ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০ আশ্বিন ১৪২৯

বাফুফেকে ‘আলটিমেটাম’ শেখ জামালের

প্রকাশিত: ০৬:২০, ২৮ জানুয়ারি ২০১৬

বাফুফেকে ‘আলটিমেটাম’ শেখ জামালের

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ দেশের শীর্ষস্থানীয় ফুটবল ক্লাব শেখ জামাল ধানম-ি এবং দেশীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকট আকার ধারণ করেছে। বুধবার নিজেদের ক্লাব প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ক্লাবটি হার্ডলাইনে যাবার হুমকি দিয়েছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে (বুধবার ও বৃহস্পতিবার আজ শেষ দিন) মামুনুল ইসলামসহ জাতীয় দলের নয় ফুটবলারকে ক্লাবে ফিরিয়ে না দিলে আসন্ন এএফসি কাপের চূড়ান্ত পর্বে না খেলার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের শিরোপাধারী শেখ জামাল। তাছাড়া যেসব খেলোয়াড় ক্লাবের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নেয়ার পর ‘বাফুফের ষড়যন্ত্রে’ অন্য ক্লাবে আশ্রয় নিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থাও নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে শেখ জামাল। বুধবার দুপুরে শেখ জামাল ক্লাব প্রাঙ্গণে সংবাদ সম্মেলনে ক্লাবটির সভাপতি মনজুর কাদের বলেন, ‘আজ সাতদিন হয়ে গেল। অপেক্ষায় ছিলাম। কিন্তু বাফুফে আমাদের খেলোয়াড়দের ফেরত দেয়নি। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের সেমিফাইনালে হেরে যাওয়ার পর বাংলাদেশ জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের আর ‘নো ম্যান্?স ল্যান্ডে’ যেতে দেয়া হয়নি। বাফুফের সহযোগিতায় তিনটি ক্লাব পরবর্তীতে আমাদের খেলোয়াড়দের ভাগ-বাটোয়ারা করে নিয়ে যায়। অথচ এর আগেরদিন বাফুফের সভাপতির সঙ্গে সাড়ে তিন ঘণ্টার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল শেখ জামালের খেলোয়াড়রা শেখ জামালেই ফিরে আসবে। বাফুফের এমন পক্ষপাত ও ষড়যন্ত্রমূলক আচরণে আমরা দারুণ বিস্মিত ও হতাশ। এটা শেখ জামাল ক্লাবকে ধ্বংস করার নীলনক্সা!’ তিনি আরও বলেন, ‘বাফুফে কিছু ক্লাবের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। তারা চায় না শেখ জামাল ধানম-ি হ্যাটট্রিক লীগ শিরোপা অর্জন করুক এবং এএফসি কাপের চূড়ান্ত পর্বে ভাল খেলুক। যেসব খেলোয়াড় অন্যান্য ক্লাবে চলে গেছেন তারা প্রত্যেকেই ২০১৫-১৬ মৌসুমের জন্য শেখ জামালের কাছ থেকে তাদের পাওনার এক তৃতীয়াংশ অগ্রিম হিসেবে নিয়েছেন। এর দালিলিক প্রমাণও আমাদের কাছে আছে।’ এ সময় ক্লাবের পক্ষ থেকে মামুনুল ইসলামের নেয়া টাকা গ্রহণ করার রসিদ সংবাদ সম্মেলনে পড়ে শোনানো হয় এবং দেখানো হয়। এতে দেখা যায় যে, মামুনুল ২০১৪-১৫ মৌসুমে ক্লাবের কাছে পাওনা ১১ লাখ টাকাসহ ২০১৫-১৬ মৌসুমের জন্য অগ্রিম হিসেবে তার প্রাপ্য ৫০ লাখ টাকার ৩৩ শতাংশ ১৬ লাখ ৬৬ হাজার টাকা অগ্রিম নিয়েছেন। মনজুর কাদের এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘এসব খেলোয়াড়রা শেখ জামালেরই ছিল এবং তারা যে অগ্রিম টাকা অন্যান্য ক্লাব থেকে গ্রহণ করেছিল সেটি বাফুফেকে ফেরত দেয়া হয়েছে এবং খেলোয়াড়রা তাদের এই কর্মকা- যে বৈধ হয়নি তা স্বীকার করে ক্লাবকে চিঠি দিয়ে ক্ষমা প্রার্থনাও করেছে (এক্ষেত্রেও মামুনুলের ক্ষমা প্রার্থনার চিঠি পড়ে শোনানো হয়)। একজন খেলোয়াড় যখন এক ক্লাবে এক মৌসুম খেলেন তখন দলবদলের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হওয়ার আগে সেই ক্লাবেই থাকেন। এটিই রীতি আর এটিই হয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে। কিন্তু বাফুফের সহযোগিতায় কিছু ক্লাব সেই ধারা ভঙ্গ করেছে। আমরা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এসব খেলোয়াড়কে ফেরত চাই। বাফুফের সভাপতি যেসব আশ্বাস দিয়েছিলেন তার বাস্তবায়ন চাই। নইলে এএফসি কাপে আমাদের না খেলার দায়-দায়িত্ব বাফুফেকেই বহন করতে হবে।’ মনজুর কাদের আরও বলেন, ‘গত ছয় বছরে শেখ জামাল সাতটি শিরোপা জিতেছে এবং তিনটি রানার্সআপ ট্রফি জিতেছে। জামালের এমন আধিপত্যে অন্য ক্লাবগুলো ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়েছে। তারা চায় না জামাল শীর্ষে থাকুক। কয়েকটি ক্লাব জোট বেঁধে আমাদের শেষ করে দেয়ার হীন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে, আর এই কাজে বাফুফের ২১ কর্মকর্তা (ফেনী সকার এবং ঢাকা আবাহনী লিমিটেড বাদে) মদদ দিচ্ছে। বাফুফে কোথায় আমাদের সাহায্য করবে, তা না উল্টো আমাদের ধ্বংস করে দিতে চায়। এ যেন সর্ষের মধ্যেই ভূত!’ শেখ জামাল তাদের চার বিদেশী খেলোয়াড় ওয়েডসন এ্যানসেলমে, এমেকা ডার্লিংটন, ল্যান্ডিং ডার্বোয়ে এবং ভারতের পুনে এফসির প্রতীক সেনসহ বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত দুই বিদেশী খেলোয়াড় জার্মানির রিয়াসাত ইসলাম এবং সুইডেনের জোসেফ নুর রহমানকে উড়িয়ে এনেছে। মনজুর কাদের বলেন, ‘আমাদের ডিফেন্স লাইন পুরোটাই অন্যান্য ক্লাবে চলে গেছে। বাফুফের দায়িত্ব আমাদের খেলোয়াড়দের ফিরিয়ে দেয়া। নইলে আমাদের পক্ষে খেলা সম্ভব নয়।’ এছাড়া মনজুর কাদের আরও বলেন, ‘বাফুফের বর্তমান কমিটি গত আট বছরে ফুটবলের উন্নয়নে কোন ভূমিকা রাখতে পারেনি। এএফসি ফিফা প্রদত্ত উন্নয়ন খাতের টাকা উন্নয়ন খাতে খরচ না করে ‘হরিলুট’ করেছে। দেশের ফুটবলে জাগরণের জন্য শেরে বাংলা, সোহরাওয়ার্দী কাপসহ বিভিন্ন জাতীয় টুর্নামেন্ট চালু করতে পারেনি। আমি নিজে জেলা ফুটবল উন্নয়ন কমিটির প্রধান হিসেবে চেষ্টা করেছি। কিন্তু সব চেষ্টাই বৃথা গেছে।’ উল্লেখ্য, ক্লাবের দাবি অনুসারে আগের চুক্তিবদ্ধ ৯ ফুটবলার হলেন : মামুনুল ইসলাম, রায়হান হাসান, শহীদুল আলম সোহেল, সোহেল রানা, শেখ আলমগীর কবির রানা, ইয়াসিন খান, ইয়ামিন মুন্না, জামাল ভুঁইয়া ও নাসির উদ্দিন চৌধুরী। এখন দেখার বিষয়, বাফুফে আজকের মধ্যে শেখ জামালের দাবি মোতাবেক তাদের খেলোয়াড়দের ফেরত দেয় কি না।