ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২০ আগস্ট ২০২২, ৫ ভাদ্র ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

ভুটান থেকে জলবিদ্যুত আমদানির বিষয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের সিদ্ধান্ত

দুই মাসের মধ্যে রামপাল বিদ্যুত কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ শুরু

প্রকাশিত: ০৫:৫৪, ১৪ জুলাই ২০১৬

দুই মাসের মধ্যে রামপাল বিদ্যুত কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ শুরু

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আগামী দুই মাসের মধ্যে রামপাল বিদ্যুত কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ শুরু হবে। রামপাল বিদ্যুত কেন্দ্রের সাইট পরিদর্শনের সময় ভারতের বিদ্যুত সচিব এ কথা জানিয়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আলোচিত বিদ্যুত কেন্দ্রটির চুক্তি স্বাক্ষর হয়। বিদ্যুত কেন্দ্রটির সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচীর (সিএসআর) আওতায় বুধবার স্থানীয়দের জন্য সেলাই এবং কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্বোধন করা হয়। অন্যদিকে জল বিদ্যুত আমদানির জন্য ভুটান-বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে আলোচনার সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই ভুটানের সঙ্গে আলোচনা করে ত্রিপক্ষীয় এ সংক্রান্ত বৈঠক করা হবে। বুধবার বিকেলে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে দুই দেশের যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ভুটান এবং নেপাল থেকে জল বিদ্যুত আমদানিতে ভারতের সহায়তা প্রয়োজন রয়েছে বলে জানা গেছে। বুধবার বিকেলের বৈঠক শেষে বিদ্যুত বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশ ভুটানের জল বিদ্যুত প্রকল্পে এক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। এ নিয়ে ভুটানের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু বিদ্যুত বাংলাদেশে আনতে ভারতের সহায়তা প্রয়োজন। ভারত এক্ষেত্রে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের প্রস্তাব দেয়া হয়। বৈঠকে জানানো হয় তিন দেশের মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতে একটি সুনির্দিষ্ট নীতি ঠিক করা হবে। যার আলোকে ভুটানে জল বিদ্যুত প্রকল্পে বিনিয়োগ করা যাবে। অন্যদিকে বুধবার সকালে বিদ্যুত সচিব মনোয়ার ইসলাম, ভারতের বিদ্যুত সচিব প্রদীপ কুমার পূজারী, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা, এনটিপিসির চেয়ারম্যান এ্যান্ড ম্যানেজিং ডিরেক্টর (সিএমডি) গুরুদীপ সিং, পিডিবির চেয়ারম্যান শামসুল হাসান মিঞা এবং বিআইএফপিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক উজ্জ্বল কান্তি ভট্টাচার্য রামপাল বিদ্যুত কেন্দ্র এলাকা পরিদর্শনে যান। সূত্র জানায় স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনার সময় ভারতের বিদ্যুত সচিব জানান, রামপাল প্রকল্পর নির্মাণ কাজ দুই মাসের মধ্যে শুরু করা হবে। তিনি এ সময় আশ্বস্ত করেন রামপাল প্রকল্পের কারণে পরিবেশের কোন ক্ষতি হবে না। আন্তর্জাতিক সকল মানদ- অনুসরণ করে বিদ্যুত কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হবে। সেলাই এবং কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রাথমিকভাবে কত জনকে দেয়া হবে জানতে চাইলে বিআইএফপিসিএলের একজন কর্মকর্তা জনকণ্ঠকে জানান, চাহিদা থাকা পর্যন্ত কার্যক্রম চলছে। স্থানীয়দের স্বাবলম্বী করতে তাদের এই উদ্যোগ জানিয়ে বলেন, বিদ্যুত কেন্দ্রের প্রতি ইউনিট বিদ্যুত বিক্রি থেকে তিন পয়সা করে সিএসআর তহবিলে রাখা হবে। এই অর্থ দিয়ে স্থানীয়দের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করা হবে। কর্মসংস্থান ছাড়াও শিক্ষা-স্বাস্থ্যের মতো বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করা হবে। বিদ্যুত কেন্দ্র উৎপাদন শুরুর আগেই স্থানীয়দের আস্থা অর্জনের জন্য আগেভাগে কিছু উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।বিদ্যুত সচিব মনোয়ার ইসলাম এসময় বলেন, সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে বিদ্যুত কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত প্রতি ইউনিট বিদ্যুত থেকে তিন পয়সা হারে আলাদা তহবিলে সঞ্চয় করা হবে। এতে বছরে ৩০ কোটি টাকা স্থানীয় জনগণের উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। সকালে দুই দেশের প্রতিনিধি দল রামপাল পৌঁছালে বিআইএফপিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক উজ্জ্বল কান্তি ভট্টাচার্য রামপাল বিদ্যুত কেন্দ্রের অগ্রগতি তুলে ধরে একটি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করেন। প্রতিনিধি দল দুপুরে হেলিকপ্টার যোগে আবার ঢাকা ফিরে আসেন। একই দিন বিকেলে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে বাংলাদেশ ভারতের মধ্যে বিদ্যুত খাতে সহযোগিতা সংক্রান্ত যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির একাদশ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশের বিদ্যুত সচিব মনোয়ার ইসলাম এবং ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ভারতের বিদ্যুত সচিব প্রদীপ কুমার পূজারী। গত বছর নবেম্বরে দিল্লীতে যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির ১০ম সভা অনুষ্ঠিত হয়। বুধবারের বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যুত খাতের যৌথ প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় রামপালে মৈত্রী সুপার থারমাল বিদ্যুত প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি রামপালে সৌর বিদ্যুত প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় ত্রিপুরা আন্তঃসংযোগের মাধ্যমে আরও ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত আমদানি, বহরমপুর-ভেড়ামারা ইন্টারকানেকশনের মাধ্যমে ভারতের বেসরকারী খাত থেকে ৩০ থেকে ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুত আমদানির অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। স্টিয়ারিং কমিটির সভায় অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে বহরমপুর-ভেড়ামারা আন্তঃসংযোগের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে আরও ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত আমদানি, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আরও আন্তঃসংযোগের সম্ভাব্যতা যাচাই, ভারতের রিলায়েন্স, সাপুরজি পালংজি ও আদানী গ্রুপের বাংলাদেশের বিদ্যুত খাতে বিনিয়োগ প্রস্তাবগুলো নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় উভয় পক্ষ রামপালে মৈত্রী সুপার থারমাল প্রকল্পের কাজের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বিদ্যুত খাতে বাংলাদেশ-ভারত সহযোগিতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এর আগে বুধবার সকালে বিদ্যুত খাতে সহযোগিতা সংক্রান্ত বাংলাদেশ-ভারত জয়েন্ট ওয়ার্কি গ্রুপের একাদশ বৈঠক ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়।