সোমবার ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৯ নভেম্বর ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা

চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সকে জেতালেন ইমরুল

মিথুন আশরাফ ॥ চট্টগ্রামে কত বড় বড় স্কোর হয়েছে। অথচ ঢাকায় খেলা শুরু হতেই আবারও রান খরা শুরু হয়ে যায়। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে তৃতীয়পর্বের প্রথম ম্যাচেই যেমন ঢাকা প্লাটুন ১২৪ রানের বেশি করতে পারেনি। চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সও ইমরুল কায়েসের অপরাজিত ৫৪ রানে ৬ উইকেটে সহজেই জিতে যায়।

ঠান্ডায় চতুর্দিকে জবুথবু অবস্থা। মাঝে মাঝে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিও পড়েছে। এই ঠা-া উপেক্ষা করেও স্টেডিয়ামে দর্শক উপস্থিতি টইটম্বুর ছিল। সবার একটাই আশা ছিল, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগে (বিবিপিএল টি২০) চট্টগ্রামে দ্বিতীয়পর্বে যেমন রান হয়েছে, দারুণ জমেছে, মিরপুরেও জমবে। চট্টগ্রামে দলগুলো যেমন ২০০ রান অনায়াসেই করেছে, মিরপুরেও করবে। চট্টগ্রামে দেড় শ’ রানের নিচে একটি স্কোরও নেই ঢাকা প্লাটুনের। এমনকি একটি ম্যাচে ২০৫ রানও করেছে। কিন্তু ঢাকায় রান বৃষ্টি ঝরাতে পারেনি ঢাকা প্লাটুন। কুয়াশার জন্য দুপুরেই ফ্লাডলাইট জ্বালাতে হয়েছে। সেই আলোতেও অন্ধকারেই পড়ে থাকল ঢাকা প্লাটুনের ইনিংস। তৃতীয়পর্ব শুরু হতেই ঢাকা প্লাটুনের ব্যাটসম্যানরা যেন ঝিমিয়ে পড়লেন। নবম উইকেটে গিয়ে ওয়াহাব রিয়াজ ও মাশরাফি বিন মর্তুজা মিলে যদি ৩১ রানের জুটি না গড়তেন তাহলে ৯ উইকেট হারিয়ে ২০ ওভারে যে ১২৪ রান করেছে ঢাকা প্লাটুন তা করতে পারত না। এই রান করে কী আর চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে জেতা সম্ভব? জিততেও পারেনি ঢাকা প্লাটুন। ম্যাচের একমাত্র হাফ সেঞ্চুরি করেন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ইমরুল। তার অসাধারণ ব্যাটিংয়ে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৮.৪ ওভারে ১২৫ রান করে জিতে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স।

চট্টগ্রাম পর্ব শেষে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স যেমন পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে ছিল। ঢাকায় তৃতীয়পর্বেও তা বজায় রেখেছে। ঢাকা প্লাটুনকে হারিয়ে সেরা চার দলের একটি হয়ে ‘প্লে-অফে’ খেলার পথে এক পা দিয়েও ফেলেছে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। ৮ ম্যাচে ৬ জয়ে ১২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে। বাকি থাকা আর ৪ ম্যাচের যে কোন একটিতে জিতলে ‘প্লে-অফে’ খেলা নিশ্চিতই করে নেবে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। ৭ ম্যাচে ৪ জয়ে ৮ পয়েন্ট নিয়ে ঢাকা প্লাটুন অবশ্য সেরা চারেই আছে। তবে এভাবে হারতে থাকলে বিপদ ঘনিয়ে আসতে পারে।

টস জিতে আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ভুল করেনি চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। শুরুতে বিপদে পড়লেও শেষটা ভালই হয়। দলের ২৫ রান পর্যন্ত দুই ওপেনার লেন্ডল সিমন্স ও জুনায়েদ সিদ্দিকী দারুণ ব্যাটিং করেন। কিন্তু এই রানের সময় দুইজনই সাজঘরে ফেরেন। এরপর ইমরুল কায়েস ও চাডউইক ওয়ালটন মিলে দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন। তবে দলের ৬৬ রান হতেই ওয়ালটনকে (২৫) আউট করে দেন ওয়াহাব রিয়াজ। রায়ান বার্ল (১৩) ব্যাট হাতে নেমে দলকে ১০০ রানে নিয়ে গিয়ে আউট হন। তবে ইমরুল থাকেন। ধীরে ধীরে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন। ৫২ বলে হাফ সেঞ্চুরিও করে ফেলেন। ৫৩ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় অপরাজিত ৫৪ রান করে দলকে ৮ বল বাকি থাকতে ম্যাচও জেতান।

