ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০ আশ্বিন ১৪২৯

আজই সেরেনার উৎসবের দিন?

প্রকাশিত: ০৫:৪০, ৩০ জানুয়ারি ২০১৬

আজই সেরেনার উৎসবের দিন?

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ বয়সে চৌত্রিশকেও ছাড়িয়ে গেছেন সেরেনা উইলিয়ামস। কিন্তু বয়সের ফ্রেমে নিজেকে বেঁধে রাখতে নারাজ এই আমেরিকান। কোর্টের লড়াইয়ে যেন চিরতরুণী! প্রতিপক্ষের হুমকি-আতঙ্ক। প্রতিনিয়তই নিজেকে শানিত করতে মরিয়া। একের পর এক রেকর্ড গড়ে নিয়মিতই দ্যুতি ছড়াচ্ছেন টেনিস দুনিয়ায়। গত বছর চার গ্র্যান্ডসøামের তিনটিতেই চ্যাম্পিয়ন। ক্যারিয়ারের প্রথম ‘ক্যালেন্ডার সøাম’ জয়ের দ্বারপ্রান্তেও পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ইউএস ওপেনের সেমি ফাইনালে হারায় স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় ডুবেন আমেরিকান টেনিসের জীবন্ত এই কিংবদন্তি। এরপর আর কোর্টেই নামেননি সেরেনা উইলিয়ামস। বরং নতুন বছরে নিজেকে নতুন শুরুর প্রত্যয়েই মৌসুমের প্রথম গ্র্যান্ডসøামে খেলতে নামেন তিনি। শুরুটাও করেন দুর্দান্ত। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মারিয়া শারাপোভা-এ্যাগ্নিয়েস্কা রাদওয়ানস্কার মতো তারকাদের হারিয়ে ফাইনালের টিকেট নিশ্চিত করেন সেরেনা। লক্ষ্যই যে তার আরেকটি গ্র্যান্ডসøাম। টেনিসের উন্মুক্ত যুগে সর্বোচ্চ ২২ গ্র্যান্ডসøাম জয়ী স্টেফিগ্রাফের রেকর্ডকে স্পর্শ করা! জার্মান কিংবদন্তিকে স্পর্শ করতে তার আর একটি মাত্র জয়ের প্রয়োজন। যে ম্যাচের প্রতিপক্ষ এ্যাঞ্জেলিক কারবার। আরেক জার্মানি! সাবেক জার্মান কিংবদন্তির রেকর্ডকে স্পর্শ করতে সেরেনাকে হারাতে হবে তারই স্বদেশী এ্যাঞ্জেলিক কারবারকে। যার সময়টাও দারুণ কাটছে এখন। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সেমিফাইনালে ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কাকে পরাজিত করে জায়গা করে নেন ফাইনালে। সেরেনা উইলিয়ামস যখন ক্যারিয়ারের ২২তম গ্র্যান্ডসøাম জিতে নিজেকে ইতিহাসের সোনালি পাতায় জায়গা করার পরিকল্পনা করছেন। ঠিক তখনই প্রথম মেজর শিরোপা জয়ের স্বপ্ন বুনছেন এ্যাঞ্জেলিক কারবার। কে হাসবেন আজ? কে ভাসবেন উৎসবে তার উত্তর কেবলই সময়ের হাতে। তবে সপ্তম বাছাই কারবারকে আগেই সতর্কবার্তা জানিয়ে দিয়েছেন সেরেনা উইলিয়ামস। শিরোপা লড়াইয়ের মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে টুর্নামেন্টের শীর্ষ বাছাই বলে দিয়েছেন, ‘গত মৌসুমের চেয়ে এবার আরও ভাল ফর্মে।’ তার প্রমাণ দিয়েছেন সেমিফাইনালে এ্যাগ্নিয়েস্কা রাদওয়ানস্কার বিপক্ষেই। ফাইনালের আগে সেমিফাইনালের ম্যাচটাকেই ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা বলছেন সেরেনা। তিনি বলেন, ‘আমি বলবো সম্ভবত আমার খেলা এটাই সবচেয়ে সেরা সøাম। তবে এটা নিশ্চিত করেই বলতে পারি যে, আমি আরও ধারাবাহিক পারফর্ম করতে পারি এবং মানসিকভাবে স্থিতিশীল থাকতে পারি।’ গত মৌসুমে ৫৬ ম্যাচ খেলে সেরেনা উইলিয়ামস হেরেছেন মাত্র তিনটিতে। আর এ্যাঞ্জেলিক কারবারের বিপক্ষে মুখোমুখি লড়াইয়ে সেরেনা এগিয়ে ৫-১ ব্যবধানে। ছয়বারের মুখোমুখি লড়াইয়ে সেরেনার বিপক্ষে জার্মান তারকার জয় মাত্র একটিতে। তাও আবার ২০১২ সালের সিনসিনাতি মাস্টার্সে। আর সেই ম্যাচটাই কেবল সেরেনার জন্য ভীতির কারণ। যে দুঃস্মৃতি এখনও ভুলতে পারেননি টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের নাম্বার ওয়ান তারকা। এ বিষয়ে ২১টি গ্র্যান্ডসøাম জয়ের মালিক বলেন, ‘আমি মনে করি সেই ম্যাচে অবিশ্বাস্য খেলেছিল এ্যাঞ্জেলিক কারবার। আসলে সেটা এমন এক ম্যাচ যা আমি কখনই ভুলতে পারবো না। তার সেই ম্যাচের সার্ভ, গতি এবং জয়ের জন্য মানসিক যে দৃঢ়তা তা এখনও স্মরণ করতে পারি।’ তবে এ্যাঞ্জেলিক কারবারের সেই আত্মবিশ্বাস এখনও বেশ। সেরেনার বিপক্ষে ফাইনালের আগেও জানিয়ে দিলেন তার আসলে হারানোর কিছুই নেই। এ জন্যই নিজেকে এগিয়ে রাখছেন কারবার। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘হারানোর কোন কিছু নেই মানে তার বিপক্ষে আমার স্বাভাবিক খেলাটাই খেলতে পারবো। কোর্টে নির্ভার থাকতে পারবো। এটাই আমার জন্য চ্যালেঞ্জ যে তার বিপক্ষে কোনকিছুই হারানোর নেই। তার যেমন চাপ তার কিছুই নেই আমার।’ ১৯৯৪ সালে সর্বশেষ জার্মান খেলোয়াড় হিসেবে গ্র্যান্ডসøাম জিতেছিলেন স্টেফিগ্রাফ। কিংবদন্তির পর এ্যাঞ্জেলিক কারবারের সামনেই এখন প্রথম জার্মান খেলোয়াড় হিসেবে গ্র্যান্ডসøাম জয়ের দারুণ সুযোগ।