ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ৩০ জুন ২০২২, ১৬ আষাঢ় ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

খেলা

মাশরাফির বিদায়ী টি২০ আজ

প্রকাশিত: ০৬:২৩, ৬ এপ্রিল ২০১৭

মাশরাফির বিদায়ী টি২০ আজ

মিথুন আশরাফ ॥ আজই শেষ হয়ে যাচ্ছে মাশরাফি বিন মর্তুজার টি২০ ক্যারিয়ার। আজ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ও সিরিজের শেষ টি২০ ম্যাচ রয়েছে। এই ম্যাচটি খেলেই টি২০ ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়ে নিচ্ছেন বাংলাদেশ ওয়ানডে ও টি২০ দলের অধিনায়ক মাশরাফি। তাই মাশরাফির টি২০ থেকে অবসরের ম্যাচই হয়ে দাঁড়াচ্ছে আজ। অবসর নেয়ার ঘোষণা মঙ্গলবার প্রথম টি২০ ম্যাচের দিনই দেন মাশরাফি। টস করতে গিয়েই এই ঘোষণা দেন তিনি। বলেন, ‘এ টি২০ সিরিজটিই আমার শেষ টি২০ সিরিজ। আমি অবসর নিয়ে নিচ্ছি। বিসিবি, আমার পরিবার, সতীর্থ, কোচিং স্টাফ, সমর্থকদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’ যখন টস করতে গিয়ে এমন কথা জানান ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’, তার আগেই ফেসবুকে তার ফ্যানপেজে বিশাল এক স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি জানান, ‘বাংলাদেশ টিমকে টি২০ ইন্টারন্যাশনালে ১০ বছরের বেশি সময় ধরে প্রতিনিধিত্ব করা আমার জন্য অনেক গর্বের। আমি বিশ্বাস করি বর্তমান দলটি একটি ভাল দল এবং দলে কিছু উদীয়মান খেলোয়াড় আছে। আমার ওপর আস্থা রাখার জন্য এবং আমাকে এত চমৎকার দলের নেতৃত্ব প্রদানের সুযোগ দেয়ার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। আমি আমার সকল ভক্ত, পরিবার এবং বন্ধুদের প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ আমাকে সবসময় সমর্থন করার জন্য। এই সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারে উত্থান এবং পতন ছিল। আমি সবসময় চেষ্টা করেছি আমার ফ্যানদের খুশি করার। আমি আমার প্রত্যেক ফ্যানের কাছে তাদের প্রতি ম্যাচে খুশি করতে না পারার জন্য ক্ষমা চাইছি। এই মুহূর্তে দল হিসেবে আমরা ভাল খেলছি। আমি নিশ্চিত বাংলাদেশ সামনের দিনগুলোতেও ভাল ক্রিকেট খেলবে। আমি মনে করি টি২০ ফরমেট থেকে অবসর নেয়ার জন্য এটাই আমার উপযুক্ত সময় যাতে অনেক তরুণ উদীয়মান ক্রিকেটার তাদের প্রতিভা তুলে ধরতে পারে এবং বিসিবি তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে পারে। আমি বাংলাদেশের টি২০ টিমের নতুন অধিনায়ককে আগাম অভিনন্দন জানাই এবং আমি নিশ্চিত বাংলাদেশ ক্রিকেটের সেরা সময় সামনে আসবে। শীঘ্রই আবার দেখা হবে। সকলের জন্য আমার আন্তরিক ভালবাসা।’ মাশরাফি সঠিক সময়েই সঠিক কাজটি করেছেন। সম্মান, জৌলুস থাকতেই অবসর নিয়েছেন এবং ঘোষণাটি টস করার সময়ই দিয়েছেন। যা কোন অধিনায়ক করতে পারেনি। তবে এই অবসরের পেছনে আবার অন্য কোন ঘটনা নেইতো? এমন প্রশ্নও উঠছে। আছে। সেগুলো থাকবেই। মাশরাফি টি২০ ক্রিকেটে চলে না। এমনও নাকি বলা হয়েছে। তা বিতর্কের বিষয়। তবে সঠিক সময়েই যে মাশরাফি টি২০ থেকে অবসর নিচ্ছেন তা সবার মুখে মুখেই। তবে ওয়ানডে ক্রিকেট ঠিকই খেলে যাবেন তিনি। টেস্ট তো সেই ২০০৯ সালের পর থেকে খেলতেই পারছেন না। টেস্ট খেলার শারীরিক সক্ষমতা নেই। ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে গিয়ে যে ইনজুরিতে পড়েন এ পেসার, সেই থেকে আর টেস্ট খেলতে পারেননি মাশরাফি। তবে ওয়ানডে ও টি২০ ঠিকই খেলে গেছেন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি২০ সিরিজের পর আর মাশরাফিকে আন্তর্জাতিক টি২০ ক্রিকেট খেলতে দেখা যাবে না। শোনা যাচ্ছিল, আসছে জুনে যে ইংল্যান্ডে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি অনুষ্ঠিত হবে। টুর্নামেন্টটির পর ওয়ানডে ক্রিকেটও ছেড়ে দেবেন মাশরাফি। কিন্তু এ নিয়ে কখনই নিশ্চিত করে কিছু জানাননি মাশরাফি। বারবার বলেছেন, ‘যখন সময় হবে, নিজেই জানাব।’ টি২০ থেকে অবসরের ঘোষণা হঠাৎ করে নিজেই জানিয়ে দিলেন। আচমকা সেই ঘোষণা আসল। বাংলাদেশের নির্ধারিত ওভারের সবচেয়ে আলোকিত এ অধিনায়ক এখন পর্যন্ত টি২০তে সর্বোচ্চ ২৮ ম্যাচে নেতৃত্ব দেন। ৯ ম্যাচে তার নেতৃত্বে দল জিতে। হারে ১৭ ম্যাচে। একটি ম্যাচের রেজাল্ট হয়নি। টি২০ বাংলাদেশ এখনও শক্তিশালী দল হয়ে ওঠেনি। তরুণদের জায়গা করে দিতেই নিজেই টি২০ থেকে সরে দাঁড়ালেন। এ অবসর নিয়ে কোন বিতর্ক অবশ্য চান না মাশরাফি। মঙ্গলবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে শেষে বলেছেন, ‘আমার কাছে মনে হয় এই সময় বিতর্ক না তৈরি করে আমাদের ক্রিকেটের উন্নতির জন্য কাজ করা উচিত। আমাদের ক্রিকেট এগিয়ে যাক। আমার কাছে মনে হয় না এসব নিয়ে আলোচনা করার কিছু আছে।’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘সোমবার রাতে যখন সিদ্ধান্ত নিই তখন জানতাম এমন একটা প্রশ্ন আসবে। বাংলাদেশের জন্য খেলছি। একটা ম্যাচ জিতলে সেটা বাংলাদেশই জিতবে। সেখানে মাশরাফির চেয়ে দেশ অনেক বড়। আমার কাছে মনে হয় এই ম্যাচ বাংলাদেশ হেরেছে। এটাই সবচেয়ে বড় কথা।’ টি২০ সংস্করণে বাংলাদেশের উন্নতিই দেখেন মাশরাফি, ‘টি২০তে এখন আমার বেশ ভাল জায়গাতে আছি। ছোটখাটো জায়গায় ভুল না করলে আমরা কিন্তু ভাল দল টিম হয়ে উঠছি। হয়তো বলতে পারেন অন্য দেশের মতো মেরে খেলার ব্যাটসম্যান নেই। তারপরও আমাদের টপঅর্ডার যদি ঠিকভাবে খেলে তাহলেই হয়। আরও কয়েকজন খেলোয়াড় আছে। মুস্তাফিজ আছে। কিছু তরুণ খেলোয়াড় যোগ হয়েছে। তাসকিন আছে, মিরাজ উঠে আসছে। আসলে পুরোটাই সেটআপের ব্যাপার। টি২০ জিততে গেলে দুই থেকে তিনজন খুব ভাল ব্যাটসম্যান, ভাল বোলার দরকার। এখন যারা উঠে আসছে এরা যদি আরও একটু অভিজ্ঞ হয়, আমি নিশ্চিত এখন যতটা ভাল করছি, পরবর্তী বিশ্বকাপে আরও ভাল করব।’ মাশরাফি এমন সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা জানাতে গিয়ে বলেন, ‘সিদ্ধান্ত নিয়েছি সোমবার রাত দুইটার দিকে, এনিয়ে ভাবতে গিয়ে সজাগ থাকতে হয়েছে সেই ভোর পাঁচটা পর্যন্ত। দুপুরে উঠেছি, সবার আগে জানিয়েছি মাকে। এরপর বাবা-স্ত্রী, মামা, ঘনিষ্ঠ বন্ধু-স্বজনদের জানিয়েছি। এর বাইরেও অনেকেই আছেন তাদের জানিয়েছি, পিচ কিউরেটর জাহিদ রেজা বাবু ভাইকে জানিয়েছি। মাঠে আসার আগেই জানিয়েছি বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসানকে। সতীর্থদের জানিয়েছি দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে।’ টি২০ ফরমেটটা কখনও উপভোগ করেননি বলেও জানান মাশরাফি, ‘আমি কখনও এই ফরমেট উপভোগ করিনি। আমি পাঁচটি বিশ্বকাপ খেলেছি। কিন্তু কখনও উপভোগ করিনি। তারপরও আমি চালিয়ে যাচ্ছিলাম, কারণ বোর্ড চাচ্ছিল, আমি অধিনায়ক হিসেবে চালিয়ে যাই। এই দলটাকে যতটা সম্ভব গড়ার জন্য কঠোর চেষ্টা করেছি। কতটা পেরেছি জানি না।’ প্রথম টি২০ শেষে সংবাদ সম্মেলনে দলে রুবেল হোসেন না থাকার বিষয়েও আক্ষেপ করেন মাশরাফি, ‘যখন দেখলাম ও (রুবেল) দলে নেই, সেটা আমাকে খুব আহত করেছে। ও আমার জন্য খেলতে পারছে না। আমি বিশ্বাস করি, ওর প্রথম একাদশেই থাকা উচিত ছিল। যদি আমি অধিনায়ক না থাকতাম ও খেলতে পারতো। আমার চেয়ে ওর পারফর্মেন্স যেহেতু ভাল আমি মনে করি ওর খেলা উচিত।’ আর এসব বিবেচনাতেই মাশরাফি শেষ পর্যন্ত টি২০ থেকে অবসরের ঘোষণাটা দিয়ে দিয়েছেন। আজ তার সেই টি২০ থেকে অবসরের ম্যাচ। আন্তর্জাতিক টি২০ ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচও।