ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০ আশ্বিন ১৪২৯

তরুণ লেখকদের সাহিত্য ভাবনা ॥ চর্যাপদ’র ভূমি ॥ পাঠের মধ্য দিয়েই পেয়ে যাই...

প্রকাশিত: ০৬:৫৭, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭

তরুণ লেখকদের সাহিত্য ভাবনা ॥  চর্যাপদ’র ভূমি ॥ পাঠের মধ্য দিয়েই পেয়ে যাই...

কবিতা সুন্দরের প্রতীক, আমার জীবনের একটি অংশ। ফুলের বাগানে একটি ছোট্ট শিশুর বাহারি প্রজাপতির ধরার জন্য যে ব্যাকুলতা, যে আনন্দ থাকে, কবির কাছে কবিতা লিখা ঠিক তেমনি আনন্দের। তবে কবিতা শুধু মরমিয়া ভাবের নয়- এখানে সংশয় আছে, রয়েছে সঠিক পথ অবলম্বনের পসরা। কবিতা পাঠে কোন ক্লান্তি অনুভব করি না। পাঠের মধ্য দিয়েই পেয়ে যাই নতুন কবিতা লিখার উপযোগিতা, কাব্য রস সঞ্চারিত হয়, ভিজে ওঠে দেহ-মন-প্রাণ, সোনার কাঠি এবং রুপোর কাঠির ছোঁয়ায় যেমন রাজকন্যার ঘুম ভাঙ্গে তেমনি কবিতার মধ্যেও থাকে সুক্ষ ব্যঞ্জনা, যার শক্তিতে পাঠক খুঁজে পায় দর্শন, পরিমিতিবোধ এবং শুদ্ধাচার। আমার কাব্যচর্চা সেই শৈশব থেকে শুরু হয়ে আমৃত্যু ধাবমান। শুধু পাঠের মধ্য দিয়েই কবিতা লিখার স্বপ্ন দেখেছি। মনে মনে ভাললাগা শব্দগুলো দানা বেঁধে চলেছে, কখন যে গোল হয়ে নেমে আসে সাদা পৃষ্ঠায় ভাবতেই পারি না। মন বাড়িয়ে খুঁজে বেড়াই সকাল দুপুর রাত্রি নাই। কাব্যদেবীর আসন তলে হাহাকারের বাঁশি বাজে। দ্রোহ, শূন্যতা, প্রেম, বিপ্লব এবং হাহাকারে দলা ধরা পরিমিতিই আমার কাব্য, যাকে আমি বিশ্বাস করি, ভালবাসি। মাদাপুরের মাথা ভাঙ্গা নদী প্রাগপুর দিয়ে হলুদ এই মাথা ভাঙ্গা নদী দুভাগ করেছে দুটি দেশকে। এপাশে মাদারীপুর ওপারে নদীয়া মাঝখানে কাঁটাতারের বেড়া। দুপাশের মানুষই আঙ্গুল তুলে দেখায় এই আমাদের নদী। গতরের কুসুম ঢেকে, নামতার ছলে ইস্কুলে যায়- সুরবালা। ছুটির ঘণ্টা বাজে, তেফসলি মাঠ থেকে উঠে আসে নিশিকান্ত, ঘাটে এসে দাঁড়ায়। অপেক্ষার বয়স বাড়ে, নদীতে গড়িয়ে যায় সময়। সন্ধ্যার বাতাসে ছাতিমের গন্ধ ভুলিয়ে দেয় সকল দুঃখ, পাপ। তামাক হাটের বাতাসা মুখে বাড়ি ফেরে সুরবালা, কাঁধে তার বইয়ের বোঝা। মনে পড়ে নদীর কথা, নদীর কাছে যায়- অন্ধকার হয়ে আসে। ওপারে দাঁড়িয়ে আছেন যিনি, দূর থেকে তাকে গাছের মতো মনে হয়। মাদাপুরের মাথা ভাঙ্গা নদী প্রাগপুর দিয়ে হলুদ এই মাথা ভাঙ্গা নদী দুভাগ করেছে দুটি দেশকে। এপাশে মাদারীপুর ওপারে নদীয়া মাঝখানে কাঁটাতারের বেড়া। দুপাশের মানুষই আঙ্গুল তুলে দেখায় এই আমাদের নদী। গতরের কুসুম ঢেকে, নামতার ছলে ইস্কুলে যায়- সুরবালা। ছুটির ঘণ্টা বাজে, তেফসলি মাঠ থেকে উঠে আসে নিশিকান্ত, ঘাটে এসে দাঁড়ায়। অপেক্ষার বয়স বাড়ে, নদীতে গড়িয়ে যায় সময়। সন্ধ্যার বাতাসে ছাতিমের গন্ধ ভুলিয়ে দেয় সকল দুঃখ, পাপ। তামাক হাটের বাতাসা মুখে বাড়ি ফেরে সুরবালা, কাঁধে তার বইয়ের বোঝা। মনে পড়ে নদীর কথা, নদীর কাছে যায়- অন্ধকার হয়ে আসে। ওপারে দাঁড়িয়ে আছেন যিনি, দূর থেকে তাকে গাছের মতো মনে হয়। জোর করলে ছিঁড়ে যাবে বোটার ফুল রাতে যখন ঘনিষ্ঠ হতে এসেছিলে পরনে তোমার নতুন ছোট্ট জামা- আমায় স্বপ্ন দেখিয়েছিল। একটু দুলবে বলে যে দোলনায় চড়লে হাজার বছরের পুরনো সে খেলনা, জোর করলেই ছিঁড়ে যাবে বোটার ফুল! কে বাঁশি বাজায়- শ্যাম না মিকাইল! অন্তর্দ্বন্দ্বে বুদবুদের মতো বাড়ছে- প্রেম, ঘৃণা, রেপ আর ব্যভিচার। আলা জিভ ভোগ খোঁজে, তার রতি সাধন নাই। পাপগুলো জমা হয় ফেসবুক পাতায় কোথায় প্রেম, হায়রে ভালবাসা । সুযোগ পেলেই নড়ে ওঠে আলা জিভ। সুগন্ধা মধুমতি সন্ধ্যারা কাঁদে আমি আর তুমি বর্বর হয়ে গেছি আমরা কাঁদতে পারি না। আদি বৃক্ষকে প্রশ্ন করি এমন কেন হলো? বৃক্ষ শুধায় পৃথিবীতে ভালবাসা অমর শুধু তোমাদের কৃতকর্মের ফলে বোটার ফুলগুলো সব ঝরে যাচ্ছে। নীলকণ্ঠ বাউল নদীতে মিশে যায় স্নানের জল। বৃক্ষ মায়ায় কাঁদে নিথর শরীর। উড়াল দেয় নীলকণ্ঠ বাউল জীবনের বীক্ষণে। অসিম তৃষ্ণায় জড়ো হয় অন্তিম সময়। সে নিজে কাঁদে; আকাশকে কাঁদায়। শিখ-ি নগরে ডুবে যায় সাঁঝের বেলা। হিম হয়ে আসে পদ্মবিলের জল। পাঁচ-দোহার আসন পাতে। আসে না পরাণ সাঁই; বাজেনা সাধের দোতারা। সুরের মায়ায় অন্ধব্রতচারী হারিয়েছে পথ, ডাকিনি সময় জড়ো হয় যমদূতের মতো। ধাবমান মৃত্যু ফিরে যায় মাটির ঘরে। সাঁইজির বারামখানায় পাঁচ-দোহার বিলাপ করে, দোতারা তার ডেকেই চলে, কেঁদেই ফেরে। যমদূতের বুটের আওয়াজ ওই যে শোন, জোরছে বাঁজাও নাকারা ঢোল, কৃষ্ণকাঠি আর মাদল। প্লাবনে পাহাড় ভাঙ্গে, ভাঙ্গতে থাকে মায়ার খেলা। হ্যালোজেন জ্বলে উঠলে চোখের তারায় নামতে থাকে মাথার ভেতর বাঁজতে থাকে বাউল কার- মারফতি গান। জল কামান যে চলে যাবে সে তুমি হবে না, সেটা তোমার শরীর, তুমি নউ। ডিজিটাল যুগে শরীর ও মন এক সঙ্গে দোলে না। যে চলে যাবে সে তো তুমি নউ, ভাসবে মানগুলা, আসবে নতুন জানগুলা, ফিরে তাকে আসতেই হবে। যমুনার জল শুষে নিয়েছে ক্ষমতার জলকামান, ফুলগাছি থেকে বিলাপ আসে, হায়রে জলজ জীবন। ম্যাকবেথের ডাকিনির মতো- অন্ধকারে মিলিয়ে যায় সময়, গাওয়া ঘির গন্ধে পুড়তে থাকে সাধের শরীর, মনপাখি উড়ে যায় ধান শালিকের মাঠে। যে চলে যাবে, পুড়ে যাবে, সে তো তুমি নউ, সেটা তোমারই হ্যাঙ্গার, এসো জোড়ের নামতায় পুণ্য হই, একবার জলকীর্তন করি। মায়ার পুতুল ভোরের নীরবতা ভেঙ্গে ঘর