শনিবার ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২১ মে ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা

ফুলচাষীদের গলার কাঁটা প্লাস্টিকের ফুল

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর অফিস ॥ ফুলের রাজধানী হিসেবে খ্যাত যশোরের ঝিকরগাছা গদখালি এলাকা। এখানে প্রায় সাড়ে ৬শ’ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের ফুল চাষ হয়। যা থেকে দেশের চাহিদার মোট ৬০ ভাগ পূরণ হয়। এখানকার ফুল চাষিরা সারাবছর বিভিন্ন জাতের ফুল চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু তাদের জীবিকার পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্লাস্টিকের ফুল। বাজারে প্লাস্টিক ফুলের আধিপত্য থাকায় চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। যশোরের ঝিকরগাছার পানিসারা গ্রামের ফুল চাষি আশরাফ আলী সম্প্রতি জানান, আমি ২০/২৫ বছর ধরে নিজের দুই বিঘা জমিতে ফুল চাষ করে আসছি। বর্তমানে যেভাবে দেশ উন্নত এবং আধুনিক হচ্ছে সে তুলনায় ফুল চাষ ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাওয়ার কথা, বাজার দর, উৎপাদনের হারও বৃদ্ধি পাওয়ার কথা। কিন্তু তা হয়নি। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দেশের বাইরে থেকে চীনের তৈরি প্লাস্টিকের ফুল আমদানি করছে। আর এই আমদানিকৃত ফুল দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি হয়। ফলে চাষের ফুলের ব্যবহার দিন দিন কমে যাচ্ছে। এতে হতাশ হয়ে পড়েছেন চাষিরা। যশোর শহরের দড়াটানা মোড়ের সিরাজ নামে এক দোকানি জানান, বিভিন্ন উৎসব, অনুষ্ঠান ও দিবসকে ঘিরে ফুল বিক্রি হয় বেশি। আজকাল এক ফুল অনেকবার ব্যবহার করার লক্ষ্যে প্লাস্টিকের ফুলের দিকে ঝুঁকছে মানুষ। তাই প্রত্যাশিত ফুল বিক্রি হচ্ছে না।

প্লাস্টিক ফুল বিক্রেতা বলেন, আমরা গরিব মানুষ। আমাদের পুঁজি কম, কাঁচা ফুল বিক্রি না হলে পচে যায়। আর প্লাস্টিকের ফুল পচে না, পানিও দেয়া লাগে না। আবার ক্রেতাও ভাল পাওয়া যায়; তাই প্লাস্টিকের ফুল বিক্রি করি। এ ব্যাপারে বাংলাদেশে ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহিম জানান, প্লাস্টিকের ফুল চাষিদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছু অসাধু লোক বাইরে থেকে এই ফুল দেশে নিয়ে আসে। তিনি আরও বলেন, প্লাস্টিক ফুলের আমদানি এবং বাজারজাত বন্ধ করার দাবিতে আমরা সংবাদ সম্মেলন করেছি, মানববন্ধন করেছি। আমরা আবারও সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, যেন এই প্লাস্টিকের ফুল আমদানি ও বাজারজাত অচিরেই পুরোপুরি বন্ধ করা হয়। সেই সাথে রাষ্ট্রের সকল অনুষ্ঠানে দেশে উৎপাদিত ফুলের ব্যবহার দাবি করেন তিনি।

শীর্ষ সংবাদ: