বুধবার ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ০৮ ডিসেম্বর ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

এবার কৃত্রিম সঙ্কটের মুখে বাড়ছে ভোজ্যতেলের দাম

এবার কৃত্রিম সঙ্কটের মুখে বাড়ছে ভোজ্যতেলের দাম
  • ভ্যাট কমানোর প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় এই কারসাজি
  • পেঁয়াজ আদা ও রসুনের দাম কমলেও বেড়েছে চাল ও ব্রয়লার মুরগির

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ প্রতিলিটারে ৭ টাকা বাড়ানোর পর এবার কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানো হচ্ছে। ভোজ্যতেলের মিলমালিক থেকে শুরু করে খুচরা পর্যায়ে মজুদ বাড়ানো হচ্ছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভ্যাট কমানোর প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় এই কারসাজি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে সব ধরনের ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানো হচ্ছে। ভোজ্যতেলের কাঁচামাল আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার না হওয়ায় মিল মালিক ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা নাখোশ হয়েছেন। আর এ কারণে ভোজ্যতেলের দাম বাড়াতে গড়ে উঠছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট চক্র। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজোশ রয়েছে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে। এনবিআরের কাছ থেকে শুল্ক সুবিধা আদায় করতে ব্যর্থ হওয়ায় কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানো হচ্ছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

জানা গেছে, গত আট মাসে সাত বার বাড়ানো হয়েছে ভোজ্যতেলের দাম। এরপরও আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার চায় এ খাতের ব্যবসায়ীরা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য এনবিআরের কাছে প্রস্তাব পাঠালেও তা আমলে নেয়নি সরকারী এই সংস্থাটি। এরপরই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উর্ধতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে সর্বশেষ প্রতিলিটারে আরও সাত টাকা দাম বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু দাম বাড়ানো হলেও অস্থির ভোজ্যতেলে বাজার। এ অবস্থায় দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতির মুখে ভোজ্যতেলের দাম বাড়িয়ে ভোক্তাদের নিষ্পেষিত করা হচ্ছে বলে মনে করছে ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলো। সম্প্রতি ভোজ্যতেল, পেঁয়াজ, সবজি, মুরগিসহ সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম কমানোর আহ্বান জানিয়েছে কনজ্যুমার এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।

এছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আরও কয়েকটি সংগঠনের পক্ষ থেকে ভোগ্যপণ্যের দাম কমানোর জন্য ব্যবস্থা নিতে আবেদন করা হয়েছে। ভোজ্যতেলসহ দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন সাধারণ নি¤œ আয়ের মানুষ। খিলগাঁও রেলগেট সিটি কর্পোরেশন মার্কেটে বাজার করছিলেন গোড়ান বাজারের বাসিন্দা আসিফ শওকত। তিনি জনকণ্ঠকে বলেন, বাজারে সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বেশি। এ অবস্থায় সরকার ঘোষণা দিয়ে আরও সাত টাকা বাড়িয়েছে প্রতিলিটার ভোজ্যতেলে। পাঁচলিটারের বোতল বিক্রি হচ্ছে ৭৫০-৭৭০ টাকা পর্যন্ত। এই দাম অনেক বেশি। দ্রুত ভোজ্যতেলের দাম কমানো উচিত।

জানা গেছে, ভোজ্যতেলের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে তিন স্তরের পরিবর্তে এক স্তরে ভ্যাট দাবি করে আসছেন। এনবিআর ওই প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় এবার দাম কমাতে আমদানি শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেয়া হয়। উল্লেখ্য, গত ২০১৮-১৯ বছরে ভোজ্যতেল আমদানি পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ছিল। এছাড়া উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে ভ্যাট অব্যাহতি প্রদত্ত ছিল। কিন্তু ২০২০-২১ অর্থবছরে আমদানি পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাট, আমদানি পর্যায়ে ৫ শতাংশ হারে অগ্রিম কর, উৎপাদন ও মূল্য সংযোজনের উপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট এবং ব্যবসায়ী পর্যায়ে মূল্য সংযোজনের উপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট অথবা বিক্রয় মূল্যেও উপর ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট ধার্য্য করা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যে ভ্যাট একস্তরে নামিয়ে আনার জন্য আবেদন করেছে।

এছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে ভ্যাট এক স্তরে নামিয়ে আনতে এনবিআরে প্রস্তাব দেয়া হয়। রাজধানীর মৌলভীবাজারের পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, মিলগেটেই তেলের দাম বেশি। ভ্যাটের উপর শুল্ক আদায়ের পদ্ধতিটিও সঠিক নয়। ইতোমধ্যে দাম কমাতে তিন স্তর ভ্যাট ব্যবস্থা বাদ দিয়ে এক স্তর ভ্যাট চালু করার প্রস্তাব করেছেন দেশের ভোজ্যতেল আমদানিকারকরা। আমদানি, উৎপাদন ও বিপণন তিন স্তরে তিন দফায় ভ্যাট নেয়া হয় ভোজ্যতেলের ওপর। বাজারে ঊর্ধ্বমুখী দামের কারণে এখন উৎপাদকরা বলছেন, ভ্যাট করা হোক। এ দাবি যৌক্তিক মনে করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি এনবিআরের কাছে চিঠিতে একস্তরের ভ্যাট আদায়ের পদ্ধতিতে একটা গ্রহণযোগ্য সিলিং নির্ধারণ কওে দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

দাম বাড়ানোর ফলে বোতলজাত সয়াবিন তেল কিনতে হবে লিটারে ৭ টাকা বাড়তি দাম দিয়ে। এতে প্রতিলিটার তেলের পড়ছে ১৬০ টাকা। পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল কেনার ক্ষেত্রেও অনেকটা একই রকম বাড়তি দাম গুনতে হচ্ছে ভোক্তাদের। অর্থাৎ সয়াবিনের ৫ লিটারের বোতলের দাম গড়ে ৭২৮ টাকা থাকলেও এখন দাম ৭৬০ টাকা। বোতলজাতের পাশাপাশি খোলা সয়াবিন ও খোলা পাম তেলের দামও বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু এই দামেও মিলছে না ভোজ্যতেল। বাংলাদেশ ভোজ্যতেল পরিশোধনকারী ও বনস্পতি উৎপাদক সমিতি থেকে সম্প্রতি এ নতুন খুচরা দর নির্ধারণ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে সাতবার। গত জানুয়ারিতে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ছিল ১১৫ টাকা।

বাজার দর ॥ শুক্রবার ছুটির দিনে কাঁচা বাজারে পেঁয়াজ, রসুন, আদা ও আটার দাম কমলেও বেড়েছে সরু চাল, সয়াবিন, ব্রয়লার মুরগি ও চিনির দাম। এছাড়া বাজারে শীতের সবজির সরবরাহ বাড়লেও দাম কমেনি। চড়া মাছের দাম। এছাড়া গরু ও খাসির মাংসের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। দাম বেড়ে প্রতিকেজি সরু চাল ৬৫-৭২, প্রতিলিটার ভোজ্যতেল ১৬০-১৬৫, ব্রয়লার মুরগি ১৮০-১৮৫ ও প্রতিকেচি চিনি ৮০-৮২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দাম কমে প্রতিকেজি খোলা আটা ৩৩-৩৫, পেঁয়াজ জাত মানভেদে ৫০-৬৫, রসুন ১০০-১২০, আদা ১০০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। এছাড়া বাজারে সব ধরনের ডালের দাম স্থিতিশীল রয়েছে।

শীর্ষ সংবাদ:
কঠিন পরিণতির মুখে মুরাদ         কাজের মানের বিষয়ে ফের সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী         জাওয়াদের প্রভাবে টানা বৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি         অভিযোগ পেলেই ডিবি জিজ্ঞাসাবাদ করবে মুরাদকে         গোপনে চট্টগ্রামের হোটেলে         ভারত থেকে এলো মিগ-২১ ও ট্যাঙ্ক টি-৫৫         চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেল যোগাযোগ এখন আর স্বপ্ন নয়         তলাবিহীন ঝুড়িতে বিলিয়ন ডলার         মালয়েশিয়া প্রবাসীদের পাসপোর্ট পেতে ভোগান্তি         পরিকল্পনাকারী অর্থ ও অস্ত্রের যোগানদাতারা এখনও ধরা পড়েনি         দ্রুত পুঁজিবাজারে আনা হচ্ছে সরকারী কোম্পানির শেয়ার         সব এয়ারলাইন্স দ্বিগুণেরও বেশি ভাড়া নিচ্ছে         খালেদাকে শনিবারের মধ্যে বিদেশ না পাঠালে আন্দোলনে যাবেন আইনজীবীরা         পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রীর ৫ প্রস্তাব         মুরাদ হাসানের পদত্যাগপত্র প্রধানমন্ত্রীর কাছে         ডা. মুরাদ হাসানকে জেলা কমিটির পদ থেকে বহিষ্কার         একনেক সভায় ১০ প্রকল্পের অনুমোদন         গ্রিন ফ্যাক্টরি অ্যাওয়ার্ড পাবে ৩০ শিল্প প্রতিষ্ঠান         ‘ডা. মুরাদকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে ডিবি’         করোনা : ২৪ ঘন্টায় মৃত্যু ৫, শনাক্ত ২৯১