ঢাকা প্লাটুনের মেহেদী হাসান চট্টগ্রামে অসাধারণ ব্যাটিং করেছেন। টানা দুই ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরি করে, ঝড়ো ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়েছেন। ম্যাচসেরাও হয়েছেন। তার দিকে বিশেষ নজরও আছে। কিন্তু কি বোঝা গেল। চট্টগ্রামে ব্যাটিং উইকেটে, জমপেশ ব্যাটিং নৈপুণ্য দেখালেন। যেই ঢাকায় একটু কঠিন উইকেট মিলল, তাতেই নৈপুণ্য উধাও। এখনও ঢাকা প্লাটুনের লীগপর্বেই আরও ৫ ম্যাচ আছে। সেই ম্যাচগুলোতে মেহেদী হাসানের ব্যাটিংয়ের দিকে নজর থাকবে। কিন্তু তৃতীয়পর্বের প্রথম ম্যাচেই যে রানের খাতা খোলার আগেই আউট হয়ে গেলেন, তাও দৃষ্টি এড়ায়নি। মেহেদী তরুণ উঠতি ক্রিকেটার। ভবিষ্যত পড়ে আছে। কিন্তু যিনি জাতীয় দলের ভরসা, সেই তামিম ইকবাল (২১) বিশেষ কিছুই করতে পারেননি।

তামিমের সঙ্গে এনামুল হক বিজয় ওপেনিংয়ে ৩২ রানের জুটি গড়েন। সেটিই ঢাকা প্লাটুনের ইনিংসের বড় জুটি। কিন্তু এরপর এক এক করে মেহেদী হাসান, জাকের আলী, শহিদ আফ্রিদি, শাদাব খান, থিসারা পেরেরা দুই অঙ্কের ঘরেই পৌঁছাতে পারেননি। মেহেদী, আফ্রিদি, শাদাব তো রানের খাতা খোলার আগেই আউট হয়ে গেছেন। জাকের ও আফ্রিদিকে জিম্বাবুইয়ের লেগ স্পিনার রায়ান বার্ল এবং শাদাব ও পেরেরাকে পেসার মুক্তার আলী দ্রুত ফিরিয়ে দিয়েই ঢাকা প্লাটুনের ইনিংসে মাজা ভেঙ্গে দেন। দলের ৬৮ রানেই ৭ উইকেট হারিয়ে বসে ঢাকা প্লাটুন। কি করুণ দশা হয়। দলের ৯৩ রানে মুমিনুল হক আউট হওয়ার আগে যদি ৩২ রানের ইনিংসটি না খেলতেন তাহলে ১০০ রানের কাছেই যেতে পারত না ঢাকা প্লাটুন। নবম উইকেটে গিয়ে ওয়াহাব (২৩) ও মাশরাফি (১৭*) মিলে যদি হাল না ধরতেন, ১৯ বলেই যদি ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিং করে ৩১ রানের জুটি না গড়তেন, তাহলে ১২০ রানের ওপরে যাওয়া অনেক কঠিনই ছিল। এই রান করার পর নাটকীয় কিছু না ঘটলে হার স্বাভাবিকভাবেই হওয়ার কথা। তা হয়েছেও।

স্কোর ॥ ঢাকা প্লাটুন-চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ম্যাচ- মিরপুর

টস ॥ চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স (ফিল্ডিং)।

ঢাকা প্লাটুন ইনিংস- ১২৪/৯; ২০ ওভার; তামিম ২১, বিজয় ১৪, মেহেদী ০, মুমিনুল ৩২, জাকের ৩, আফ্রিদি ০, শাদাব ০, পেরেরা ৬, ওয়াহাব ২৩, মাশরাফি ১৭*; বার্ল ২/১, মুক্তার ২/১৮।

চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ইনিংস- ১২৫/৪; ১৮.৪ ওভার; সিমন্স ১৫, জুনায়েদ ৮, ইমরুল ৫৪*, ওয়ালটন ২৫, বার্ল ১৩, সোহান ৫*; ওয়াহাব ২/১৮।

ফল ॥ চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ৬ উইকেটে জয়ী।

ম্যাচসেরা ॥ ইমরুল কায়েস (চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স)।

শীর্ষ সংবাদ: