ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ০৩ অক্টোবর ২০২২, ১৮ আশ্বিন ১৪২৯

কাজের ধীর গতি

ভোগান্তিতে জবির দর্শন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

জবি সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ২০:১৭, ১১ আগস্ট ২০২২

ভোগান্তিতে জবির দর্শন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দর্শন বিভাগের চলমান সংস্কার কাজের জন্য বিভাগজুড়ে রাখা হয়েছে নির্মাণ সামগ্রী। ক্লাসরুম ও সেমিনারের সামনে স্তূপ আকারে রাখা হয়েছে বালু। পাশেই রয়েছে টাইলসের প্যাকেট। 

এতে করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক চলাচলেও সৃষ্টি হয়েছে ভোগান্তি। আর ক্লাসরুমের ভেতরেই রাখা হয়েছে রঙের বালতি, পড়ে আছে ইট ও জানালার ভাঙা অংশ। ফলে  ক্লাসে পাঠদানের স্বাভাবিক পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে। 

আর বিভাগে এভাবে বালুর স্তূপ ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি রাখায় সেটি এখন কনস্ট্রাকশন সাইটের মত রূপ নিয়েছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। প্রায় দুই মাস ধরে সংস্কার কাজ চললেও কবে নাগাদ সেটি শেষ হবে তা নিয়েও রয়েছে শঙ্কা। 

তবে ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি দ্রুতই কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।  জানা যায়, আশির দশকেরও আগে নির্মিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান কলা ভবনটির চতুর্থ তলায় অবস্থিত দর্শন বিভাগ। বিভাগটিতে প্রায় ৬শতাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। শ্রেণিকক্ষ, সেমিনার ও শিক্ষকদের বসার কক্ষের বিভিন্ন জায়গায় ফাটল দেখা দেয় এবং ছাদের বিভিন্ন অংশ থেকে খসে পড়ে পলেস্তারা। 

যার মধ্যে ক্লাস চলার সময়েও বেশ কয়েকবার শিক্ষার্থীদের গায়ের ওপর ঝরে পড়ে ধুলাবালি ও পলেস্তারা। পরবর্তীতে অতি দ্রুত বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিভাগের সবকিছু সংস্কার করার দাবি জানান। যারই পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দফতরের তত্ত্বাবধানে সংস্কার কাজের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

গত জুন মাসে বিভাগের সার্বিক অবকাঠামো সংস্কার কাজ শুরু হয়। যার মধ্যে রয়েছে ইলেকট্রিক, স্যানিটারি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষকদের রুম ও ক্লাসরুম, সেমিনার সংস্কার প্রভৃতি কাজ। 

এই প্রকল্পের মূল্য প্রায় ২৫ লাখ টাকা বলে জানা গেছে। সংস্কার কাজ শুরু হবার পরই বালু, টাইলস, রঙ ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি বিভাগে রাখা হয়। 

এতে করে সৃষ্টি হয়েছে কৃত্রিম সংকীর্ণতা। আর এসব কারণে ঈদ উল আযহার পর সশরীরে ক্লাসে না ফিরে অনলাইন ক্লাসে ফিরতে হয়েছিল বিভাগটিকে। তবে এখন আবার অফলাইন ক্লাস চলছে।
বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের চতুর্থ তলায় অবস্থিত দর্শন বিভাগের ৪০০১ ও ৪০০২ নাম্বার ক্লাসরুমের একেবারে দরজার ঘেষেই বালুর স্তূপ। পাশেই টাইলসের ২০-২৫টি প্যাকেট সারিবদ্ধভাবে রাখা। এতে করে ক্লাস ও বারান্দার দেয়ালের মধ্যবর্তী যতটুকু জায়গা আছে তা বন্ধ হয়ে গেছে।

ফলে ক্লাসরুমের সামনে দিয়ে কেউ স্বাভাবিকভাবে হেঁটে যেতে পারছে না। সেমিনারের এক পাশে টাইলস লাগানো হলেও অপর পাশ আগের মতোই রয়েছে। 

ফলে যে জায়গায় টাইলস লাগানো হয়নি সেখানে সেমিনারের টেবিল চেয়ারগুলো উপুড় করে একটি আরেকটির ওপরে রাখা। আর দীর্ঘদিন ধরে এভাবে থাকায় নষ্ট হচ্ছ সেগুলোর গুণগত মান। 

সেমিনারের পাশে থাকা ওয়াশরুমটিরও একই অবস্থা। সেখানেও টাইলস লাগানোর কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি৷ ফ্লোরে পড়ে আছে বালু ও মটরের পাইপ। অপরদিকে ৪০০১ নাম্বার ক্লাসরুমের জানালাগুলো ভেঙে নতুন জানালা লাগানো হচ্ছে। ক্লাসরুমের সামনের দিকে রাখা হয়েছে রঙের বালতি। 

এই রুমে জানালার পাশেই পড়ে আছে ইট ও জানালার ভাঙা অংশ। আর বিভাগের বারান্দাতেই চলছে পানি দিয়ে বালু ও সিমেন্ট মেশানোর কাজ। তবে পুরো ফ্লোরে সংস্কার কাজ চলমান থাকলেও কাজ করছে মাত্র ৫-৬ জন শ্রমিক। 

এতে করেও কৃত্রিম ধীরগতি সৃষ্টি হয়েছে। প্রথমে ক্লাসরুমগুলোর দেয়াল ও ছাদের ভাঙা অংশে পলেস্তার করার কাজের পাশাপাশি জানালা ভেঙে নতুন জানালা লাগানো ও রঙ দেয়ার কাজ করছে শ্রমিকরা। 

আর একইসাথে একাডেমিক কার্যক্রম ও সংস্কার কাজ চলায় শিক্ষক শিক্ষার্থীরা পড়েছে বিড়ম্বনায়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্লাসরুমের সামনে এভাবে স্তূপ আকারে নির্মাণ সামগ্রী থাকায় চলাচল বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। আবার সেমিনারেও কাজ চললে সেখানে যাওয়া যায়না। 

নির্মাণ কাজের আওয়াজ ক্লাসের সময় বিঘ্নতা সৃষ্টি করে। আর কাজের যে নমুনা তাতে তা কবে শেষ হবে সেটি অস্পষ্ট। ফলে বিড়ম্বনা কবে শেষ হবে সেটিও অনিশ্চিত। তাদের দাবি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগে এভাবে বালু ও অন্যান্য সামগ্রী স্তূপ আকারে ফেলে রাখার বিষয়টি বেমানান। দ্রুত সার্বিক সংস্কার কাজ সম্পন্ন করাই হবে এর একমাত্র সমাধান।

কর্মরত কয়েকজন শ্রমিক জানান, এখনো যে পরিমাণ কাজ বাকি আছে তা শেষ হতে কমপক্ষে দেড় থেকে দুই মাস লাগতে পারে। এর চেয়ে কম সময়ে কাজ শেষ হবার কোন সুযোগ নেই। এ বিষয়ে ঠিকাদার কর্মকর্তা মো. শাখাওয়াত হোসেন প্রিন্স বলেন,  সংস্কার কাজ চলছে। তাই বালু, টাইলস ও অন্যান্য জিনিসপত্র রাখা আছে এখনো বিভাগে। 

তবে আমরা চেষ্টা করবো দ্রুতই কাজ শেষ করার। যেন সেই বিভাগে সুন্দরভাবে ক্লাস করতে পারে শিক্ষার্থীরা। দর্শন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. তৌহিদুল হাসান বলেন,  আমরা দুই সপ্তাহ অনলাইনে ক্লাস নিয়েছি সংস্কার কাজের জন্য। ঈদের পর কাজে একটু স্থবিরতা ছিল। 

আমরা এখন অফলাইনে ক্লাস শুরু করেছি। দুটো রুমে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে৷ সেখানে কোন সমস্যা হচ্ছেনা। সংস্কার কাজ দ্রুতই শেষ হবে বল আশা করা যায়। বন্ধের দিনে কাজ বেশি হয়।