শনিবার ২০ আষাঢ় ১৪২৭, ০৪ জুলাই ২০২০ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

শোভন সরকারের একদিন -স্বদেশ রায়

কেমন আছো?

ফোন করলে যে বড় মনে করে, তুমি তো দুনিয়ার ব্যস্ত মানুষ। ফোন করলে তো উত্তর পাই, ক্যান আই কল ইউ লেটার, তা সে লেটার আর হয় না। তা বলো এত সময় হলো কীভাবে?

না, মিতা, আসলে এটা ঠিক নয়, তোমার সঙ্গে আমি যথেষ্ট কথা বলি, তবে ফোনগুলো আমি আমার সময় মত করি। তুমি থাকো আটলান্টিকের ওপারে আমি এপারে। টাইম জোনও তো বড় বাধা। তুমি ওয়ালম্যাটের ব্যস্ত কর্মী আর আমি বাংলাদেশের মুদি দোকানের কর্মচারী।

মুদি দোকান মানে?

আরে বাংলাদেশে এখনও কেউ কি কোন প্রতিষ্ঠান গড়তে শিখেছে? সবে তো চল্লিশ বছর হলো হাল ছেড়েছে। তাই বড়জোর সবাই একটা মুদি দোকান দেয়, আমরা সেই সব মুদি দোকানের কর্মচারী।

তুমি কিন্তু সেই আগের মতই আছো, তোমার কথা শুনলে না হেসে পারা যায় না। আসলে তুমি না- হাসিয়ে আমাদের পেট ফাটিয়ে দিতে।

তা কারো পেটে বাচ্চা তো দেই নি।

দিলে ক্ষতি ছিলো না, তবে সেটা তোমার ন্যাচারে কখনও ছিলো না, যাকে বলে মজলিসে- তুমি ছিলে তাই। এখনও সেসব দিনগুলো মনে পড়লে নস্টালজিয়ায় চলে যাই।

নস্টালজিয়া কি? আমি না এগুলোকে নস্টালজিয়া মনে করি না, বরং এই সব মিলেই মানুষের জীবন।

তা বলো- ফোন করলে হঠ্যাৎ, কেন এ করুণা?

করুণা নয়, দুঃসাহস বলতে পারো। মনে করতে পারো তোমার সেই কৈশোরের দিনগুলো, তোমার চারপাশে কত ছেলে ঘুর ঘুর করতো। আর সুন্দরী শ্রেষ্টা হিসেবে তুমি কতটা গরবিনী ছিলে।

তুমি বেশি বলছো, বরং ডানপিটে ছিলাম বলতে পারো, এমনকি মেয়েদের থেকে ছেলেদের সঙ্গে বেশি খেলতাম বলে অনেকে আমাকে দস্যি বলতো। তুমি তো ছিলে অলস, বই নিয়ে পড়ে থাকতে, খেলা দেখলে পালাতে। কোন কাজে তোমার কোন যোগ্যতা ছিলো না।

কোন যোগ্যতা ছিলো না এমন বলতে পারো না, অনেক যোগ্যতা ছিলো। আমি ভালো কাঁচা আম মাখাতে পারতাম। তুমি, বৌদি সবাই বলতে শোভনের হাতে আম মাখানো সব থেকে ভালো হয়। তাছাড়া সব বৌদিরা তোমাদের সবার থেকে আমাকে আদর করতো বেশি। এই আদর পাওয়া কী কম যোগ্যতার বিষয়?

এই এখন তোমার সময় নষ্ট হচ্ছে না? এখন তো দুনিয়ার কথা বলছো। আমার এখন কাজের সময় ফোন রাখতে হবে, বলো ফোন করেছিলে কী এমনি -না, কোন কথা আছে?

আরে আজ ফেসবুকে তোমার মেয়েকে দেখে একেবারে তোমাকে দেখলাম বলে মনে হলো, তাই ফোন করলাম। আর মাকে মনে হলো ...

দেখ মাকে দেখে তোমার কী মনে হলো এটা তোমাকে বলতে বলছি না...শয়তান আছে এখনও ঠিক আগের মতো। আচ্ছা বলতো হাফিজ কেমন আছে, এখন কী করে?

হাফিজ এখন মস্ত ডাক্তার। বিখ্যাত ব্যক্তি। মাঝে মাঝে আমাকে ফোন করে মিতা চক্রবর্তীর কথা বলে।

ধ্যাৎ, ওর আমার কথা মনেই নেই।

মিতা আমার কাছে মিথ্যে বলে লাভ আছে। তবে হাফিজের বউটি ওকে খুব দেখেশুনে রাখে।

তোমাদের সকলের বউ ভালো হয়েছে।

দেখ প্লুরালে কথা বলো না। কারণ সকলের বউ তো আর মিতা চক্রবর্তী হতে পারতো না। একজনেরই হতো। আর সেটা হাফিজুর রহমানের হতো। আমাদের বউ বলো আর জীবনের বন্ধু বলো সে আমরা বেছে নিয়েছি?

এই আচ্ছা বলো তো- তুমি প্রেম করলে কীভাবে?

দেখ তৃতীয়লিঙ্গ যাকে তোমরা হিজড়া বলো তারাও প্রেম করতে পারে সেখানে শোভন সরকারের প্রেম করতে অসুবিধা কি?

আচ্ছা বলতো, তোমার কি কখনও মনে হয়েছিলো, মিতা চক্রবর্তীকে একটু ভালোবাসি, না মনে হতো মিতা চক্রবর্তীর বৌদিকে ভালোবাসি।

সুতপা বৌদি আমার অনেক বড় বন্ধু ছিলো, বৌদি তোমাদের বাড়ি ছেড়ে রাজ্জাক ভাইকে বিয়ে করার পরেও একদিন কোলকাতায় যাবার পথে ঢাকা এয়ারপোর্টে বৌদির সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিলো। প্রথমে আমি হেজাব পরা অবস্থায় বৌদিকে চিনতে পারিনি। সে আমাকে ঠিক চিনেছিলো? আমি তাকে বললাম, এই ভুড়িওয়ালা মুদি দোকানদারের মত চেহারা শোভন সরকারকে বৌদি তুমি চিনলে কীভাবে? বৌদি হেসে বললেন, নিজেকে নিয়ে এখনও সেই আগের মত ঠাট্টা করো। তবে বৌদি খুব সুখে আছে তা আমার মনে হয়নি। চক্রবর্তী বাড়ির সেই হারমোনিয়াম পেছনে বসা একটি উচ্ছল ঝর্ণাকে আমার কেমন যেন শিব মন্দিরের সামনে পড়ে থাকা একখানা কালো পাথর মনে হলো।

বৌদির ফোন নাম্বার আছে তোমার কাছে?

না নেয়নি। নতুন নাম কী নিয়েছে তাও আর জিজ্ঞেস করিনি। তবে আমার সুতপা বৌদি বলতে এখনও মনে পড়ে সেই লাল ঠোঁটটা একটু ফুলের পাপড়ির মতো বেঁকে যেতো আর কপোলে টোলপড়া অবস্থায় দশটি সোনালী আঙুল হারমোনিয়ামের ওপর খেলা করছে - আমরা শুনছি সেই মায়াবী গলার, নদী আপন বেগে পাগলপারা..., আসলে মিতা এখন এসে মনে হয়,নদী মনে হয় সব সময়ই আপন বেগে পাগলপারা থাকে না।

ওপাশ থেকে মিতা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললে, তুমি দুষ্টামি দিয়ে ফোনটা শুরু করেছিলে এখন কেমন যেন মনটা খারাপ হয়ে গেলো।

খারাপ হবার কিছু নেই। তুমি যদি গার্গী আর অজিতকে দেখো। কোলকাতায় যদি যাও এবার ঢাকা আসার পরে দেখো এসো। কীভাবে দুজনে মিলে কালীপুজো করছে। একেবারে সাঁওতাল হয়ে গেছে।

আচ্ছা রোকেয়া কোথায় এখন?

ও তো যাদবপুর পড়ার সময় অসিত রায়কে বিয়ে করেছে?

কোন অসিত রায়?

কেন, কোলকাতা লোকনাট্য দলের সেই অভিনেতা, যাদবপুর ইউনিভার্সিটির তরুণ প্রফেসর ছিলো- আমরা একবার গিরিশমঞ্চে এক সঙ্গে তার অভিনয় দেখলাম না। পরে ঢাকায়ও এসেছিলো ওরা ওদের দল নিয়ে। তুমি ততদিনে স্টেটে চলে গেছো।

তাহলে রোকেয়া কি কোলকাতাতেই সেটেল্ড করেছে।

ও তো এখন পুরোপুরি ভারতীয় নাগরিক। ওখানে শিক্ষা বিভাগে কী একটা বড় চাকরি করে। তবে তার থেকে বড় হলো দুজনে মিলে চুটিয়ে অভিনয় করছে। রোকেয়া ওখানে বড় বড় কাগজের শিরোনাম হয়।

তোমার সঙ্গে ওদের যোগাযোগ আছে?

আছে, আমি ওখানে গেলেই রোকেয়া যে কোন ভাবেই হোক সময় করে আমার সঙ্গে দেখা করে। আপাদমস্তক অভিনেতা। একেবারে ওর জীবনটা জুড়ে আছে মঞ্চ। অসিতেরও একই অবস্থা। ওদের দুজনকে নিয়ে মাঝে মাঝে আমার প্রশ্ন জাগে, ওরা একে অপরকে বেশি ভালোবাসে না মঞ্চকে বেশি ভালোবাসে?

তোমার ঘরের বন্ধুটির সঙ্গে সেদিন তোমাকে নিয়ে অনেক কথা হলো, সে তো জানালো, সংসার ধর্ম সব কিছুর থেকে তুমি নাকি বই পড়তেই বেশি ভালোবাসো। এখনও তুমি আগের মতই বই পড়ো? তোমার কাজ আর বই নিয়েই আছো। তুমি কি এখনও আগের মতই ও রকম ভোরাসিয়াস রিডার? হয়তো বেশি পড়ি বা হয়তো পড়িনা, তবে পড়ি। এখন আর ভোরাসিয়াস কিনা জানি না।

শুধু পড়ে যাবে, লিখবে না কিছু।

তোমরা সবাই জীবন থেকে হারিয়ে গেলে তাই তো আর লেখা হলো না।

হ্যাঁ, আমাদের সকলকে তোমার মোগল হেরেমে থাকতে হতো আর তুমি লেখক হতে? রবীন্দ্রনাথের কী হেরেম ছিলো?

রবীন্দ্রনাথের একটা প্রাণের হেরেম ছিলো। আমাদের প্রাণও নেই, হেরেমও নেই। আর হেরেম থাকলেই কি সব হয়? দেখ, সব বাদশাহের হেরেম ছিলো তারা তো মসজিদ তৈরির পাল্লা দিয়েছে, তাজমহল বানিয়েছে একমাত্র শাহজাহান।

তোমার সঙ্গে কথায় পারা যাবে না। এখন রাখি।

মিতা ফোন রাখতেই শোভন কয়েক সেকেন্ডে নিজেকে ধাতস্থ করে নেয়,তারপর আবার নিজের অফিসের কাজে মন দেয়। আজ তাকে চায়না থেকে আসা কনসাইনমেন্টগুলোর মার্কেটিংটা নিয়ে একটা প্ল্যান করতে হবে। এ জন্যে সন্ধ্যে ছয়টার পরে অফিসে সে একটা মিটিং দিয়েছে। এই ব্যবসাটাকে শোভন আগের থেকে বড় করেছে। তাদের বাবার আমলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। বাবা তখন বার্মা থেকে কিছু নিত্য প্রয়োজনীয় গুডস আমদানি করতেন, আর গোটা দশেক পণ্য বার্মায় পাঠাতেন। তখন এক দেশ। অর্থাৎ একই ব্রিটিশ সা¤্রাজ্যের অধীনে। শোভনের বাবা ছিলেন পুরোদস্তুর সাহেব। পাকিস্তান আমলেও হ্যাট আর ছাতা ছাড়া সে কখনই বাবাকে চলতে দেখেননি। বাবার কাছে শোভন শুনেছেন, বার্মা দেশটি তখন আসলে বার্মিজদের ছিলো না, দেশটি ছিলো মূলত গুজরাটি আর বাঙালি ব্যবসায়ীদের। তখন বার্মা শহরে ইংরেজদের ক্লাবগুলোর বাইরে সব থেকে যে পশ ক্লাবগুলো ছিলো তা বাঙালিদের। গুজরাটিরা অতটা ক্লাব কালচারে অভ্যস্ত ছিলো না। ভারতের ভেতর একমাত্র বাঙালিরা যেমন সব কিছুতে ইংরেজদের অনুকরণ করেছিলো অমনটি আর কোন জাতি করেনি। শোভনের বাবার মত ছিলো- একটা বিষয় সব সময় ভুল ইন্টারপ্রিট হয়, বলা হয়- বাঙালি মুসলিমরা ইংরেজদের থেকে দূরে ছিলো, বাঙালি হিন্দুরা ইংরেজদের খুব কাছাকাছি ছিলো, তাদের অনুকরণ করতো। শোভনের বাবার মতে, হিন্দু ও মুসলিম চাষীরা সমানভাবেই ইংরেজ থেকে দূরে ছিলো বা তাদের কাছে যাবার কোন সুযোগ তাদের ছিলো না। শিক্ষিত ও ধনী মুসলিম আর হিন্দু একই রকম ইংরেজদের অনুকরণ করতো। একইভাবে রায় সাহেব,খান সাহেব,রায় চৌধুরী, খান চৌধুরী, রায় বা খান বাহাদুর এমনকি স্যার পদবিও পেতো। মুসলিম জমিদাররা চাষী মুসলিমদের সঙ্গে যেমন ব্যবহার করতো হিন্দু জমিদাররাও একই ব্যবহার করতো। পাকিস্তান আন্দোলনের নামে একশ্রেণীর মুসলিম নেতা বিকৃত ইতিহাস সামনে নিয়ে এলো। আবার একশ্রেণীর শিক্ষিত হিন্দু নেতার আলদা হবার তাড়না থেকেই অনেক কল্পিত কাহিনী বলতে শুরু করলো। আর সেগুলো হয়ে গেলো ইতিহাস। এদের এক দলের ইচ্ছে ছিলো নেতৃত্ব যেন মুসলমানের হাতে থাকে। আরেক দলের ইচ্ছে ছিলো নেতৃত্ব যেন হিন্দুর হাতে থাকে। তাই ভূগোলের যে বারোটা বাজে বাজুক। তাদের কারণেই হিস্ট্রির ইন্টারপ্রিটেশন বদলে গেলো।

শোভনের বাবা বার্মা ক্লাবের নিয়মিত ব্যক্তি ছিলেন। ব্যবসার কারণে যতদিন তিনি রেঙ্গুন বা কাইকুটাডা শহরে থাকতেন তাঁর ঠিকানাই ছিলো ক্লাব। এই কালচারটি শোভনকেও পেয়ে বসেছে। এখন ঠিক আর বাংলাদেশের কোন ক্লাব শোভনের ওই ভাবে ভালো লাগে না। ক্লাবগুলোতে নাগরিক কালচারের বদলে একটা গ্রামীণ কালচার প্রতিদিন জেঁকে বসছে। তার ওপরে জেঁকে বসছে নানান ধর্মীয় বিধিনিষেধ। ক্লাবের সেই অবাধ দিগন্তটি প্রতিদিনই অুনপস্থিত হতে চলেছে।

শোভনদের এখনও কিছু ব্যবসা সাবেক বার্মা অর্থাৎ মিয়ানমারের সঙ্গে আছে। তবে ব্যবসা গুটাতে না হলেও অনেক চিন্তায় ফেলে দিয়েছে তাকে। শিপমেন্টে খুব অসুবিধা হচ্ছে। ইয়াঙ্গুনের আকাশ-বাতাস দিন দিন বদলে যাচ্ছে । পৃথিবীতে ঈশ্বরচিন্তা থেকে মানুষের কল্যাণের জন্যে যে ব্যক্তি জোর দিয়েছিলেন, তার অনুসারীদের ধাবিত করেছিলেন, সেই বৌদ্ধকে যেন বার্মিজরা দিন দিন পাল্টে ফেলছে। যার ফলে বেশ মুশকিলে পড়তে হচ্ছে শোভনের ইয়াঙ্গুনে, আগের মত তার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এখন মিয়ানমারে স্বচ্ছন্দে চলাফেরা করতে পারে না। মুসলিম হিসেবে তাদেরকে নানান অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। কিছু মালামাল সে টেকনাফ থেকে আরাকানের পথে নিতো- সেখানে পথে পথে আর্মির বাধা। আরাকান রোহিঙ্গা মুসলিমদেরকেও সেখানে কাজের জন্যে নিতে পারে না। বাধা আসে। সে বাধার পেছনে কাজ করে ধর্ম।

এই সব ভাবতে ভাবতে মার্কেটিংয়ের মিটিংয়ের সময় হয় শোভন সরকারের । ব্রিটিশ আমলে তাদের গুপ্ত পদবিটা বদলে সরকার হয়ে গেছে। কারণ তাদের পূর্বপুরুষকে ধরে নেয়া হতো ব্রিটিশ সরকারের লোক। সেই থেকে কীভাবে সরকার হয়ে গেছে এ কথা মনে পড়ে হঠ্যাৎ হাসি পায় তার। এখন কি সরকার ব্যবসাকে আনুকূল্য দেয় না ব্যবসায়ীরা সরকারকে আনুকূল্য দেয়? গার্মেন্ট ব্যবসার কারণে শোভনকে বেনামে ইহুদী কয়েক পার্টনারের সঙ্গে ব্যবসা করতে হয়। তাদের মূল অফিস হংকংয়ে। নাগরিক আমেরিকার। শোভনের গার্মেন্ট ব্যবসায় সত্তর ভাগ পুঁজি তাদের। তাদের সঙ্গে ব্যবসা করার কারণে আমেরিকায় অনেক জু ব্যবসায়ীর সঙ্গে পরিচিত শোভন। এবার ট্রাম্পের নির্বাচনে তাদের গেমকে খুব কাছে থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছে। তার থেকে শোভনের মনে হয় ট্রাম্পের আমলে ইসারইল বেশ বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সৌদিকে মধ্যপ্রাচ্যের মোটামুটি উদার মুসলিম শাসকগুলোর বিরুদ্ধে কাজে লাগাবে। এই পর্যন্ত ভেবেই আজও সে মধ্যপ্রাচ্যের গণতন্ত্র নিয়ে ভাবতে যাচ্ছিলো- এমন সময়, তার পি এস রাশেদা এসে বলে, স্যার সবাই মিটিং রুমে অপেক্ষা করছেন।

