ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১

প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক

এডিবির কাছে আরও বাজেট সহায়তা চেয়েছেন অর্থমন্ত্রী

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২৩:৫৮, ২ এপ্রিল ২০২৪

এডিবির কাছে আরও বাজেট সহায়তা চেয়েছেন অর্থমন্ত্রী

এডিবির কাছে আরও বাজেট সহায়তা চেয়েছেন অর্থমন্ত্রী

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কাছে আরও বাজেট সহায়তা চাওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরে ৪০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা দিবে সংস্থাটি। তবে অর্থবিভাগ আশা করছে এডিবি তাদের বাজেট সহায়তার পরিমাণ আরও বাড়াবে। জুন মাসে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করা হবে। নতুন বাজেট বাস্তবায়নেও আন্তর্জাতিক এই ঋণ সংস্থা থেকে বাজেট সহায়তা পাওয়া যাবে। বাজেট সহায়তার এই অর্থ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির আওতা বাড়াতে সহায়তা করবে বলে মনে করা হচ্ছে। 
সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় দেশের দরিদ্র মানুষের সংখ্যা শূন্যর কোঠায় নামিয়ে আনা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিধবা-বয়স্কভাতা প্রদান, উপবৃত্তি এবং গৃহহীনদের জন্য ঘর তৈরিতে সারাদেশে আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এডিবির বাজেট সহায়তায় সামাজিক নিরাপত্তা বলয় আরও সুরক্ষিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ছাড়া ক্রমান্বয়ে কমতে থাকা বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের তহবিল বাড়াতে সহায়তা করবে এডিবির বাজেট সহায়তা।

এডিবি ভাইস প্রেসিডেন্ট (সেক্টর ও থিমস) ফাতিমা ইয়াসমিনের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করে বাজেট সহায়তা চান অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। মঙ্গলবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর দপ্তরে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অর্থ বিভাগের সচিব মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী ও অর্থ সচিব সাংবাদিকদের এডিবির কাছে আরও বাজেট সহায়তা চাওয়ার বিষয়টি জানান। আর এডিবি ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।
অর্থমন্ত্রী  বলেন, আমরা এডিবির বার্ষিক সম্মেলনে যাচ্ছি। সেখানে আরও আলোচনা হবে। কিন্তু এ পর্যন্ত আমরা খুবই খুশি। যেভাবে উন্নত হচ্ছে আমাদের বোঝাপড়া, তারা আমাদের প্রয়োজন বুঝতে পারছে। আমরা খুবই সন্তুষ্ট। এ সময় অর্থ সচিব বলেন, এডিবি আমাদের ৫০ বছরের বন্ধু। আমরা এডিবির কাছ থেকে ফান্ড পেয়ে আসছি, ভবিষ্যতে যেন আরও ফান্ড পাওয়া যায়, সেজন্য স্যার (অর্থমন্ত্রী) অনুরোধ করছে।

বিশেষ করে বাজেট সাপোর্ট আমাদের নতুন উইন্ডো, বাজেট সাপোর্টে এডিবি আমাদের অনেক হেল্প করেছে। তিনি বলেন, করোনার সময় আমাদের বাজেট সাপোর্টে  দেওয়া হয়। এর ফলে আমরা অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করতে পারছি। এই বাজেট সাপোর্ট যেন আরও বাড়ে সেজন্য তাদের অনুরোধ করা হয়েছে। আরও বাজেট সাপোর্টে চাওয়ার প্রেক্ষিতে এডিবির পক্ষ থেকে কী বলা হয়েছে? সাংবাদিকরা এমন প্রশ্ন করলে ফাতেমা ইয়াসমিন বলেন, আলোচনা করছি আমরা।

এদিকে চলতি বছরের জন্য এরই মধ্যে বাংলাদেশকে ৪০ কোটি ডলার (বাংলাদেশী মুদ্রায় চার হাজার কোটি টাকার বেশি) বাজেট সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এডিবি। গত বছরের ১১ ডিসেম্বরে এ বিষয়ে চুক্তি সই হয়। এর বাইরে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছ থেকে থেকেও ৯ কোটি ডলারের বাজেট সহায়তার প্রতিশ্রুতি পাওয়া  গেছে।
উল্লেখ্য, সরকার প্রতিবছর যে বাজেট ঘোষণা করে, তার পুরোটা দেশীয় উৎস থেকে মেটানো সম্ভব হয় না। নির্ভরশীল হতে হয় বৈদেশিক ঋণের বাজেট সহায়তার জন্য। অভ্যন্তরীণ উৎসে সম্পদ অর্জন ও রাজস্ব আয় কম হওয়ায় বিদেশী ঋণদাতা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে ঋণ নেয় সরকার। চলতি অর্থবছরের বাজেটে শেষের দিকে এসেও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। এরই ধারাবাহিকতায় এডিবির কাছ থেকে বাজেট সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।

বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভের পরিমাণ ২ হাজার কোটি ডলারের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। আইএমএফের ঋণ পেতে রিজার্ভের পরিমাণ আরও বাড়াতে হবে। এ ছাড়া এ বাজেট সহায়তা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ কমাতে সহায়তা হিসেবে কাজ করছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, বাংলাদেশ সরকারকে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৭৫৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার ঋণ দিয়েছে এডিবি। বাংলাদেশে উন্নয়ন সহায়তার ক্ষেত্রে এডিবি বিদ্যুৎ, শিক্ষা, পরিবহন, জ্বালানি, পানিসম্পদ, কৃষি, স্থানীয় সরকার, সুশাসন, আর্থিক ও বেসরকারি খাতকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে।

তবে বাজেট সহায়তার এ অর্থে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বের মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে ডলার সংকট তৈরি হয়। এই সংকট থেকে মুক্ত নয় বাংলাদেশ। এ কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাংকের দেওয়া বাজেট সহায়তা যোগ হওয়ার পর এ রিজার্ভ বেড়েছিল বলে জানিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। 
জানা গেছে, উন্নয়ন সংস্থাগুলো সাধারণত উন্নয়ন প্রকল্পের অনুকূলে ঋণ দিয়ে থাকে। এ ধরনের অর্থসহায়তা  পেতে নির্দিষ্ট একটি প্রকল্প তৈরি করতে হয়। এরপর ওই প্রকল্প ধরে দাতাদের সঙ্গে দর-কষাকষি চলে। কিন্তু বাজেট সহায়তার অর্থ দিয়ে সরকার নির্দিষ্ট কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করে না। বাজেট সহায়তার অর্থ সরকার  যেকোনো খাতে খরচ করতে পারে।

তাই অর্থনীতির চাপ সামলাতে বাজেট সহায়তার অর্থ নেওয়া সরকারের জন্য বেশি সুবিধাজনক। তবে এ জন্য কিছু শর্ত পূরণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এডিবির সঙ্গে এখন বাজেট সহায়তার  যে দর-কষাকষি হয়েছে, তাতে বেশকিছু শর্ত রয়েছে। যেমন ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন, জ্বালানির দাম নির্ধারণ, ভর্তুকিসহ বিভিন্ন খাতে নীতি সংস্কারের ব্যাপারে তাগিদ দিয়েছে সংস্থাটি। এসব শর্ত কতটা বাস্তবায়িত হলো, তা নিয়মিত নজরে রাখবে এডিবি। বাজেট সহায়তার জন্য কোনো খাত দেখাতে না হলেও এডিবিকে বাজেট সহায়তার অর্থের খরচের খাত জানাতে হয়।

×