ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০ আশ্বিন ১৪২৯

কর্মকর্তারা জানেন না বিদ্যুতের টাওয়ার নদীগর্ভে বিলীন

প্রকাশিত: ২১:৩৮, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭

কর্মকর্তারা জানেন না বিদ্যুতের টাওয়ার নদীগর্ভে বিলীন

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল ॥ পল্লী বিদ্যুত কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে ৩৩ হাজার ভোল্টের বিশাল বিদ্যুতের টাওয়ার নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ছয়দিন পরেও বিষয়টি জানেন না সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ফলে পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দায়িত্বে অবহেলা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি সন্ধ্যা নদীর তীরবর্তী জেলার বানারীপাড়া উপজেলার ব্রাহ্মণকাঠি এলাকার। স্থানীয়রা জানান, প্রায় তিনবছর পূর্ব থেকে ভাঙনকবলিত এলাকার কয়েক লাখ টাকা মূল্যের ওই টাওয়ারটি নিরাপদস্থানে সরিয়ে নিতে বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২’র বানারীপাড়া সাব জোনাল অফিসে একাধিবার জানানো সত্বেও তারা কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। স্থানীয় ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম জানান, অসংখ্যবার টাওয়ারটি রক্ষার জন্য বিদ্যুত অফিসে গিয়ে অনুরোধ ও আবেদন নিবেদন করা হলেও সংশ্লিষ্টরা এ ব্যাপারে কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। অবশেষে ছয়দিন পূর্বে গত সোমবার পুরো টাওয়ারটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। শফিকুল ইসলাম আরও জানান, এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তিনি পল্লী বিদ্যুত কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিয়েছেন। বানারীপাড়া সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল ঘরামী জানান, বানারীপাড়া ও বরিশাল পল্লী বিদ্যুত সমিতি-২’র কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানিয়ে একাধিকবার ফোন করার পাশাপাশি লিখিত আবেদন করা হলেও টাওয়ারটি রক্ষায় কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। এ ব্যাপারে বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহান বলেন, টাওয়ারের মালামাল রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পল্লী বিদ্যুত সমিতির বানারীপাড়া সাব জোনাল অফিসের এজিএম নারায়ণ চন্দ্র নন্দীকে নির্দেশ দেয়া হলেও তিনি শুধুমাত্র কর্মচারীদের দিয়ে তার খুলিয়ে নিয়েছেন। মূল্যবান টাওয়ারের অন্যসব মালামাল খোলার ব্যাপারে তিনি কোনো ব্যবস্থাই গ্রহণ করেননি। এ অবস্থায় গত সোমবার দুপুরে পুরো টাওয়ারটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। বানারীপাড়া পল্লী বিদ্যুত অফিসের এজিএম নারায়ণ চন্দ্র নন্দীর সাথে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার গাজী সোহরাব হোসেনের ওপর পুরো দায়িত্ব চাঁপিয়ে দিয়ে বলেন, আমি অবসরে আসার পর পুরো দায়িত্ব তার (ইঞ্জিনিয়ার) ওপর রয়েছে। টাওয়ারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওটা ঠিকাদার ভেঙে দিবেন। তার ওয়ার্ক অর্ডারে টাইম আছে। বর্তমানে দায়িত্ব থাকা জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার গাজী সোহরাব হোসেনের কাছে গত ছয়দিন পূর্বে নদীগর্ভে পুরো টাওয়ারটি বিলীনের কথা বললে তিনি বিষয়টি জানেন না বলে উল্লেখ করেন।