ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ২৫ জুন ২০২৪, ১১ আষাঢ় ১৪৩১

রুহুল আমিন ভূঁইয়া

মানুষ মানুষের জন্য

প্রকাশিত: ০৬:২৩, ২৫ আগস্ট ২০১৬

মানুষ মানুষের জন্য

মানুষ মানুষের জন্য জীবন জীবনের জন্য। মানুষের বিপদের সময় তার পাশে থেকে সহযোগিতা করাই মানুষের ধর্ম হওয়া উচিত। একটু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে যদি একটি প্রাণ বাঁচে; একজন মানুষ বাঁচার স্বপ্ন দেখে তাতেই হয়ত জীবনের সার্থকতা খুঁজে পাওয়া সম্ভব। বিভিন্ন সময় আমাদের সমাজ-রাষ্ট্রে প্রাকৃতিক দুর্যোগ নেমে আসে। তখন আমাদের সমাজের কিছু মানুষ অসহায় হয়ে পড়ে। ঠিক তখনই তাদের প্রয়োজন হয় সহযোগিতার। মানুষের জন্যই তো মানুষ। সঙ্কটে, বিপদে মানুষই ছুটে এসে সাহায্য করবে এই প্রত্যাশা আমরা করতে পারি। না হলে মানব-জন্ম অনেকটাই অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। আমাদের তরুণ সমাজ এখন অনেক বেশি সচেতন এই কাজে। যার উদাহরণ রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় সবার সম্মিলিত উদ্ধার চেষ্টায়। বিভিন্ন সময় দেখা যায় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম (ফেসবুক) অনেক বন্ধু মিলে সংগঠন করে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ায়। যুদ্ধক্ষেত্র কিংবা অন্যের সেবায় ঝুঁকি নিয়ে থাকেন এমন মানুষের সংখ্যা পৃথিবীতে কম নয়। হোক প্রশিক্ষিত অথবা আনকোড়া, বিপদে ছুটে যায় হাজারো স্বেচ্ছাসেবী। এমন উদাহরণ বাংলাদেশে অনেক। মানুষ তো মানুষের জন্যই। কয়েকদিন আগে একটি নাটকের কাজে উত্তরা গিয়েছিলাম। রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি সামনে দেখতে পেলাম একজন বয়স্ক বৃদ্ধ মহিলা ভিক্ষা করছে। সবাই তার সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে সে সাহায্যের জন্য হাত পাতছে কিন্তু কেউ তাকে সাহায্য দিচ্ছে না। ব্যাপারটি আমি লক্ষ্য করি, তার মুখটা দেখে আমার ভীষণ মায়া লাগল। আমার কাছে তেমন বেশি টাকা ছিল না যা ছিল তা থেকে কয়টি টাকা তাকে দিলাম। আমরা সাধারণত আমাদের স্বার্থ পূর্ণ হওয়ার পরে, সামান্য একটা ধন্যবাদ জানাতেও কার্পণ্য করি, তবে এই বৃদ্ধা কাছে এসে তিনি কিছু বলতে চাইলেও বলতে পারলেন না, মুখে একটা মলিন হাসি আর চোখে সামান্য পানি দেখতে পেয়ে বুঝলাম, আমাকে কৃতজ্ঞতা জানাতে চাচ্ছেন। আসলে অনেকে বলে শহরের ব্যস্ত জীবন আমাদের অনেকটা যান্ত্রিক করে দিয়েছে। কিন্তু সত্যি কি আমরা যান্ত্রিক হয়ে গেছি? কই আমি তো আমার মধ্যে যান্ত্রিকতা দেখতে পাই না। আমি যে ওই বৃদ্ধাকে সাহায্য করলাম, সেটাতে কি আমার খুব ক্ষতি হয়ে গেল? সব কিছু কি টাকা দিয়ে মাপা যায়? যায় না। আমরা চেষ্টা করলেই এই মানুষগুলোর মুখে সামান্য একটা দিনের জন্য হাসি ফোটাতে পারি। সেই হাসি সেই সন্তুষ্টি আমার ও আমাদের আসল অর্জন। মুলাদী, বরিশাল থেকে
×