থেকে বেরিয়ে আসে কৃত্তিবাসের পুতুল। কাঠ, প্লাস্টিক, কাদা, চট আর উলে বোনা সব পুতুল। পালাকারের নির্দেশে আসর বসে। প্রাণ ফিরে পায় সব মায়ার পুতুল। কোথায় সে পালাকার? অন্ধকারে দেখা যায় না তাকে, আঙ্গুলে সুতো বাঁধা প্রশস্ত হাত দুটি ছায়ার মতো নড়তে থাকে। পুতুলের কান্না দেখে আসরের কচি প্রাণও কাঁদে। দ্বৈত চরিত্রে সেই পুতুল মিথ্যা স্বপ্ন দেখায় আর ভোগের কথা বলে। জীবনের কথা সে বলে না। একে একে উজির, নাজির সবাই আসে ভিন দেশ থেকে যুবরাজও আসে। কাঠের পুতুল- বাম- ডান, ডান- বাম, বাম- ডান, ডান- বাম। পালাকার গুনতে থাকে বিদেশী ডলার। রাত গভীর হয়। পুতুল নাচ থেমে যায়। আসর ছেড়ে একে একে বেরিয়ে আসে রক্তমাংসের পুতুল। হতভাগারা ছড়িয়ে পড়ে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, রূপসা থেকে পাথুরিয়া। তাদের পুতুল জীবন চলতেই থাকে। কাঠের পুতুল, নুনের পুতুল, মায়ার পুতুল, মোমের পুতুল, ক্ষীরের পুতুল, ননীর পুতুল! পালাকার- সেভেন ষ্টার বহুতল ভবনের ছাদে বসে, পরম আনন্দে ম্যান্ডলিন বাজায়। পানি ফোড়া সন্ধ্যায় আড্ডা জমে উঠলেই- নটা বেজে যায় জিন্সের পকেটে অযথাই কেঁপে ওঠে ওয়ালটন মুঠোফোন। নৈঃশব্দে তুমি ডাকছো ঘরে, মনোরমা কাঁদছে! মনে পড়ে ঘর- গৃহস্থালি, মুদিখানা, সবজির দোকান সাধ- আহ্লাদের বালাই নেই! মনে তার নিত্য হাহাকার। বয়স বাড়ে পকেটে পয়সা বাড়ে না। মুসুরির ডাল কেজিতে- একশত পঞ্চাশ। চাল ডাল তেল নুনের সঙ্গে ঘরে ফেরা। আজও ক্যালেন্ডার থেকে ঝরে যাবে পুরো একটি দিন। কাঁধের ঝোলা ব্যাগে জমতে থাকে- তীব্র নৈর্ঋিত আর জয় বাংলার হাট। কোথায় শব্দের বাগান! সাধের অধরা কাব্য! আড্ডা ভেঙ্গে যায় মনে তার তীব্র পানি ফোড়া, নটা বাজলেই কেঁপে ওঠে মুঠো ফোন, রিংটোন বাজে না- বাড়ে শুধু ঘরে ফেরার তাড়া। সন্ধ্যাটা জমলেই নটা বেজে যায়। পলোনিয়াস থেকে মইশাল কবিয়াল হোমিওপ্যাথের দলাধরা ছোট্ট পুরিয়ার মতো আমার একটি ব্যথা আছে। করোটির ভেতর বাহির কোথায় তার নিবাস জানা নেই। ক্যান্সারের জীবাণুর মতো ক্রমেই ছাড়িয়ে পড়ছে দেহে। দৃশ্যকাব্যে সরল হাসি মুখ ঈশ্বরের মায়ার খেলা, অস্থির মজ্জায় বিষের ব্যথাÑ পিতা পিতা বলে ডাকে। ওফেলিয়ার মতো কন্যা আমার ভেসে যায়। তোমরা কি দেখেছো তাকে মনোরমা সে! পিতার বুকভাঙ্গা কান্না দেখে যাও অনুপম। পলোনিয়াস থেকে শূন্যের আমি, তোমার পিতা মইশাল কবিয়াল আজ একা গৃহে। পিতার সঙ্গে অতি অভিমান মানায় না কন্যা। তুমিই আমার সঞ্জীবন। একবার বাবা বলে জড়িয়ে ধরো, মিটে যাক মৃত্যুক্ষুধা। তোমার পড়ার টেবিলে আলো জ্বলে উঠুক আর গিরিবাজ কবুতরগুলো চক্কর খেতে খেতে উড়ে যাক দূর আকাশে।