বুধবার ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২৫ মে ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

বিশ্বখ্যাত হ্যাকারদের কবলে বিশ্ব

দিয়ান ইসলাম ওলিফ

হ্যাকিং একইসঙ্গে একটি চমৎকার এবং ভয়ঙ্কর বিষয়। সারা বিশ্বে কয়েক লাখ হ্যাকার আছে, যারা শখের বসে অথবা নিজের অস্তিত্ব জাহির করতে বা অন্যের ক্ষতি করতে মুখিয়ে আছে। আমরা কিছুদিন আগেই দেখলাম বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ চুরির ঘটনা, যেটা ছিল একটি সফল হ্যাকিংয়ের উদাহরণ। এছাড়াও সাইবার ক্রাইম ও হ্যাকিং নিয়ে আরও অনেক ঘটনাই আমরা প্রতিনিয়ত শুনতে পাই। আজ আমরা জানব কিছু জনপ্রিয় হ্যাকার এবং তাদের ধ্বংসলীলা সম্পর্কে। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক:

গ্যারী ম্যাককিনস

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সাইবার ওয়ার্ল্ডে সব থেকে সিকিউরড বলা চলে। কোটি কোটি ডলার তারা খরচ করে শুধু সাইবার সিকিউরিটি বাড়ানোর জন্য। অথচ একদিন এই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কম্পিউটারে একটি ম্যাসেজ দেখা যায় হঠাৎ করেই। আর তা হলো, “Your security system is crap, I am Solo. I will continue to disrupt at the highest levels’’। ব্যস! শুরু হলো হুলস্থূল কান্ড। অনেক রিসার্চ এবং ডাটা এনালাইসিসের পর জানা গেল, এটি স্কটল্যান্ডের একজন ডেভেলপার, গ্যারী ম্যাককিন্সের কাজ। গ্যারী মার্কিন নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, সেনাবাহিনী এবং নাসাসহ প্রায় ৯৭টি কম্পিউটার হ্যাক করে ফেলেন। যার ফলে আর্থিক ক্ষতি হয় ৭ লাখ ডলার। তিনি এই কাজ শুধু নিজের ক্ষমতা জাহির করতেই করেছিলেন। গ্যারী মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। কিন্তু তার মেধা সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল। সে নিজেই একা একা ইউএফও নিয়ে গবেষণা করেছিলেন তাও শুধু শখের বসেই।

জোনাথন জেমস

তার কাজ বিশ্বের সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল। জোনাথন মাত্র ১৬ বছর বয়সে জেল খাটেন হ্যাকিংয়ের জন্য। জোনাথন খুব কম বয়সেই হ্যাকিং নিয়ে গবেষণা শুরু করে। যার ফলশ্রুতিতে সে মাত্র ১৫ বছর বয়সে নাসার কম্পিউটার সিস্টেম হ্যাক করে এবং শুধু হ্যাক করেই ক্ষান্ত হননি তিনি। তিনি কিছু সফটওয়্যার চুরি করেন যার মূল্য দাঁড়ায় ১.৭ মিলিয়ন ডলার। আমেরিকান সরকার তাকে জেলে পাঠায়। জেলে থাকা অবস্থায় তিনি ২০০৮ সালে আত্মহত্যা করেন এই বলে যে, ‘আমার বিচার ব্যবস্থার ওপর বিশ্বাস নেই, আমি সবাইকে এই জানাতে চাই যে, আমি সব কিছুর ধরাছোঁয়ার বাইরে এবং এইখান থেকে বের হওয়ার এটাই একমাত্র উপায়।’

জর্জ হটজ

জর্জ হটজ সর্বপ্রথম এ্যাপলের আইওএস সিস্টেম হ্যাক করতে সফল হন। তিনি ২০০৭ সালে আইওএস হ্যাক করে সবাইকে অবাক করে দেন। জর্জ শুধু আইওএস হ্যাকই করেননি বরং তিনিই ডেভেলপ করেন আইওএস অপরেটিং সিস্টেমকে রুট করার সফটওয়্যার, জেলব্রেক টুলস ও বুট্রুম। জর্জ যে শুধু আইওএস হ্যাক করেছেন তা কিন্তু নয়। তিনি সনির প্লেস্টেশন ৩ হ্যাক করে, প্রায় ৭৭ মিলিয়ন ইউজার ডেটা কালেক্ট করেন। যার জন্য সনির সঙ্গে বেশ কিছুদিন আইনি লড়াাইও লড়তে হয় তার।

আন্ড্রিয়ান লামো

‘দ্য হোমলেস হ্যাকার’ নামে পরিচিত এই ব্যক্তি মাইক্রোসফট, ইয়াহু ও নিউইয়র্ক টাইমের কম্পিউটার সিস্টেমের ভলনারেবিলিটির সূত্র ধরে এসব কম্পিউটার হ্যাক করেন। এরপর নিউইয়র্ক টাইমস তার নামে মামলা ঠুঁকে দেয়ায় তিনি নজরদারিতে থাকেন বেশ কয়েক বছর। তিনি ২০০৭ সালে আবার খবরে আসেন, ২০১০ সালে হওয়া বাগদাদ এয়ার স্ট্রাইকের ভিডিও ফাঁসকারীকে শনাক্ত করে দেয়ার মাধ্যমে। তারপর থেকে তিনি অন প্রফিট অর্গানাইজেশনে কাজ শুরু করেন, একজন থ্রেট এনালাইসিস্ট হিসেবে।

ডেভিড স্মিথ

বিশ্বখ্যাত ভাইরাস ম্যালিসা সম্পর্কে জানেন না এমন মানুষের সংখ্যা নিহায়তই কম। এই ভাইরাস সারা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল। এই ভাইরাসের সৃষ্টিকর্তাই হচ্ছেন ডেভিড স্মিথ। তার এই ভাইরাসটি ইমেইল গেটওয়ে ব্যবহার করে কম্পিউটারে প্রবেশ করত এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি করত। বিভিন্ন বড় বড় কোম্পানি যেমন মাইক্রোসফট, ইন্টেল কর্পোরেশন ইত্যাদি এই ভাইরাসটিকে আটকানোর অনেক চেষ্টা করেন। যদিও সেই সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়। এই প্রোগ্রামারের প্রোগ্রাম করা ম্যালিসা ভাইরাস শুধু উত্তর আমেরিকায় ৮০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি সাধন করে, যা বিশাল ব্যবসায়িক ধ্বংসের জন্ম দেয়।

মাইকেল কেলস

এই ব্যক্তি এমন একজন মানুষ ছিলেন যার শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল না তেমন। কিন্তু নিজের চেষ্টা ও বুদ্ধি দিয়ে তিনি সফল হন। তাকে বলা হয় সাইবার জগতের ‘মাফিয়া বয়’। সে হাইস্কুল পাস করার পরপরই ইবে, আমাজন, ইয়াহু, ডেল এবং সিএনএনের সিস্টেম হ্যাক করে। ২০০০ সালে তিনি উবহরধষ ড়ভ ংবৎারপব আবিষ্কার করে বিভিন্ন কমার্শিয়াল সাইট হ্যাক করেন। এছাড়াও তিনি তখনকার সময়ের জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন ইয়াহু ডাউন করে দেন এক ঘণ্টার জন্য। পরে তিনি টিএনটি নামে একটি হ্যাকার টিম তৈরি করেন যাদের কাজ ছিল যে কোন সিস্টেম হ্যাক করে নিজেদের কতৃত্ব প্রকাশ করা। ২০০১ সালে তাকে আটক করা হয় এবং ৮ মাসের জেল দেয়া হয়। আর তার ইন্টারনেট ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

রবার্ট মরিস

মরিস ওয়ার্মের জন্মদাতা রবার্ট মরিস। ১৯৮৮ সালে তিনি মরিসওয়ার্ম আবিষ্কার করেন যা ছিল সর্বপ্রথম কোন ভাইরাস যা কোন কম্পিউটার সিস্টেমে প্রবেশ করে কম্পিউটার এ থাকা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নষ্ট করতে পারত। তিনি একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এটি প্রকাশ করেন। এই ওয়ার্ম টি বিভিন্ন দুর্বল পাসওয়াড ক্রাক করতে পারত। তারপর ১৯৮৯ সালে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন কম্পিউটার ফ্রড এ্যান্ড এবিউজ এক্টে। তিনিই সর্বপ্রথম এই আইনে অভিযুক্ত হন এবং শাস্তি ভোগ করেন।

শীর্ষ সংবাদ:
‘পর্যাপ্ত সবুজ ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা রেখেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে’         প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা : ফাঁসির আসামি গ্রেফতার         বাংলাদেশ ও সার্বিয়ার মধ্যে দু’টি সমঝোতা স্মারক সই         লক্ষ্য সাশ্রয়ী মূলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত ও জ্বালানি সরবরাহ ॥ নসরুল হামিদ         জাতীয় সংসদের জন্য ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের বাজেট অনুমোদন         দিনাজপুরে ঘুষের ৮০ হাজার টাকাসহ কর্মকর্তা আটক         দায়িত্ব গ্রহণ করলেন ফায়ার সার্ভিসের নবনিযুক্ত মহাপরিচালক         আপনারা যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে নির্বাচনে অংশ নেবেন না ॥ জাফর ইকবাল         মাঙ্গিপক্স ভাইরাসের বিস্তার ঠেকানো সম্ভব ॥ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা         দেশের অন্তত: ৩০ শতাংশ মানুষ ভুগছে থাইরয়েডে         ইউক্রেনে নিহত হাদিসুরের পরিবার পাচ্ছে ৫ লাখ ডলার         দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩০ জনের করোনা শনাক্ত, মৃত্যু নেই         টাকা আত্মসাতের দায়ে সোনালী ব্যাংকের সাবেক এমডিসহ ৯ জনের কারাদণ্ড         পদ্মা সেতু হওয়ায় বিএনপির বুকে বড় জ্বালা ॥ কাদের         কামরাঙ্গীরচরে দুই যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু         সাড়ে তিন কোটি টাকা আত্মসাত করেন চক্রটি         শাহরাস্তিতে ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হোটেলে, নিহত ১         নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে কিন্তু আমার আয় বাড়েনি         সংযুক্ত আরব আমিরাতেও প্রথম মাঙ্কিপক্স আক্রান্ত রোগী শনাক্ত