ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ২০ মে ২০২৪, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

কিয়েভকে ইসরাইলের মতো সহায়তা করবে না যুক্তরাষ্ট্র

ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র ফুরিয়ে গেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:১৯, ১৭ এপ্রিল ২০২৪

ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র ফুরিয়ে গেছে

ইউক্রেনের একটি ভ্রাম্যমাণ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতির কারণে গত সপ্তাহে রাশিয়ার একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করা যায়নি। ওই হামলায় রাজধানী কিয়েভ অঞ্চলের বৃহত্তম বিদ্যুৎকেন্দ্র বিধ্বস্ত হয়েছে। বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম পিবিএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেছেন। খবর রয়টার্সের।
এদিকে মিত্র দেশগুলোর সাহায্য নিয়ে ইরানের নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা রুখে দেওয়ার দাবি করেছে ইসরাইল। রুশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে মিত্রদেশগুলোর কাছে একই সাহায্যের আহ্বান জানিয়েছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তবে যুক্তরাষ্ট্র সে আহ্বানে সাড়া দেয়নি। বুধবার মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কৌশলগত যোগাযোগবিষয়ক সমন্বয়কারী জন কিরবি ইউক্রেনকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সহায়তার কথা নাকচ করে দেন।

ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ঘাটতি নিয়ে দেশটির সরকারের একাধিক সতর্কতামূলক বক্তব্যের পর জেলেনস্কি এসব কথা জানালেন। রাশিয়া দেশটির জ্বালানি ব্যবস্থায় হামলা জোরদার করার পর তা ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী। 
এদিকে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে ৫০ হাজার রুশ সেনা নিহত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। বুধবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই মৃত সেনাদের তথ্য সংগ্রহ করে আসছে বিবিসির প্রতিবেদকরা। তাদের সংগ্রহ করা এসব তথ্যের ওপর ভিত্তিতে করে একটি সমীক্ষা প্রকাশ করা হয়েছে। ওই সমীক্ষায় এমন দাবি করেছে বিবিসি। তাদের দাবি করেছে, নিহত সেনার প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। তবে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে রুশ কর্তৃপক্ষ।
গত মার্চের মাঝামাঝি থেকে ইউক্রেনের গ্রিড ব্যবস্থায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সমন্বয়ে হামলা জোরদার করেছে রাশিয়া। ২০২২ সালে ইউক্রেনে সর্বাত্মক আক্রমণ শুরুর পর এই নিয়ে দ্বিতীয়বার দেশটির জ্বালানি ব্যবস্থায় টানা হামলা করে আসছে রুশ বাহিনী। আগের বারের তুলনায় এবারের হামলা বেশি ধ্বংসাত্মক। সাম্প্রতিক হামলার ফলে ইউক্রেন ৭ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা হারিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ও সঞ্চালন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমেছে।

মস্কো বলছে, ইউক্রেনের লড়াইয়ের সক্ষমতা হ্রাস এবং রাশিয়ার অভ্যন্তরে সাম্প্রতিক হামলার প্রতিশোধে এসব আক্রমণ পরিচালনা করা হচ্ছে। পশ্চিমা মিত্ররা ইউক্রেনে অতিরিক্ত আকাশ প্রতিরক্ষা পাঠাতে খুব আগ্রহী নয়। ইউক্রেন বলে আসছে, পুরো দেশকে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র থেকে রক্ষার জন্য অন্তত ২৫টি প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা প্রয়োজন। ইউক্রেনের জরুরি তাগাদার পর জার্মানি আরেকটি প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

×