মার্কেটিং মিটিংয়ে তাদের সিদ্ধান্ত হয় কিছু চাইনিজ মালকে বাংলাদেশী মোড়ক দিয়ে ভারতে রফতানি করার কোন সুযোগ পাওয়া যায় কিনা? কিছু পয়সা খরচ হলেও তাদের এ কাজটি করতে হবে। তাহলে কোন কোন মালে তিরিশ পারসেন্ট লাভ করা যাবে।

সাকসেসফুল এমন একটি মার্কেটিং মিটিং করে মনটা ভালো হয়ে যায় শোভনের। ফোন করে তার বন্ধু শাহেদকে। জানতে চায় জিম শেষে কখন ক্লাবে আসবে সে। শোভনও এখন জিমে যাবে। দুজনের সময় মোটামুটি কাছাকাছি হয়। শাহেদ ও শোভন একই রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। তবে শাহেদ যত না ব্যবসায়ী তার থেকে বেশি সমাজকর্মী ও উদার একজন মানুষ। ওদের পূর্বপুরুষ জমিদার ছিলো। তাই একটা জমিদারি ভাব শাহেদের মধ্যে সব সময়ই কাজ করে- শোভনের মত এত পাকা ব্যবসায়ী সে না। শাহেদ কিছুদিন রাজনীতি করারও চেষ্টা করেছিলো। ছেড়েছুড়ে আবার নিজের জীবনে ফিরে এসেছে। শাহেদের কথা এ রাজনীতি তার দিয়ে হবে না এর থেকে পুঁটি মাছ ভাজি আর হুইস্কি খাওয়া অনেক ভালো। আজও করলা আর চিংড়ি ভাজির সঙ্গে ইয়োলো লেবেল নিয়ে শাহেদ ও শোভন চিয়ার্স করে।

শীর্ষ সংবাদ:
বাংলাদেশকে ৫ কোটি ডলার ঋণ দেবে দ. কোরিয়া         প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়ন কমিটি         রেলে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করা হবে না : রেলমন্ত্রী         আগামী ১৪ জুলাই বগুড়া-১, যশোর-৬ আসনে উপ-নির্বাচন         রাজধানীতে ৮ প্রতিষ্ঠানকে ভোক্তা অধিকারের জরিমানা         জমি ও ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রেশন ফি কমিয়েছে সরকার         ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা         দেশে করোনা ভাইরাসে মৃত্যু ২ হাজার ছুঁইছুঁই, নতুন আক্রান্ত ৩২৮৮         ঈদের আগেই শ্রমিকের বেতন-ভাতা পরিশোধের আহ্বান কাদেরের         এক কোটি ৬৮ লাখ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছে সরকার         বিএসএমএমইউতে করোনা ভাইরাসের রোগী ভর্তি শুরু         ওয়ারীতে লকডাউন কার্যকর         করোনা ভাইরাস ॥ চবি ক্যাম্পাস লকডাউন         মুগদা হাসপাতালে মারধরের ঘটনায় দুই আনসার প্রত্যাহার         বিমানের সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়া ফ্লাইট ৩১ আগস্ট পর্যন্ত স্থগিত         ফ্রান্সের নতুন প্রধানমন্ত্রী জ্যঁ ক্যাস্টেক্স         গাজীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় গার্মেন্টসের দুই নারী শ্রমিক নিহত         করোনা ভাইরাসে পিআরএলে থাকা যুগ্মসচিবের মৃত্যু         লক্ষ্মীপুরে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে দুই চালক নিহত         করোনা ভাইরাস পরীক্ষার ফি তুলে দেওয়ার দাবি বিএনপির        
//--BID Records