সোমবার ৩ কার্তিক ১৪২৮, ১৮ অক্টোবর ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা

রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানে মুগাবে যুগ শেষ

রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে হারারের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে জিম্বাবুইয়ের সেনাবাহিনী। সকল পক্ষকে সহিংসতা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে বলেছেন, আমরা খুব নিবিড় ও সতর্কভাবে জিম্বাবুইয়ের প্রতিটি ঘটনার উপর নজর রাখছি। ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, এটা হয়তো জিম্বাবুয়ের জন্য একটা আশার মুহূর্ত হিসেবে দেখা দিতে পারে। এ ঘটনায় মুগাবের পতন হতেও পারে আবার নাও হতে পারে। জিম্বাবুইয়ের সকল পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান বরিস জনসন। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। বিবিসি ও নিউজডটকম এইউ।

তবে অভ্যুত্থানের কথা অস্বীকার করেছে জিম্বাবুয়ের সামরিক বাহিনী। তারা বলছে, প্রেসিডেন্ট মুগাবে এবং তার স্ত্রী তাদের জিম্মায় নিরাপদে আছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, জিম্বাবুইয়ের প্রেসিডেন্ট মুগাবের স্ত্রী গ্রেইস মুগাবে পার্শ্ববর্তী দেশ নামিবিয়ায় পালিয়ে গেছেন। এডি ক্রস নামে দেশটির প্রধান বিরোধীদলের এক সংসদ সদস্যসহ ক্ষমতাসীন জানু পিএফ পার্টির এক প্রতিনিধি গ্রেইস মুগাবের দেশত্যাগের সংবাদকে সমর্থন জানান। জিম্বাবুইয়ের প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবেকে রাজধানী হারারেতে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা। জুমার কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, বুধবার জুমা টেলিফোনে মুগাবের সঙ্গে কথা বলেছেন। প্রেসিডেন্ট জুমা বলেন, প্রেসিডেন্ট মুগাবে তাকে আটকে রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন, যদিও তিনি সেখানে ভাল আছেন বলেও জানিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে সাউদার্ন আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট কমিউনিটি থেকে বিশেষ প্রতিনিধি দল জিম্বাবুইয়ে পাঠানো হবে বলেও ওই বিবৃতিতে জানানো হয়। বিবিসির প্রতিনিধি আন সোয় জানিয়েছেন, ২০১৩ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিসরকে আফ্রিকান ইউনিয়ন থেকে বের করে দেয়া হয়, হয়তো ওই পরিণতি এড়াতেই জিম্বাবুইয়ের সামরিক বাহিনী তাদের পদক্ষেপকে অভ্যুত্থান বলতে চাইছে না। এ মুহূর্তে রাজধানী হারারের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে অবস্থান নিয়ে রাস্তায় টহল দিচ্ছে সামরিক বাহিনী। ব্যাংকগুলো তার গ্রাহকদের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি অর্থ তুলতে দিচ্ছেনা। মঙ্গলবার রাতে জিম্বাবুইয়ের সেনাপ্রধান জেনারেল কনস্ট্যানটিনো চিয়েঙ্গার অনুগত বাহিনী দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন স্টেশন জেডবিসির নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর বুধবার ওই টেলিভিশনেই এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা মেজর জেনারেল সিবুসিসো মোয়ো বলেন, তাদের এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে জিম্বাবুইয়ের প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবেকে ঘিরে থাকা অপরাধীচক্রকে নির্মূলের উদ্দেশ্যে। যাদের কারণে সামাজিক এবং অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশ। যত দ্রুত সম্ভব তাদের আইনের আওতায় আনার অভিযান শেষ হলেই দেশে দ্রুত স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসবে। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ধর্মীয় উপাসনালয়গুলো থেকে দেশের জন্য প্রার্থনার আহ্বান জানান। ১৯৮০ সালে যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর থেকে জিম্বাবুইয়ের রাজনৈতিক দৃশ্যপট নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন মুগাবে, বর্তমানে তার বয়স ৯৩ বছর। মুগাবের উত্তরসূরি কে হবেন এ নিয়ে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব শুরুর পরই সামরিক বাহিনী দেশটির কর্তৃত্ব গ্রহণ করে। তাফাদজাওয়া মাসাঙ্গো (৩৫) জানালেন, প্রেসিডেন্ট মুগাবে দেশের জন্য একটা বোঝা।

শীর্ষ সংবাদ: