ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১

লোকসানে শেয়ার ছাড়ছেন অনেকে

শেয়ারবাজারে দরপতন অব্যাহত, ৩৭ মাসে সূচক সর্বনিম্নে

​​​​​​​অর্থনৈতিক রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২২:৫৯, ২৬ মে ২০২৪

শেয়ারবাজারে দরপতন  অব্যাহত, ৩৭ মাসে  সূচক সর্বনিম্নে

.

দেশের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের রক্তক্ষরণ থামছে না। মুদ্রাবাজারে আস্থাহীনতা এবং ডলার সংকটের কারণে প্রতিদিনই বিনিয়োগ করা পুঁজি হারাচ্ছেন শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীরা। কোনো কূল-কিনারা না পেয়ে বিনিয়োগকারীরা শেষ সম্বল রক্ষায় লোকসানে শেয়ার ছাড়ছেন।

টানা পতনের কারণে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ৩৭ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে গেছে। শুধু তাই নয় ডিএসইর লেনদেনও কমে সাড়ে চার মাসের সর্বনিম্নে চলে এসেছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, করোনাকালেও শেয়ারবাজারে চাঙ্গাভাব ছিল। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শুরুর পর শেয়ারবাজারে বিক্রির চাপ বেড়ে যায়। বিনিয়োগকারীদের পুঁজি রক্ষায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা দরপতনের সর্বনিম্ন সীমা বেঁধে সার্কিট ব্রেকার দিয়ে দেয়। পরে বাজার সংশ্লিষ্টদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সার্কিট প্রত্যাহার করা হয়। এই সার্কিট প্রত্যাহারের পর থেকেই শেয়ারবাজারে দরপতন চলতে থাকে। এখনো যা অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে দরপতনের সর্বনিম্ন সীমা শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। এরপরেও পতন থেমে নেই। এই  পরিস্থিতিই চলছে বিগত কয়েক মাসে।

এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সবকয়টি মূল্যসূচকের বড় পতন হয়েছে। এর মাধ্যমে টানা ১০ কার্যদিবস পতনের মধ্যে থাকল শেয়ারবাজার। এতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান মূল্যসূচক কমে ৩৭ সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্নে চলে এসেছে। মূল্যসূচকের অব্যাহত দরপতনের পাশাপাশি শেয়ারবাজারে লেনদেন খরাও দেখা দিয়েছে। ডিএসইতে লেনদেন কমে তিনশ কোটি টাকার ঘরে চলে এসেছে। এতে সাড়ে চার মাসের মধ্যে ডিএসইতে সর্বনিম্ন লেনদেন হলো।

শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, মুদ্রাবাজারের প্রতি আস্থাহীনতা শেয়ারবাজারকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বিনিয়োগকারীরা ভালো কোম্পানিও এখন কিনতে সাহস পাচ্ছে না। ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকট এবং ডলারের রিজার্ভ নিয়ে গুজবের কারণে বিনিয়োগকারীরা হাতে  থাকা শেয়ার  বিক্রি করছেন। নিয়ন্ত্রক সংস্থার উচিত হবে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো এবং আগামী বাজারকে যতটা সম্ভব পুঁজিবাজারবান্ধব করা যায় সেটার চেষ্টা করা।

রবিবার শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ইউনিটের দাম কমার মাধ্যমে। বেশিরভাগ কোম্পানির দর কমার কারণে সকালেই ঋণাত্মক হয়ে পড়ে সূচক। লেনদেনের সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দরপতনের মাত্রাও বাড়তে থাকে। এতে লেনদেনের একপর্যায়ে ডিএসইর প্রধান সূচক ৮৩ পয়েন্ট কমে যায়। তবে লেনদেনের শেষদিকে কিছু প্রতিষ্ঠানের ক্রেতা ফিরে আসে। ক্রেতার চাপ বাড়ার কারণে সূচকের পতনের মাত্রা কিছুটা কমলেও সূচক ইতিবাচক হতে পারেনি। অবশ্য এরপরও বড় পতনের হাত থেকে রক্ষা পায়নি সূচক।

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে দাম বেড়েছে মাত্র ৩১ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ইউনিটের। এর বিপরীতে দাম কমেছে ৩২২ প্রতিষ্ঠানের। ছাড়া ২৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ফলে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৬১ পয়েন্ট কমে হাজার ২৫০ পয়েন্টে নেমে গেছে। এর মাধ্যমে ২০২১ সালের ১২ এপ্রিলের পর সূচকটি সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে গেল। ২০২১ সালের ১২ এপ্রিল ডিএসইর প্রধান সূচক ছিল হাজার ১৮৮ পয়েন্ট। এরপর সূচক আর এত নিচে নামেনি।

অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়া সূচক আগের দিনের তুলনায় ১৩ পয়েন্ট কমে এক হাজার ১৪৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ছাড়া বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১৮ পয়েন্ট কমে এক হাজার ৮৮৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

সবকয়টি মূল্যসূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৩২২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৫০৮ কোটি টাকা। সে হিসাবে ১৮৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা লেনদেন কমেছে। লেনদেন শুধু আগের দিনের তুলনায় কমেনি, চলতি বছরের জানুয়ারির পর হয়েছে সর্বনিম্ন লেনদেন।

×