ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ০৪ অক্টোবর ২০২২, ১৯ আশ্বিন ১৪২৯

গরু নিয়ে চিন্তিত খামারিরা

প্রকাশিত: ০৪:২২, ২৯ আগস্ট ২০১৭

গরু নিয়ে চিন্তিত খামারিরা

স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী ॥ আগামী ২ সেপ্টেম্বর কোরবানি ঈদ। এ জন্য নীলফামারী জেলায় ৬১ হাজার ৬৬৭টি গবাদিপশু হাটবাজারে বিক্রির জন্য হৃষ্টপুষ্ট করেছে ২৩ হাজার ৬৫৪ জন খামারি। জেলার ২৬টি হাটে এসব গরু-ছাগল বিক্রির জন্য তোলা হলেও, খামারি কৃষকরা আশানুরূপ দামে গরু, ছাগল বিক্রি করতে পারছে না। সাম্প্রতিকালের ভয়াবহ বন্যার কারণে এমনটি ঘটছে বলে খামারিরা জানায়। জেলা প্রাণিস¤পদ অফিস সূত্র জানায়, হৃষ্টপুষ্ট হওয়া গবাদিপশুর তালিকায় রয়েছে ষাঁড় ৩৫ হাজার ২৬৫টি, বলদ ৫ হাজার ৮১টি, গাভি ৭ হাজার ৪৪০টি, ছাগল ১১ হাজার ২০৪টি এবং ভেড়া ২ হাজার ৬৭৭টি। আর খামারির সংখ্যায় রয়েছেন গরুতে ১৭ হাজার ৫৮৬ জন, ছাগলে ৫ হাজার ৪২৬ জন এবং ভেড়ায় ৬৪২ জন। ঈদের সময় ঘনিয়ে আসায় বিভিন্ন হাটবাজারে কোরবানির পশু ভরে গেলেও কেনাবেচা জমে উঠেনি। তবে ক্রেতার চেয়ে দালালের সংখ্যা বেশি বলে অভিযোগ করছেন বিক্রেতারা। জেলা সদর উপজেলার পশুর হাট ও ঢেলাপীর, ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ি, বসুনিয়ার হাট এবং জলঢাকা উপজেলার সদর ও মীরগঞ্জ হাট ঘুরে জানা গেছে, এবারের ভয়াবহ বন্যার প্রভাবে ক্রেতা না থাকায় হাটে গরু-ছাগল এনেও বিক্রি করতে পারছেন না বিক্রেতারা। এর ওপরে দালালদের দৌরাত্ম্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়েই চলেছে। বিক্রেতাদের অভিযোগ, গরু হাটে নিয়ে আসার আগেই দড়ি ধরে দখলে নিয়ে যাচ্ছেন দালালরা। এরপর মালিক সেজে সেই গরু বেশি দামে বিক্রি করে প্রকৃত মালিককে কম দিচ্ছেন। এ নিয়ে ঝগড়া হতেও দেখা গেছে বিভিন্ন হাটে। পুরো জেলায় এবারের বন্যায় কৃষকদের ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে তাদের হাতে নগদ টাকা-পয়সার চরম অভাব। এ কারণে যেসব কৃষক এককভাবে কোরবানি দিতেন, তারা এবার ভাগে গরু কিনে কোরবানি দেয়ার চিন্তায় হাটে এসেছেন। ফলে বেচাকেনা অনেক কম বলে জানিয়েছেন খামারি ও পশু পালনকারীরা। গরু খামারি রশিদ মিয়া বলেন, গরুর দাম এবারে অনেক কম। এর মধ্যে ২৮, ৩৫, ৫০ ও ৭০ হাজার টাকা দামের গরু রয়েছে। তারপরেও ক্রেতা মিলছে না। বন্যার কারণে এমনটি হয়েছে। পুরো জেলায় এবারের বন্যায় কৃষকদের ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে তাদের হাতে নগদ টাকা-পয়সার চরম অভাব। এ কারণে যেসব কৃষক এককভাবে কোরবানি দিতেন, তারা এবার ভাগে গরু কিনে কোরবানি দেয়ার চিন্তায় হাটে এসেছেন। ফলে বেচাকেনা অনেক কম। খুটামারা গ্রামের আজিজুল হক বলেন প্রতি ঈদে পরিবারে একটি গরু কোরবানি দেয়া হতো। এবার ভাগে কোরবানি দেয়ার চিন্তা করেছি। তাও দিতে পারব কিনা জানি না। এ ব্যাপারে কথা বলা হলে শনিবার জেলা প্রাণিস¤পদ কর্মকর্তা শাহ জালাল খন্দকার জানান, কোরবানি ঈদের কারণে এ জেলায় গবাদিপশু খামারিরা প্রায় ৬২ হাজার হৃষ্টপুষ্ট করেছে তা বিক্রি হবে কিনা এ নিয়ে খামারিরা চিন্তিত। বন্যার কারণে নীলফামারী বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেকের হাতে টাকা-পয়সা না থাকায় গরু বিক্রির বাজারে মন্দা ফেলতে পারে। যা ফুটে উঠছে কোরবানির হাটগুলোতে বেচাকেনা কম। হাটে পর্যাপ্ত দেশী গরু স্টাফ রিপোর্টার দিনাজপুর থেকে জানান, কোরবানির পশুর হাট জমে উঠেছে। বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিরা বাধ্য হয়ে অপেক্ষাকৃত কম দামে গরু-ছাগল বিক্রি করছেন। এখান থেকে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির গরু পাঠানো হচ্ছে। আসন্ন ঈদ-উল আযহা উপলক্ষে দিনাজপুরের ১৩ উপজেলার দেড় শতাধিক পশুর হাটে পর্যাপ্ত সংখ্যক দেশী গরু উঠেছে। জেলার প্রধান পশুরহাট সদর উপজেলার শিকদারগঞ্জ, ফাসিলাডাঙ্গা, রেলবাজার, করিমল্লাপুর, কাহারোল উপজেলার কাহারোল বাজার, জয়নন্দ ও ছোট গড়েয়া, বোচাগঞ্জ উপজেলার সেতাবগঞ্জ, মাহেরপুর ও সুলতানপুর, চিরিরবন্দরের আমতলী, রানীরবন্দর, ঘুঘুড়াতলী, বীরগঞ্জের কবিরাজহাট ও ঝাড়বাড়ী, খানসামার পাকেরহাট, কাচিনিয়া, পার্বতীপুরের যশাইহাট, আমবাড়ী ও ভবানীপুর, বিরামপুরের বিনাইল, বিজুল ও কাটলা, নবাবগঞ্জের দাউদপুর, ভাদুরিয়া ও আফতাবগঞ্জ, বিরলের খোশালডাঙ্গী, কালিয়াগঞ্জ, মঙ্গলপুর ও ধুকুরঝাড়ী হাটে প্রতিদিন ব্যাপক সংখ্যক দেশী গরু-ছাগলের আমদানি হচ্ছে। বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায় গতবারের তুলনায় এবার গরুর দাম ৫ থেকে ৮ হাজার কম। তবে ছাগলের দাম খুব একটা কমেনি। জানা যায়, এ বছর জেলার ১৩ উপজেলায় কোরবানির জন্য প্রায় ২ লাখ পশু হাটে-বাজারে উঠবে। এর মধ্যে ৮৫ হাজার ষাঁড়, ১২ হাজার বলদ, ৩১ হাজার গাভী, ৬৮ হাজার ছাগল, ৩ হাজার ভেড়া ও ২৫টি মহিষ রয়েছে। জেলার ৫৯ হাজার ২৪৪টি গবাদি পশুর খামারে কোরবানির জন্য এসব পশুর যতœ করা হয়। প্রতিদিন দিনাজপুর থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ২০ থেকে ৩০ ট্রাকে গরু যাচ্ছে। খুব কম সংখ্যক ভারতীয় গরু হাটে-বাজারে দেখা যাচ্ছে। বন্যার কারণে খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি কোরবানিতেও বেশি দামে বিক্রি করতে পারছেন না।