ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১

ইবি রেজিস্ট্রারের নগ্ন ‘ভিডিও কল’ ভাইরাল

ইবি সংবাদদাতা 

প্রকাশিত: ১৪:৫১, ২ জুন ২০২৪

ইবি রেজিস্ট্রারের নগ্ন ‘ভিডিও কল’ ভাইরাল

আলী হাসান।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এইচ এম আলী হাসানের চেহারাসদৃশ একটি নগ্ন ভিডিও কল ভাইরাল হয়েছে। গত শনিবার (১ জুন) ‘ইবির ত্রাস’ নামক ফেসবুক আইডি থেকে এ সম্বলিত একটি পোস্ট করা হয়। ওই পোস্টে গুগল ড্রাইভ ব্যবহার করে ভিডিও কলের স্ক্রিন রেকর্ড সম্বলিত একটি ভিডিও সংযুক্ত করা হয়। এক মিনিট ৩৩ সেকেন্ডের এ ভিডিওতে একদিকে রেজিস্ট্রার এবং অন্যদিকে অজ্ঞাত এক নারীকে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা গেছে। এ নিয়ে ক্যাম্পাসে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। 

এ ঘটনায় বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে তার শস্তির দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তবে ভিডিওটি আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ব্যবহার করে এডিট করা হয়েছে বলে দাবি রেজিস্ট্রারের।

এদিকে রেজিস্ট্রারের বিভিন্ন সময়ে লেনদেন সংক্রান্ত অডিও’র বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ এবং সর্বশেষ নগ্ন ভিডিও ভাইরালের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন ও তাকে সাময়িক অব্যাহতি প্রদানের দাবি জানিয়েছে বিশ্কবিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষক সংগঠন শাপলা ফোরাম। রবিবার (২ জুন) বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত সংগঠনটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। 

সভা শেষে সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্মন ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানা গেছে। পরে উপাচার্যের সাথে সাক্ষাৎ করে সংগঠনটির সদস্যরা লিখিতভাবে একই দাবি উত্থাপন করেন।

চিঠিতে তারা বলেন, এমন একটি অশ্লীল ভিডিও প্রকাশিত হওয়ার ফলে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সভা ও দাপ্তরিক কাজে তার উপস্থিতি একটি বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। এমতাবস্থায় প্রকাশিত ঘটনার সত্যাসত্য উদঘাটিত না হওয়া পর্যন্ত রেজিস্ট্রার পদ থেকে তাকে সাময়িক অব্যাহতি প্রদান ও যাচাইয়ের জন্য তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। 

এছাড়া রেজিস্ট্রারের এক ঠিকাদারের সাথে অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে একটি অডিও প্রকাশিত হওয়ার ফলে একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। কমিটির তদন্ত রিপোর্ট এখনো প্রকাশ হয়নি। সেই রিপোর্ট দ্রুত প্রকাশ করার দাবি জানান তারা।

ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এইচ এম আলী হাসান বলেন, আমি ভিডিওটি দেখেছি। একটি কুচক্রী মহলের চক্রান্ত এটি। ভিডিওটিতে আমার মাথা কেটে লাগানো হয়েছে। আমি এক্সপার্ট অনেকের সাথে কথা বলেছি। তারা বলেছে এটা আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ব্যবহার করে এডিট করা হয়েছে। নিচের দিকে এক হিন্দু লোকের বডি লাগানো হয়েছে। বডি পার্টের সঙ্গে আমার বডি পার্টের কোনো মিল নেই। আমি কোনো আইনগত পদক্ষেপে যাচ্ছি না। ন্যাচারালি এর শাস্তি তারা পাবে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, যা শুনেছি, এ সমস্ত ডার্টি (নোংরা) ভিডিও আমি দেখতেও চাই না। শুধু ফাঁস হলেই বিষয়টা আমলে নেওয়ার কোনো কারণ নেই। তাছাড়া ভিসি, প্রো-ভিসি, ট্রেজারার, প্রক্টর থেকে শুরু করে সবাই এখানে চোর এ জাতীয় অডিও মাঝে-মধ্যেই আসে। এ জাতীয় কাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়। ফেসবুকে পোস্ট না দিয়ে আমাকে সরাসরি আবেদন দিয়ে বলুক তারা এই কাজ করেছে। সত্যতা পেলে আমি ব্যবস্থা নেব। 

প্রসঙ্গত, এর আগে ঠিকাদারের সঙ্গে ইবি রেজিস্ট্রারের কন্ঠ সদৃশ ‘অর্থ লেনদেন সংক্রান্ত’ আলাপন ফাঁস হয়। এসব ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ছাড়া তেমন কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। এছাড়া তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও তা আর আলোর মুখ দেখেনি।

 এসআর

×