ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১

বাংলাদেশি জনপ্রতিনিধিদের কবলে মিশিগানের হেমট্রামিক সিটি কাউন্সিল 

যুক্তরাষ্ট্র (মিশিগান) থেকে 

প্রকাশিত: ১১:০৯, ২৭ মার্চ ২০২৩

বাংলাদেশি জনপ্রতিনিধিদের কবলে মিশিগানের হেমট্রামিক সিটি কাউন্সিল 

নব নিযুক্ত হেমট্রামিক সিটি কাউন্সিলের কাউন্সিলম্যান আবু আহমেদ মুসা শপথ নিচ্ছেন। 

মেধা, প্রজ্ঞা, ভালোবাসা, মানবিকতা ও ঐক্যবদ্ধ থাকলে যে কোনো প্রত্যাশার জয় অবশ্যাম্ভাবী নিঃসন্দেহে। তেমনই একটি উদাহরণ হলো বিশ্বের ক্ষমতাধর শক্তিশালী রাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে বাংলাদেশিদের উত্থান। আর সেটি হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট রাজ্য মিশিগানের হেমট্রামিক সিটি কাউন্সিল,যা এখন বাংলাদেশি ও মুসলিম সম্প্রদায় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ন্ত্রণে। সর্বশেষ সিলেটের গোলাপগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা আবু আহমেদ মুসা সংশ্লিষ্ট সিটি কাউন্সিলের কাউন্সিলম্যান নিযুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে একজন প্রো-মটেমসহ অন্তত চার বাংলাদেশি কাউন্সিলম্যান এখন এই গুরুত্বপূর্ণ সিটি পরিচালনার দায়িত্ব পেলেন। 

তারা হলেন, বাংলাদেশি বংশোভূত চট্রগ্রামের কৃতি সন্তান প্রো-মটেম ও কাউন্সিলম্যান কামরুল হাসান, সিলেট সদর দক্ষিণ সুরমা এলাকার কৃতি সন্তান কাউন্সিলম্যান নাঈম লিওন চৌধুরী ও সিলেটের গোলাপগঞ্জ এলাকার আরেক কৃতি সন্তান মুহিত মাহমুদ। যিনি (মুহিত) হবিগঞ্জের জামাই হিসেবে পরিচিত। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট সিটি কাউন্সিল চেম্বারে সিলেটের ওই এলাকার বাসিন্দা মিশিগানের কমিউনিটি লিডার মো. আবু আহমেদ মুসা শপথ গ্রহণ করেন। নব নিযুক্ত এই বাংলাদেশিকে শপথ পাঠ করান সিটি ক্লার্ক রানা ফরাজ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, মেয়র আমির বদর গালিব, প্রো-মটেম কাউন্সিলম্যান কামরুল হাসান, কাউন্সিলম্যান নাঈম লিওন চৌধুরী, কাউন্সিলম্যান মুহিত মাহমুদ, পুলিশ প্রধান এনা  ময়েসসহ সিটি কাউন্সিলের গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য কর্মকর্তা ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা। মুসা কাউন্সিলম্যান হওয়ার মধ্য দিয়ে এই সিটিতে বাংলাদেশি জনপ্রতিনিধির সংখ্যা দাড়াল এখন চার জনে।

সংশ্লিষ্ট সিটি কাউন্সিলে বাংলাদেশিদের অবস্থান সর্বোচ্চ এবং সর্বত্র আলোচনার কেন্দ্র বিন্দু। তবে একই সিটির মেয়র রয়েছেন ইয়েমেনি বংশোভূত মুসলিম সম্প্রদায়ভুক্ত মো. আমির বদর গালিব। এ ছাড়াও রয়েছেন আরো দু'জন ইয়েমেনি বংশোভূত কাউন্সিলম্যান যথাক্রমে খলিল রাফাই ও মোহাম্মেদ আল সুমাইরী। ফলে নিয়মানুযায়ী মেয়র পদসহ আরো ছয়জন মুসলিম কাউন্সিলম্যান এই সিটি পরিচালনা করছেন। যা বাংলাদেশিদের জন্য শুধু গর্বের নয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা। শুধু তাই নয়, একটি অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশি, মূল আমেরিকান ও অন্যান্য ভিনদেশীয়দের মাঝে বাংলাদেশি ও মুসলিম অবস্থান ভবিষ্যতের জন্য আরও নতুন উপহার এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য ধারাবাহিক কোনো বড় পদে বাংলাদেশিদের অধিষ্ঠিত হওয়া এমন বার্তার ইঙ্গিত বহন করছে।

