বৃহস্পতিবার ৮ আশ্বিন ১৪২৮, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা

দেশপ্রেম ও সদিচ্ছা

সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের পর দৃশ্যমানভাবে দুর্নীতি কিছুটা কমেছে। তবু এটি দানবের মতো মানবের মনে প্রভাব বিস্তার করে তাকে নীতি ও আদর্শচ্যুত করে চলেছে। এই দানবের নাম যে সীমাহীন লোভ, সেটি বলার দরকার পড়ে না। দুর্নীতির সঙ্গে সমাজের আরেকটি বেড়ে ওঠা বিষবৃক্ষ হলো সরকারী টাকার নয়ছয় করার মানসিকতা। এর উদাহরণ মেলে প্রতিনিয়ত। একটুখানি মিতব্যয়ী হলেই বরাদ্দকৃত অর্থের কিছুটা বেঁচে যায়। সেটি মহত্তর কোন কাজে লাগানো সম্ভব। প্রায় একজনও পদস্থ আমলা আমরা পেলাম না, যিনি বিগত দুই দশকে সমাজে কৃচ্ছ্রসাধন এবং মিতব্যয়িতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এটি সদিচ্ছার প্রশ্ন, সদিচ্ছা আসে ভালবাসা থেকে, স্পষ্ট করে বললে বলতে হবে দেশপ্রেম থেকে। যিনি দেশের মঙ্গল চান তিনি যেমন কারও অমঙ্গল সাধনে রত হবেন না। তেমনি সরকারী বরাদ্দ, যা দেশের মানুষেরই উপার্জনের অংশ, অর্থাৎ প্রদত্ত করের অংশ, সেটির অপচয় রোধেও হবেন মনোযোগী। এই সেদিনের কথা। ঘটনা নাটোরের। প্রকল্পের কাজ শুরু না হলেও যানবাহন ক্রয় দেখিয়ে ১০ কোটি টাকা ভাগবাটোয়ারা করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। একটি জিপ, পাঁচটি ট্যাঙ্ক-লরি ও একটি ডাবল কেবিন পিকআপ কেনায় ব্যয় করা হয়েছে এ অর্থ। বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক অনেক বেশি দাম দেখিয়ে কেনাকাটা করে বিল তুলে নিয়ে অসাধু চক্রের ভাগবাটোয়ারা করে নেয়ার অপসংস্কৃতি অধুনা দেখা যাচ্ছে প্রায়ই।

সম্প্রতি মিতব্যয়িতার আরেকটি নজির স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অত্যন্ত ব্যতিক্রমী এই দৃষ্টান্ত স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী নিজের অফিসের গাড়ি কেনা বাতিল করে সেই টাকা (১৫ কোটি) সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় খরচের নির্দেশ দিয়েছেন। ২০২১-২০২২ অর্থবছরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অনুকূলে মোটরযান ক্রয় খাতে ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। কার্যালয়ের অভিভাবক হিসেবে তাঁর নিজস্ব পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ অবশ্যই রয়েছে। পরিবহন খাতে নতুন কেনাকাটা স্থগিত করেছেন তিনি।

দেশের বহু সরকারী-বেসরকারী এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় ফি-বছর নতুন গাড়ি কেনার চল রয়েছে। এটি যে একান্ত প্রয়োজনে এমন নয়, দেখনদারি মনোভাব থেকেই এমন কেনাকটা। সোজা কথায় অপচয়। যেখানে কৃচ্ছ্রসাধনই সঙ্গত, সেখানে অপব্যয় ও অপচয় করার বিষয়টি গর্হিত সন্দেহ নেই। এরপরেই আসে বেঁচে যাওয়া অর্থের সদ্ব্যবহারের প্রসঙ্গ। এক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রী সহৃদয় ও সুবিবেচনার উদাহরণ রেখেছেন। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বিপন্ন ও বিপর্যস্ত সমাজে স্বাস্থ্য খাতে জরুরী ব্যয়ের অনিবার্য প্রয়োজন রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী করোনাকালীন ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যের অবকাঠামো ও সরঞ্জাম সুবিধা বাড়ানো, আইসিইউ বৃদ্ধি, হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানো, স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রণোদনা, বিনামূল্যে করোনা টিকা সরবরাহসহ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে বহু প্রশংসিত পদক্ষেপ নিয়েছেন। মানুষের স্বাস্থ্যসেবার জন্য তিনি বিশেষ বরাদ্দের ব্যবস্থাও করেছেন। তারপরও গাড়ি কেনার খাত থেকে টাকা বাঁচিয়ে তিনি দিয়েছেন স্বাস্থ্যসেবায়। এ থেকে নিঃসন্দেহে বহু মানুষ উপকৃত হবেন।

আমরা আশা করব, ছোট একটি পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে মিতব্যয়িতা, সদিচ্ছা, মানব ও দেশপ্রেমের যে দৃষ্টান্ত বঙ্গবন্ধুকন্যা রাখলেন, তা থেকে শিক্ষা নেবেন সরকারের পদস্থ আমলা ও কর্মকর্তারা।

শীর্ষ সংবাদ: