ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ১৯ মে ২০২৪, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

আল আমিনের বিন্দু পাঠাগার

আজহার মাহমুদ

প্রকাশিত: ০০:২৯, ২৮ মে ২০২৩

আল আমিনের বিন্দু পাঠাগার

একজন মানুষকে সহজেই আলোকিত করে তুলতে পারে

বই এমন একটি উপকরণ, যা একজন মানুষকে সহজেই আলোকিত করে তুলতে পারে। শিক্ষার আলো, নীতি- নৈতিকতা-আদর্শ, ইতিহাস-ঐতিহ্য, কৃষ্টি-সভ্যতা, সাহিত্য-সংস্কৃতিসহ সবটাই রয়েছে বইয়ের ভেতরে। একমাত্র বইয়ের মধ্যেই আছে সব ধরনের জ্ঞান। তাই জীবনের জন্য বই প্রয়োজন। আর এ কারণেই নিজ প্রচেষ্টায় ১২টি পাঠাগার তৈরি করেছেন পঞ্চগড়ের আল আমিন। জ্ঞানভিত্তিক সমাজ, উন্নতজাতি গঠনে বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। আর সেই লক্ষ্য নিয়েই বিভিন্ন উদ্ভাবনী পাঠাগার তৈরি করে যাচ্ছেন আল আমিন।
পঞ্চগড় সদরে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম স্মৃতি পাঠাগার ছাড়াও আরও বিভিন্ন স্থানে পাঠাগার স্থাপন করেছেন তিনি। বিন্দু সেলুন পাঠাগার,  বিন্দু স্টেশন পাঠাগার, বিন্দু ক্যাফে  পাঠাগার এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও বই পড়া অভ্যাস তৈরিতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে বই পড়ার গুরুত্ব শীর্ষক আলোচনা ও বিনামূল্যে বই উপহার দেন তিনি।  
আল আমিন বাংলাদেশের সর্বউত্তরের প্রান্তিক জনপদ পঞ্চগড়ে বসবাস করেন। বর্তমানে উক্ত জেলার মকবুলার রহমান সরকারি কলেজ বাংলা বিভাগে স্নাতক চতুর্থ বর্ষে পড়াশোনা করছেন। 
আল আমিন জানান, তিনি যখন নবম-দশম শ্রেণীতে পড়েন তখন প্রমথ চৌধুরীর ‘বই পড়া’ ও  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধ পাঠ করে বই পড়া ও পাঠাগারের গুরুত্ব অনুধাবন করেন। এরপর নিজ ইচ্ছায় পাঠাগার স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন। নিম্নবিত্ত পরিবারের ছেলে বলে পাঠাগার স্থাপন করতে তার সময়ও লেগেছে বেশ। তার লালিত স্বপ্নটা বাস্তবে পরিণত হয় ২০১৯ সালে। নিজের জমানো ৫৫০০ টাকায় ৬৭ টি বই নিয়ে পাঠাগার স্থাপন করেন তিনি। বর্তমানে তার পাঠাগারে ৪১০০টি বিভিন্ন ধরনের বই রয়েছে। উক্ত পাঠাগারের নাম রাখেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম স্মৃতি পাঠাগার। মূলত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা, প্রবন্ধ,  গান শুনে তাঁর মানবতাবাদী, সাম্যবাদী, বিদ্রোহী ও বিপ্লবী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে পাঠাগারের নাম রাখেন বলে জানান আল আমিন।

পাঠাগারটি পরে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জেলা সরকারি গ্রন্থাগার হতে নিবন্ধন পায় বলেও জানান তিনি। বর্তমানে একটি টিনের চালা ছোট্টঘরে পাঠাগারের কার্যক্রম চলছে। এছাড়াও আল আমিন পঞ্চগড় শহরে ০৫ টি সেলুনে পাঠাগার গড়েছেন। বর্তমানে তার সেলুন পাঠাগারগুলো সেলুনের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে। মূলত বইপ্রেমিরাই তার পাঠাগারের এসব বই পড়ছেন। এ বিষয়ে সেলুন মালিক আলমগীর বলেন, ‘সেলুনে আল আমিন ভাই পাঠাগার তৈরি করে দেওয়ার পর অনেক মানুষ এখানে বসে ও বাড়িতে নিয়ে বই পড়ছেন।’

×