মিশিগান হেমট্রামিক এলাকার বাংলাদেশি বংশোভূত বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মহসিন তালুকদার টিপুসহ অনেকের মতে, মেধা ও নানান অভিজ্ঞতায় ভরপুর পরিশ্রমী ও আন্তরিকতায় সুপরিচিত জাতি প্রবাসী বাংলাদেশিরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে এবং যে কোনো ধরণের আইন শৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে বরং সামাজিক কর্মকাণ্ড আর ধর্মীয় মূল্যবোধের আওতায় সংশ্লিষ্ট রাজ্যের নাগরিকদের সুখ-দুঃখে পাশে দাড়ালে আগামীতে এই সিটি কাউন্সিলের মূল মেয়র পদটিতে বাংলাদেশিরা জয়লাভ করা কোনো কঠিন বিষয় নয়। তবে এখন পর্যন্ত এই পদে বাংলাদেশিদের বিজয়ী হওয়ার প্রধান বাধা হচ্ছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্য থেকে সামাজিক, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে এক শ্রেণির নেতাদের মাঝে প্রকাশ্য ও গোপন দ্বন্দ্ব। যে কারণে এই সুযোগে ইয়েমেনীরা ভোটের ভাগে এগিয়ে যান এবং গুরুত্বপূর্ণ মেয়র পদটিতেও গেল নির্বাচনে তারা জয়লাভ করেন। বর্তমান এই মেয়র গালিব সদা হাস্যোজ্জ্বল ও অমায়িক ব্যবহারের কারণে সবশ্রেণির নাগরিকদের কাছে এখন পর্যন্ত বেশ জনপ্রিয়। 

এ দিকে, আবু মুসা ওই দিন শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তৃতীয়বার কাউন্সিলম্যান হওয়ায় তার হেট্রিকে বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট সিটিতে সর্বমোট চার বাংলাদেশির অবস্থান এখন শুধু মিশিগান নয় টক অব দ্যা যুক্তরাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। এমন অবস্থান নিয়ে মিশিগানে বসবাসরত সংশ্লিষ্ট প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে বইছে আনন্দের জোয়ার। বিশেষ করে মুসলমানদের উত্থান এখানকার সবশ্রেণির নাগরিকদের ভিতকে যেন প্রবলভাবে নাড়া দিচ্ছে। যা আগামীতে মূল আমেরিকান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রাথীদের জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে ভোটের ময়দানে বাংলাদেশিরা বড় ধরণের ফ্যাক্টর হিসেবে আবির্ভুত হবে।

এখানকার পর্যবেক্ষক মহলের ধারণা এবং এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপচারিতায় নানা শ্রেণির ভোটটারদের মতে, বাংলাদেশিদের এই বিজয় ধরে রাখা এবং আরো বেগবান করে মূল মেয়র পদ ছিনিয়ে আনতে হলে রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বিকল্প নেই। ফলে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে প্রকাশ্য ও গোপনে চলা সৃষ্ট দ্বন্দ্ব নিরসন কল্পে দ্রুত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে একটি সম্মিলিত সংলাপ হওয়া বাঞ্চনীয়। আর এই সংলাপের মাধ্যমে বেরিয়ে আসা কার্যকরী ফর্মুলা যোগ করে ঐক্যবদ্ধ হলেই হেমট্রামিক সিটি কাউন্সিলের মেয়র পদটিও বাংলাদেশিদের অনুকূলে আসবে।
 
এ দিকে, একই রাজ্যের আরো দু'টি গুরুত্বপূর্ণ সিটি কাউন্সিল হচ্ছে ডেট্রয়েট ও ওয়ারেন। এই সিটি কাউন্সিলগুলোতে প্রচুর বাংলাদেশিরা বাস করেন। সেই সঙ্গে মূল আমেরিকানদের সঙ্গেও রয়েছে বাংলাদেশি কমিউনিটি লিডার ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের বেশ সখ্যতা। এই দু'টি সিটি কাউন্সিলে বাংলাদেশিদের তেমন অবস্থান না থাকলেও আসছে ওয়ারেন সিটি কাউন্সিল নির্বাচনে ২নং ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলম্যান পদে ইতোমধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুবক ও উদীয়মান সমাজসেবক টেকনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার এবং সিলেটের বিয়ানীবাজার এলাকার সন্তান কবির হোসেন। তার এই ঘোষণায় ইতোমধ্যে ওয়ারেনসহ মিশিগানের বাংলাদেশিদের মাঝে আলোচনার ঝড় তুলেছে।

এমএইচ

×