সোমবার ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা

মাঠে নেমেছে তৃতীয় পক্ষ ॥ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা

মাঠে নেমেছে তৃতীয় পক্ষ ॥ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা
  • বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ফোনালাপ ফাঁস ;###;ফেসবুকে গুজবের ছড়াছড়ি ;###;ফেসবুকের সুযোগসন্ধানী ধরা পড়লে মামলা

বিভাষ বাড়ৈ ॥ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন যৌক্তিক বলে কাজ শুরু করলেও ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে সঙ্কট ঘনীভূত করার পাঁয়তারায় নেমেছে তৃতীয় পক্ষ। তারা চাচ্ছে না শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ থাকুক। শিক্ষার্থীদের উস্কানি দিতে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সম্পর্কেও মিথ্যা ও বিকৃত তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। ছবি বিকৃত করে শিক্ষার্থীদের উস্কানি দেয়া হচ্ছে নাশকতার জন্য। শিক্ষার্থীদের উস্কানি দিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে যে তাদের ওপর হামলা, রগ কেটে দেয়ার মতো গুজব। ভূইফোঁড় নিউজপোর্টালে প্রধানমন্ত্রীর নামে বিকৃত, মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে। এদিকে বিএনপি নেতা আমির খসরু মাহমুদের নাশকতায় প্রত্যক্ষ উস্কানির টেলিফোন আলাপ ফাঁসে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনে যেসব গুজবের নমুনা মিলেছিল তার মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনে। ভুয়া ছবি ও তথ্য প্রকাশ করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালিয়েছে একটি সুনির্দিষ্ট গোষ্ঠী। ব্যক্তিগত মেসেঞ্জার ও গ্রুপ মেসেঞ্জারে গুজব ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে যা ভাইরাল হয়ে গেছে। সেখানে এমনও বলা হয়েছে, ‘শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা এবং যৌন নির্যাতন চালানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।’ উস্কানি দিয়ে রামদা ছুরির ছবি দিয়ে বলা হচ্ছে, ‘নিজের রিস্কে আসিস, কালকে ছাত্রলীগ কোপাইব।’ পরিস্থিতির আঁচ করা গিয়েছিল দুদিন আগ থেকেই। তবে শুক্রবার রাত থেকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নিতে সফল হয়েছে বিশেষ গোষ্ঠী। যেখানে বিএনপির নেতা আমির খসরু মাহমুদের প্রত্যক্ষ উস্কানির টেলিফোন আলাপ ঘটনাকে দিয়েছে নতুন মাত্রা। নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনে বিএনপির সংশ্লিষ্টতার অডিও ফোনালাপ বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর জনৈক নওমি নামে এক কর্মীর সঙ্গে কথোপকথনের ওই অডিও ক্লিপটি শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়। ওই অডিওতে নওমিকে ঢাকায় এসে ৫/৬ লোক দিয়ে আন্দোলনে সক্রিয় হতে নির্দেশ দেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

চলছে গুজব, নাশকতার উস্কানি ॥ জানা গেছে, কয়েকদিন ধরেই কিছু নিউজপোর্টাল প্রধানমন্ত্রীর নামে বিকৃত, মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য দেশবাসীকে ইতোমধ্যেই আহ্বান জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘিরে একটি ‘কুচক্রী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে বিকৃতি, মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ করছে উল্লেখ করে তাতে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব বানোয়াট সংবাদ জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা প্রচার করা হচ্ছে। এসব সংবাদের কোন ভিত্তি নেই উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসব অপসংবাদে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে।

একইভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সম্পর্কেও মিথ্যা ও বিকৃত তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা এমনকি গুলি চালানোর মতো গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এ কাজে ফটোশপের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বহিনীর সদস্যদের ছবি বিকৃত করে দেয়া হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ব্যক্তিগত মেসেঞ্জার ও গ্রুপ মেসেঞ্জারে একটি গুজব ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে যা মেসেঞ্জারে ভাইরাল হয়ে গেছে। সেখানে জানানো হচ্ছে, রবিবার স্কুল শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা এবং যৌন নির্যাতন চালানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে ফেসবুকে কোন পোস্ট প্রদান করা না হলেও একজন সাংবাদিক এবং এক মন্ত্রীর খুব কাছের একজন- এর বরাত দিয়ে মেসেঞ্জারে জানানো হচ্ছে, “আগামী রবিবার মন্ত্রী এমপিরা ১০০০-১৫০০ বস্তির ছেলেকে রাস্তায় নামাবে। যাদের কাজ হবে মেয়েদের যৌন নির্যাতন করা, গাড়ি ভাঙ্গা, গাড়িতে আগুন দেয়া। আর এ ঘটনার প্রতিবাদে পুলিশ সাধারণ ছাত্রদের ওপর আক্রমণ চালাবে। ফলাফল ছাত্রদের ওপর সাধারণ মানুষ ক্ষেপবে। সেখানে অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়, ‘অনগ্রহপূর্বক নিউজটি মেসেজের মাধ্যমে শেয়ার করবেন। কোনপ্রকার পোস্ট দিবেন না’।”

অপর এক মেসেঞ্জার পোস্টে রামদা ছুরির ছবি দিয়ে বলা হয়, ‘নিজের রিস্কে আসিস, কালকে ছাত্রলীগ কোপাইব।’ অন্যদিকে মিরপুরে এক সন্ধ্যার ছবি দিয়ে লেখা হয়েছে, ‘রাস্তার ছেলেদের টাকা ও স্কুল কলেজের জামা দেয়া হচ্ছে। কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না, তাই না?’ এ ছাড়াও বস্তির ছেলেদের কাছ থেকে শুনলাম ...., আমার বাসার পাশের বস্তিতে শুনলাম... বাসার পাশের বস্তিতে দেখলাম ..... এমন আরও ১০টির বেশি গুজব মেসেঞ্জারে ছড়িয়ে পড়ছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে হামলা ও ভাংচুর করতে চাচ্ছে। কিছুদিন আগে ফার্মগেটেও এভাবেই হঠাৎ করে হামলা চালানো হয়। যার সঙ্গে শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট নয় বলে আমরা জেনেছি। পুলিশ এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এদিকে পুলিশের মিডিয়া বিভাগকে বিষয়টি সম্পর্কে জানানো হলে তারা বলেন, মেসেজগুলো দেখলেই বোঝা যায় এটি গুজব। এখানে তথ্য সূত্র ‘একজন সাংবাদিক ও মন্ত্রীর কাছের লোক’ অথবা ‘আমার এক বোন’ বা ‘আমার কাজিন’ ব্যবহার করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের এ ধরনের গুজব ছড়িয়ে দেয়ার বিষয়ে আরও সতর্ক হওয়া উচিত।

গুজবের বিষয়ে আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়া শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজের শিক্ষার্থী তৌহিদুর রহমান দ্বীপ বলছিলেন, আমাদের মেসেঞ্জারে অনেক ভয়েস রেকর্ড আসছে। গ্রুপগুলোতেও অনেক ভুল তথ্য ভাইরাল করা হচ্ছে। আমার কাছে একটি মেসেজ বলা হয়েছে, নৌমন্ত্রী শাজাহান খান তার লোকজন ও বস্তির ছেলেদের কলেজের পোশাক ও আইডি কার্ড বিতরণ করছে। এগুলো শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করতে এবং ভুল পথে এগিয়ে নিতে প্রচার করা হচ্ছে। আমরা জানি, আমাদের মধ্যে এসে এমন কিছু করার চেষ্টা করলে সবার আগে সেই ব্যক্তিরাই আমাদের কাছে ধরাশায়ী হবে। কেননা আমরা শিক্ষার্থীরা সবাই সবাইকে চিনি। কাছাকাছি স্কুল বা কলেজের শিক্ষার্থীরা একত্র হয়ে আন্দোলন করছে, তারা পরস্পরকে কম বেশি চেনে। এখানে অনুপ্রবেশের সুযোগ নেই। আমাদের একটাই দাবি নিরাপদ সড়ক চাই।

এই শিক্ষার্থী আরও বলেন, আমরা ছাত্ররা নেতাহীন আন্দোলন করছি। আমাদের মাঝে মানবতাও আছে। আমরা এ রকম কোন ঘটনা ঘটতে দিব না। নিঃসন্দেহে আমরা বাইরের ছেলেদের অপ্রীতিকর কোন কিছুই করতে দিব না। আর বস্তির ছেলেদের এসে হামলা করার বিষয়টি কতটুকু সত্য, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। এ সবকিছু করা হচ্ছে ছাত্রদের পিছু হটিয়ে দেয়ার জন্য। আমাদের আন্দোলন থামবে না ইনশাল্লাহ! আমাদের মধ্যে এসব গুজব ঢুকিয়ে দিয়ে আন্দোলনকে রুখতে পারবে না।

