ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ২০ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২

বাউফলে ৮শ’ বস্তা নিষিদ্ধ পপি সীটের মালিক জয়দেব সাহা ধরা ছোঁয়ার বাইরে

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাউফল, পটুয়াখালী

প্রকাশিত: ২৩:২০, ১৯ মার্চ ২০২৬

বাউফলে ৮শ’ বস্তা নিষিদ্ধ পপি সীটের মালিক জয়দেব সাহা ধরা ছোঁয়ার বাইরে

 মিয়ানমার থেকে সাগর পথে  পটুয়াখালীর বাউফলে আনা ৮শ' বস্তা নিষিদ্ধ   পপি সীট জব্দ করার পর মূলহোতা কালাইয়া ইউনিয়নের  সাবেক মেম্বার মধু সুধন দাসের ছোট মেয়ে জামাই জয়দেব দাস গা ঢাকা দিয়েছেন।

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, নিষিদ্ধ  পপি সীট ও সুপারিগুলো তার।

সমুদ্র পথে এগুলো বাউফলের কালাইয়া ধান হাট এনে  বুধবার রাতে সড়ক পথে অনত্র পাচার করছিল।  পপি সীট আড়াল করার জন্য সাথে কয়েক বস্তা সুপারি আনা হয়। যাতে কেউ  সন্দেহ করতে না পারে।

কিন্তু  বিধি বাম, ট্রলার  থেকে মালগুলো  খালাস করে ট্রাকে লোড করার সময় শ্রমিকদের সন্দেহ হলে তারা স্থানীয়দের  মাধ্যমে পুলিশকে খবর দেন।

খবর পেয়ে বাউফল উপজেলা নির্বাহী সালেহ আহম্মেদ ও বাউফল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে  গিয়ে  পপি সীট ও সুপারিগুলো জব্দ করে।

সূত্র জানায় মোট ৮শ' বস্তা পপি সীট ও সুপারি জব্দ করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্থানীয় কয়েক ব্যক্তি বস্তা গুলো আটকে দিলে   কালাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য (মেম্বার) মধু সুদন দাস ওরফে মধু মেম্বারের দুই ছেলে উত্তম দাস ও আশিষ দাস ঘটনাস্থলে এসে সে গুলো  নিজেদের বলে দাবি করলেও একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, জব্দকৃত এসব পণ্য  মধু সুধন দাসের ছোট মেয়ে জামাই জয়দেব দাসের।  তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই মিয়ানমার ও ভারত থেকে অবৈধ পণ্য পাচারের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ২০১১ সালে তেঁতুলিয়া নদীতে চন্দন কাঠের একটি চালান জেলেদের হাতে ধরা পড়লেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি রক্ষা পান। 

এছাড়া ২০২১ সালে কালাইয়া বন্দরের আলগী নদী এলাকায় প্রায় ৩ হাজার বস্তা অবৈধ পণ্যসহ দুটি কার্গো স্থানীয়দের হাতে আটক হলেও একইভাবে তিনি পার পেয়ে যান।

এ বিষয়ে জানতে  অভিযুক্ত জয়দেব দাসের মোবাইল ফোনে কল দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। 

তবে অভিযোগ অস্বিকার করে জয়দেব দাসের শ্যালক আশিষ দাস বলেন, "কোন কারণ ছাড়াই বস্তা গুলো জব্দ করেছে। কিছু বস্তায় পোস্তদানা ও সুপারি আছে। কোন অবৈধ মালামাল নাই। "

তারা স্থানীয় সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিভিন্নভাবে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ ওঠে। ঘটনার দিন রাত ১০টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত এ নিয়ে দেনদরবার চলে।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে বাউফল থানার ওসি (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম জানান,   প্রায় ৮শ' বস্তা মাল  জব্দ করা হয়।  জব্দকৃত পণ্যে বিশেষজ্ঞ দ্বারা  পরীক্ষা  নিরীক্ষা  করার পর বলা যাবে  এগুলো নিষিদ্ধ  কিনা।

উপজেলা নির্বাহী  অফিসার মো. সালেহ আহম্মেদ সাংবাদিকদের বলেন," কোন ধরণের লুকোচুরি হওয়ার সুযোগ নাই। সংশ্লিষ্টদের সহযোগীতা নিয়ে প্রয়োজনয়ি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

×