রবিবার ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭, ০৯ আগস্ট ২০২০ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

করোনা ॥ দেহে অ্যান্টিবডি না থাকলেও কি সংক্রমিত ঠেকানো সম্ভব?

করোনা ॥ দেহে অ্যান্টিবডি না থাকলেও কি সংক্রমিত ঠেকানো সম্ভব?

অনলাইন ডেস্ক ॥ সাধারণভাবে আমরা জানি যে একবার করোনাভাইরাস আক্রান্ত হলে আপনি সেরে উঠতে উঠতেই আপনার দেহে অ্যান্টিবডি তৈরি হযে যাবে, এবং আপনি করোনাভাইরাস-প্রতিরোধী হযে যাবেন।

সোজা কথায়, আপনার দেহে এ্যান্টিবডি থাকলে তবেই আপনি করোনাভাইরাস প্রতিরোধ করতে পারবেন - তার আগে নয়।

কিন্তু নতুন এক জরিপে আভাস পাওয়া যাচ্ছে, যাদের দেহে করোনাভাইরাসের অ্যান্টিবডি পাওয়া যায় নি – তাদের দেহেও এ ভাইরাস প্রতিরোধের অন্তত খানিকটা ক্ষমতা থাকে।

সেই ক্ষমতা কোথা থেকে আসে?

সুইডেনের কারোলিনস্কা ইন্সটিটিউটের ওই জরিপটির গবেষকরা বলছেন, তা আসে ‘টি-সেল’ নামে রক্তে থাকা আরেক ধরণের কোষ থেকে – যার কাজ কোন দেহকোষে সংক্রমণ হলেই তাকে আক্রমণ করে ধ্বংস করা।

অ্যান্টিবডি কী?

কোভিড-১৯ প্রতিরোধ ক্ষমতার গবেষণায় এতদিন বেশি মনোযোগ দেয়া হয়েছে অ্যান্টিবডির দিকেই।

“এটা হচ্ছে ইংরেজি ওয়াই অক্ষরের মতো দেখতে একটা প্রোটিন যা ঠিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ে একটা লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার মতো করেই কাজ করে” - বলছেন সহকারী অধ্যাপক মার্কাস বাগার্ট, যিনি এই জরিপ রিপোর্টের অন্যতম প্রণেতা।

করোনাভাইরাস মানুষের দেহকোষে ঢোকার আগেই এই অ্যান্টিবডিটা ভাইরাসের সাথে আটকে গিয়ে তাকে নিষ্ক্রিয় করে ফেলে।

আর যদি অ্যান্টিবডি এটা করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে করোনাভাইরাসে দেহকোষের মধ্যে ঢুকে পড়ে এবং সেটাকে আরো ভাইরাস তৈরির কারখানায় পরিণত করে।

টি সেল কী?

টি সেল কাজ করে একটু অন্যভাবে।

তারা ইতোমধ্যেই সংক্রমিত হয়েছে এমন দেহকোষগুলো টার্গেট করে এবং সেগুলোকে পুরোপুরি ধ্বংস করে ফেলে। ফলে ভাইরাস সংক্রমণ থেকে অন্য সুস্থ কোষ আক্রান্ত হতে পারে না।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, টি-সেলের এক ধরনের “স্মৃতিশক্তি” আছে।

তারা ভাইরাসটাকে চিনতে পারলেই এটা কোন কোন কোষগুলোকে সংক্রমিত করেছে তা টার্গেট করে সেগুলো ধ্বংস করতে থাকে।

জরিপটি চালানো হয় ২০০ লোকের ওপর । তাদের দেহে অ্যান্টিবডি এবং টি-সেল দুটোই আছে কিনা, সেটাই এ জরিপে পরীক্ষা করা হয়েছিল।

জরিপে দেখা যাচ্ছে, প্রতি একজন অ্যান্টিবডি-বিশিষ্ট ব্যক্তির বিপরীতে দু‌’জন করে লোক পাওয়া যাচ্ছে যাদের রক্তে এমন টি-সেল আছে - যা সংক্রমিত দেহকোষ চিহ্নিত করে তা ধ্বংস করে ফেলতে পারে।

এর মধ্যে এমন লোকও আছে যারা কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়েছেন কিন্তু তাদের উপসর্গ ছিল খুবই মৃদু, বা আদৌ কোন উপসর্গ দেখা যায় নি।

লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের অথ্যাপক ড্যানি অল্টম্যান বলছেন, “এটা একটা চমৎকার জরিপ, যাতে আবারও প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে যে মানুষের করোনাভাইরাস-প্রতিরোধ ক্ষমতার ব্যাপারটা শুধু অ্যান্টিবডি টেস্ট দিয়ে বোঝা সম্ভব নয়।“

টেস্টিং থেকে কি ইমিউনিটি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব?

এই গবেষকরা বলছেন, তারা যে ২০০ জন লোকের ওপর জরিপ চালিয়েছেন, তাতে কয়েকজন রক্তদাতা আছেন। আরো আছেন সুইডেনে প্রথম করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছিলেন এমন কিছু লোক।

এদের অনেকে উত্তর ইতালি সহ কোভিড সংক্রমণ ছড়িয়েছে এমন জায়গা থেকে সুইডেনে ফিরেছিলেন।

এর অর্থ হলো, অ্যান্টিবডি পজিটিভ হয়ে কোভিড-১৮ প্রতিরোধী ক্ষমতা অর্জন করেছেন এমন লোকদের যে সংখ্যা সরকারি হিসেবে বলা হয় - তার চেয়ে অনেক বেশি লোকেরই হয়তো এ ক্ষমতা তৈরি হয়ে গেছে।

তারা হয়তো দ্বিতীয়বার করোনাভাইরাসের সংস্পর্শে এলেও অসুস্থ হবেন না। কিন্তু তাদের থেকে অন্যদের দেহে রোগ ছড়াতে পারে কিনা - তা এখনো স্পষ্ট নয়।

অনেক কিছুই এখনো অজানা

তবে এই বিজ্ঞানীরা বলছেন, টি-সেল করোনাভাইরাসকে সম্পূর্ণ আটকে দিতে পারে কিনা - এটা এখনো অজানা।

অথবা এমনও হতে পারে যে তারা হয়তো একজন লোককে করোনাভাইরাসে অসুস্থ হতে দেয় না - কিন্তু তিনি ভাইরাসটা বহন করতে পারেন এবং অন্যদের মধ্যে ছড়াতেও পারেন।

এটা জানার জন্য জন্য আরো বিশ্লেষণ প্রয়োজন হবে।

গুরুতর অসুস্থ ৬০ জন রোগীর ওপর এক গবেষণা চালিয়েছে ফ্রান্সিস ক্রিক ইনস্টিটিউট, কিংস কলেজ লন্ডন, এবং গাইজ এ্যান্ড সেন্ট টমাস হসপিটাল।

তারা দেখেছেন, গুরুতর অসুস্থ রোগীর দেহে টি-সেলের সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমে যায়।

কারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের জরিপে কিন্তু দেখা গেছে, কোভিড-১৯ রোগীরা যত বেশি অসুস্থ - তাদের দেহে অ্যান্টিবডি এবং টি-সেল ততই বেশি।

এই দলটি বলছে, এ ব্যাপারে আরো গবেষণা দরকার।

উল্লেখ্য, টি-সেল অত্যন্ত জটিল, বিশেষ ধরণের ল্যাবরেটরি ছাড়া এ গবেষণা করা যায় না।

মানবদেহে টি-সেল উৎপাদন বাড়ায় এমন একটি ওষুধ হচ্ছে ইন্টারলিউকিন-সেভেন। এটি করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীকে সেরে উঠতে সাহায্য করে কিনা - তা বর্তমানে যুক্তরাজ্যে পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।

সূত্র- বিবিসি বাংলা

করোনাভাইরাস আপডেট
বিশ্বব্যাপী
বাংলাদেশ
আক্রান্ত
১৯৫৬৪৫৮৪
আক্রান্ত
২৫৫১১৩
সুস্থ
১২৫৬০২৯৬
সুস্থ
১৪৬৬০৪
শীর্ষ সংবাদ:
প্রাণ ভিক্ষা চাননি ॥ খুনীদের কাছে         রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় কমতে শুরু করেছে পানি         রাঘব বোয়ালরা অধরাই ॥ মানব পাচার         গ্যাসক্ষেত্র কিনে নেয়ার সাহসী সিদ্ধান্ত বঙ্গবন্ধুই নিয়েছিলেন         প্রদীপের প্রাইভেট বাহিনীর তাণ্ডব ওপেন-সিক্রেট         রুশ ভ্যাকসিন আসছে আর মাত্র ৩ দিন পর         বার বার আহ্বান সত্ত্বেও করোনা টেস্টে মানুষের সাড়া মিলছে না         করোনায় আরও ৩২ জনের মৃত্যু         কাল লন্ডন-সিলেট রুটে বিমানের ফ্লাইট চালু হচ্ছে         কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলাম আধুনিক করতে হবে         চুয়াডাঙ্গা ও ময়মনসিংহে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঝরল ১৩ প্রাণ         স্রোতে শিমুলিয়ার দুটি ঘাট বিলীন ॥ ফেরি চলাচলে অচলাবস্থা, দুর্ভোগ         কাঁচা চামড়া রফতানি নিয়ে দোটানায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়         ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ জনের মৃত্যু         মুজিববর্ষে বঙ্গবন্ধুর খুনীর একজনকে দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে ॥ পররাষ্ট্রমন্ত্রী         দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৬১১ জনের করোনা শনাক্ত, নতুন মৃত্যু ৩২         মির্জাপুরে দুই মোটরসাইকেল আরোহীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার         কাল থেকে শুরু হচ্ছে একাদশে ভর্তি আবেদন         বঙ্গমাতা ছিলেন জাতির পিতার যোগ্য ও বিশ্বস্ত সহচর ॥ প্রধানমন্ত্রী         বঙ্গমাতা ছিলেন বঙ্গবন্ধুর সার্বক্ষণিক রাজনৈতিক সহযোদ্ধা॥ সেতুমন্ত্রী        
//--BID Records