ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ৩০ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

বাজেট আলোচনায় সিপিডি

রাজনৈতিক উপাদান বিবর্জিত আমলাতান্ত্রিক বাজেট

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ০০:৫৪, ৮ জুন ২০২৩

রাজনৈতিক উপাদান বিবর্জিত আমলাতান্ত্রিক বাজেট

নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক এবং বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি)

নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক এবং বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, নির্বাচনী বছরেও নির্বাচনী বাজেট হয়নি। যে বাজেট হয়েছে তা রাজনৈতিক উপাদান বিবর্জিত আমলাতান্ত্রিক বাজেট। বুধবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইন এ এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম ও সিপিডি আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৩-২০২৪ : অসুবিধাগ্রস্ত মানুষগুলো কি পেল?’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সিপিডির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মের কোর গ্রুপ সদস্য অ্যাডভোকেট সুলতানা কামালের সভাপতিত্বে এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সম্মানিত ফেলো ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। এতে আরও বক্তব্য দেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান ও রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘বাজেটের আগে গাম্ভীর্য ছিল, বাজেট এখন অনেক ক্ষেত্রেই প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর অংশ হয়ে গেছে। বাজেটের ভেতর দিয়ে গত ১৫ বছরে সরকারের যে অর্জনগুলো ছিল, শত শত পৃষ্ঠার ভেতর দিয়ে তা মনে দাগ কাটেনি। কারণ ওটাকে আত্মস্থ করে না বলতে পারা। কোন জায়গাতে আমরা বিবর্তনগুলো করেছি, সেটা আর কোথায় ধরা যাবে না।’ এবারের বাজেট প্রণয়নে রাজনীতিবিদ ও নাগরিকদের সম্পৃক্ততা ছিল না বলেও মন্তব্য করেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘এবারের বাজেট প্রণয়নে রাজনীতিবিদ ও নাগরিকদের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। রাজস্ব আহরণের মরিয়া চেষ্টার ফলে যে পদক্ষেপগুলো নেওয়া হচ্ছে, এগুলোকে রাজনৈতিক বিবেচনায় মূল্যায়ন করা হয়েছে বলেও মনে হয় না। এটা যে নির্বাচনী বাজেট না তা লক্ষণীয়। পদক্ষেপগুলো একটি রাজনৈতিক সরকারের বিবেচনায় কতখানি গ্রহণযোগ্য তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে।

এই বাজেট আমলাতান্ত্রিকভাবে রাজস্ব আহরণের প্রয়োজনের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এবার রাজস্ব আদায়ের মরিয়া চেষ্টা দেখা গেছে। সরকারের হাতে খরচ করার মতো টাকাও নেই, ডলারও নেই। সেহেতু খরচ করার টাকা সংগ্রহ করতে চাচ্ছে। কারণ আইএমএফ বলেছে, প্রতিবছর শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বাড়াতে হবে। সেটারও একটি বিষয় রয়েছে। আইএমএফের প্রথম সমীক্ষা হয়ে গেছে। দ্বিতীয় সমীক্ষা বছরের শেষের নাগাদ হবে। দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পেতে হলে বেশ কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে এতো মরিয়া চেষ্টার পরও আধা শতাংশ বর্ধিত করের লক্ষ্যমাত্রা কিন্তু বাজেটে প্রাক্কলন করা সম্ভব হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে যে পদক্ষেগুলো নেওয়া হয়েছে তার অনেকগুলো পদক্ষেপের মধ্যে ২ হাজার টাকা সারচার্জসহ অন্যগুলো নি¤œ মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র মানুষকে প্রভাবিত করবে নেতিবাচকভাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা যেটি নির্ধারণ করতে হচ্ছে তা বর্তমানের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হচ্ছে না।

×