ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ১৯ জুন ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১

৭ দশমিক ২ ভাগ নারী নিজস্ব একাউন্টে মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করছে 

প্রকাশিত: ২০:৩৯, ৪ জুন ২০২৩

৭ দশমিক ২ ভাগ নারী নিজস্ব একাউন্টে মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করছে 

সেমিনারে বক্তারা। 

বিশ্ব ব্যাংক ও জিএসএমএ ২০২২ তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৭.২ ভাগ নারী মোবাইল ব্যাংকিং এমএফএস-এ নিজস্ব একাউন্ট ব্যবহার করছে। আর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এসএফএস-এ সেবা গ্রহণ করছে ২০ ভাগ নারী। 

রবিবার (৪ জুন) ইনোভেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েটস (আইডিয়া) ফাউন্ডেশনের আয়োজনে বঙ্গবন্ধু সামরিক জাদুঘরের সেমিনার হলে ‘জেন্ডার ডাইমেনশন অফ ডিজিটাল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস (ডিএফএস) ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইডিয়া ফাউন্ডেশনের সিনিয়র গবেষক ড. মনজুর হোসাইন। তিনি বলেন, ‘ডিএফএস বাংলাদেশে ২০১০ সালের গোড়ার দিকে শুরু হয় এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে একটি বিপ্লব ঘটিয়েছে। মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেসে (এমএফএস) নারীদের প্রবেশাধিকার আর্থিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে পুরুষ ও নারীদের মধ্যে ব্যবধান কমাতে একটি অনুঘটক ভূমিকা পালন করে। পোশাক শিল্প তৈরি (আরএমজি) এবং অন্য শিল্পখাতের শ্রমিকদের মুজুরি প্রদানে এমএফএস ব্যবহার করা হয়। অনেক চ্যালেঞ্জ থাকার পরও ডিএফএস জনপ্রিয় হচ্ছে। এ সময় তিনি বিভিন্ন পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন।

নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল বলেন, ‘নারী-পুরুষের সমতা নির্মাণে ডিজিটাল ব্যাংকিং সিস্টেম ও মোবাইল ব্যাংকিং সিস্টেম-এর সাথে সংযোগ রেখে নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় নানাবিধ প্রকল্প হাতে নিয়েছি এবং কয়েকটি প্রকল্প ইতোমধ্যে চালু হয়েছে। যেখানে নারীরা এই প্রকল্পসমূহের আওতায় এসে দেশে-বিদেশে পণ্য রপ্তানি করতে পারছে।’   

বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের ইনট্রিম সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার ও জেন্ডার অ্যাডভাইজর স্নিগ্ধা আলী বলেন,‘গবেষণা থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন তথ্য সরকারি ও বেসরকারি সংশ্লির্ষ্ট সকলে মিলে নীতি-নির্ধারকদের সাহায্যার্থে কাজ করে যাচ্ছি। সম্মিলিত প্রয়াসের মূল উদ্দ্যেশ হলো গার্মেন্টস, চা-শিল্প ও গৃহস্থালি কাজে নিয়োজিত সকল নারী শ্রমিকদেরকে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আওতায় এনে ডিজিটাইজ অর্থনীতি তথা স্মার্ট বাংলাদেশ নির্মাণে এগিয়ে যাওয়া। এজন্য দেশে ডমিস্টিক ওয়ার্কারের সংখ্যা ৯.৫ মিলিয়ন, এদেরকেও মূলধারার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে।’

বিশ্বব্যাংকের সাবেক বিকল্প নির্বাহী পরিচালক, সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এর সাবেক চেয়ারম্যান এবং আইডিয়া ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কাজী এম. আমিনুল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল, বিশেষ অতিথি ছিলেন বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের ইনট্রিম সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার ও জেন্ডার অ্যাডভাইজর স্নিগ্ধা আলী।

দেশের মধ্যে এমএফএস-এর এজেন্টশীপ দেয়ার ক্ষেত্রে নারীর জন্য কোটা বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে নিদির্ষ্ট ও নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেয়া হয়। তাছাড়া দাতা সংস্থা থেকে অনেক সময় অনুদান প্রদানে অডিট আপত্তি থাকে যার কারণ হচ্ছে অনুদান গ্রহণ করছে নারী কিন্তু এমএফএস একাউন্ট পুরুষের নামে। এসব বিষয়ে নজদারি এবং সমধানের জন্য সরকারকে নীতি তৈরির জন্য সেমিনারে অনুরোধ জানান আলোচকরা।

সেমিনারের স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইডিয়া ফাউন্ডেশনের মহাসচিব ও সাবেক সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ শহিদুল হক, সঞ্চালনা করেন আইডিয়া ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান এবং প্রাক্তন মুখ্য সচিব ও মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) মো. আবুল কালাম আজাদ। আলোচক ছিলেন বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট-বিল্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফেরদৌস আরা বেগম এবং ডিপার্টমেন্ট অফ ইকোনমিক্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. সায়মা হক বিদিশা। সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন আইডিয়া ফাউন্ডেশন সিনিয়র সমাজবিজ্ঞানী খন্দকার সাখাওয়াত আলী।

উল্লেখ্য, ইনোভেশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট এসোসিয়েটস (আইডিয়া) ফাউন্ডেশন’ বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সহযোগীদের একটি সংস্থা, যারা স্বাধীন গবেষণা, নীতি বিশ্লেষণ, অ্যাডভোকেসি, উপদেষ্টা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে নিযুক্ত।

এমএইচ

×