এখানেই শেষ নয়। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে ফেসবুকসহ ইন্টারনেটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আরও নানা ধরনের গুজব ছড়ানো হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার পুরনো কিছু ছবি ঘুরছে ইন্টারনেটে, আবার পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে, এমন শিক্ষার্থীর নাম আসার পর ওই শিক্ষার্থীরাই আবার তা গুজব বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন। এক ছাত্রের কলার ধরে আছেন এক পুলিশ সদস্য এ রকম একটি ছবি গত কয়েকদিন ধরে ঘুরছে ফেসবুকে, যা দেখে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের মধ্য থেকেও প্রতিবাদ এসেছে, অথচ ওই ছবিটি ২০১৫ সালের আরেক ঘটনার।

আফজাল হোসেন রহিম নামে একটি ফেসবুক পাতা থেকে বলা হয়, খিলগাঁওয়ের এক কলেজছাত্রকে পুলিশ বাসা থেকে ধরে নিয়ে গেছে। এই খবরটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ওই কলেজছাত্র তার ফেসবুকে পাতায় এ ঘটনাটি মিথ্যা বলে জানান।

ওই ছাত্রই লিখেছে, ‘আপনারা উল্টাপাল্টা নিউজ কই থেকে পান আর এসব আপলোড দিয়ে আমাকে আর ফ্যামিলিকে বিরক্ত করছেন কেন? এটা পুরো ফেইক ঘটনা; পুলিশ আমাকে ধরেনি।’ ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের ৪৭ শিক্ষার্থীকে কলেজ থেকে বের করে দেয়া হয়েছে বলেও ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে।

গুজব ছড়িয়েই আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে হামলা ॥ শনিবার নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে থাকা ছাত্রের ওপর হামলার গুজব ছড়িয়েই ধানম-িতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে হামলা করা হয়েছে। বেলা দেড়াটর দিকে শ’দুয়েক তরুণ ধানম-ি ৩/এ অফিসে হামলা করতে লাঠিসোটা এবং ইট পাটকেল নিয়ে এগিয়ে আসে। এদের মধ্যে অর্ধেকের গায়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পোশাক থাকলেও বাকিদের গায়ে সেই পোশাক ছিল না। হামলা চেষ্টার সামনে যারা ছিল, তাদের ছাত্র বলেও মনে হয়নি।

সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় শিক্ষার্থীদের পোশাক পরা কিশোর ও তরুণরা সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ তৈরি করে। দুপুরের পর গুজব ছড়ায় ‘একজনের পায়ের রগ কেটে দেয়া হয়েছে’। আরও গুজব ছড়ানো হয়, ‘আন্দোলনকারীদের কয়েকজনকে আটক রাখা হয়েছে কার্যালয়ে’। পরে মাইক গিয়ে ঘোষণা করা হয়, ‘আমাদের এক ভাইয়ের ওপর হামলা হয়েছে জিগাতলায়। তোমরা সবাই সেদিকে চলো।’ এ সময় দুই শতাধিক তরুণ দৌড়ে জিগাতলার দিকে আসতে থাকে। আসতে আসতে তরুণরা রাস্তার পাশের গাছের ডাল ভাঙতে থাকে। তারাই আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে হামলা চালায়। ঘটনার পর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ঘুরে দেখে নিরাপদ সড়কের আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের কয়েকজনকে আটকে রাখা হয়েছে বলে গুজব শুনে বিভ্রান্ত হয়েছেন তারা। সন্ধ্যার আগে আওয়ামী লীগের কয়েকজন কর্মী আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে কয়েকজন এসে পুলিশের সঙ্গে পুরো কার্যালয় ঘুরে দেখে। তারপর আওয়ামী লীগের কার্যালয়েই সংবাদ সম্মেলন করেন ওই শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের একজন ঢাকা আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থী কাজী আশিকুর রহমান তূর্য বলেন, দুপুরে নামাজের পর হঠাৎ কিছু লোক এসে বলে, আমাদের চারজন বোনকে আর কজন ছেলেকে আওয়ামী লীগ অফিসে আটকে রাখা হয়েছে। পরে আমাদের একটি অংশ আওয়ামী লীগ অফিসের দিকে চলে আসে। কিন্তু আমরা আওয়ামী লীগ অফিসে এসে দেখলাম, এমন কিছু ঘটেনি।

বিএনপি নেতা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উস্কানি ফাঁস, তোলপাড় ॥ নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বিএনপির সংশ্লিষ্টতার অডিও ফোনালাপ বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর জনৈক নওমি নামে এক কর্মীর সঙ্গে কথোপকথনের ওই অডিও ক্লিপটি শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে গেছে।

যেখানে আমির খসরু হলেন- হ্যালো, নওমি উত্তর দেন- হ্যালো, আংকেল, নওমি বলছিলাম। এরপর আমির খসরু : হ্যাঁ, নওমি ভাল আছো? নওমি : আপনি ভাল আছেন? আমির খসরু : হ্যাঁ, ভাল আছি। তোমরা কি একটু ইনভলভ টিনভলভ হচ্ছো এগুলোতে নাকি? নওমি : জ্বি, জ্বি। আংকেল, আমি তো এই যে কুমিল্লায় আসলাম। আমির খসরু : কুমিল্লায় না, ঢাকায় নামায় দাও না। তোমাদের মানুষজন সব নামায় দেও না। নওমি : হ্যাঁ.. হ্যাঁ.. হ্যাঁ... হাইওয়েতে নামছিল। আমির খসররু : মানুষজন নামায় দাও, হাইওয়েতে-টাইওয়েতে অসুবিধা নাই। ঢাকায় মানুষজন নামায় দাও ভাল করে। বুজছো? তোমাদের তো আর চেনে না। নওমি : না... না... না...। আমির খসরু : তোমাদের বন্ধুবান্ধব নিয়ে তোমরা সব নেমে পড়ো না ঢাকায়...। নওমি: জ্বি...জ্বি..জ্বি..., কন্টাক্ট করতেছি সবার সঙ্গে। আমির খসরু : কন্টাক্ট করো না। কখন আর কন্টাক্ট করবা? এখনই তো টাইম। আর কবে? এখন নামতে না পারলে তো আবার ডাউন করে যাবে। তোমরা নাইমা যাও না একটু বন্ধুবান্ধব নিয়ে...।

এরপর আবার নওমি: হ্যাঁ..হ্যাঁ..হাইওয়েতে নামছিল তো, ঢাকা-চিটাগাংয়ে। এখানে এসপি সাহেব ঝাড়ি দিছে সবাইকে। সবাইকে উঠায়ে দিছে...। আমির খসরু : হাইওয়ে টাইওয়ে অসুবিধা নাই। ঢাকায় নামায় দাও। ঢাকা হলে সারা দেশে এমনেই হবে। তোমরা ঢাকায় এসে...এখানে তো কুমিল্লা দরকার নাই আমার। তোমরা ঢাকায় এসে তোমাদের বন্ধুবান্ধব নিয়ে ২০০-৫০০ জন ওদের সাথে জয়েন করে যাও। নওমি : জ্বি আংকেল। এমনে সবাই সংগঠিত হচ্ছে। আমির খসরু : সংহতি দিয়ে কী হবে। তোমরা যারা আছো নাইমা যাও না। নওমি : আংকেল একটা ছোট্ট বিষয়। আমির খসরু : ফেসবুক টেসবুকে পোস্টিং-টোস্টিং করো সিরিয়াসলি। নওমি : হ্যাঁ, এইটা করতেছি। এটাতে একটিভ আছে সবাই। আমি আসতেছি। আমির খসরু : হ্যাঁ করো। কুমিল্লা বসে থেকে লাভ কী! এখানে এসে জয়েন করো।

গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, তারাও এই অডিও পেয়েছে। এ বিষয়ে কাজ করছে। তারা নিশ্চিত একদিকের কণ্ঠ আমির খসরু মাহমুদের। অন্যদিকের যে ছেলেটি নওমি তার পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর অডিও ফোনালাপ প্রসঙ্গে ডিএমপি কমিশনার মোঃ আছাদুজ্জামান মিয়াকে সংবাদ সম্মেলন শেষে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এটার অডিও আছে আমাদের কাছে। আন্দোলন নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। অতীতেও এ ধরনের ষড়যন্ত্র কাজে আসেনি। ছাত্রদের উদ্দেশ্য মহৎ। তাদের ভিন্নপথে পরিচালিত করার জন্য ষড়যন্ত্র হচ্ছে।

এদিকে কয়েকদিনের গুজব উস্কানি নিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেছেন, আমি শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করছি তারা যেন কারও উস্কানিতে কান না দেয়। সবাইকে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে, নিজ নিজ ঘরে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করছি। কোমলমতি শিশুরা যেন কোন অপপ্রচারে কান না দেয়, বিভ্রান্ত না হয়। আমরা তাদের সব দাবি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে তাদের দাবি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।

উস্কানিদাতাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, কোমলমতি শিশুদের আন্দোলনে নামার পর একটি স্বার্থানেষী মহল এর সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করছে। এই আন্দোলনের নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কিছু গ্রুপ বা পেজ খুলে উস্কানি ছড়ানো হচ্ছে। এই সুযোগসন্ধানীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। তারা ধরা পড়লে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। তারপরও তাদের বলব, এসব বন্ধ করুন। আপনাদের শুভবুদ্ধির উদয় হোক।

শীর্ষ সংবাদ: