশমেমো রয়েছে কিনা, এসব তথ্য সংগ্রহে রাখবেন। এসব বিষয় থাকলে পরে কোন ধরনের আইনী ঝামেলার সম্মুখীন হতে হবে না।’