ছবি: দৈনিক জনকণ্ঠ।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌরসভায় গরিব, দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে সরকারি চাল বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পৌরসভা জুড়ে ৪ হাজার ৬শত ২৫ জনের তালিকা তৈরি করা হয়। তালিকা অনুযায়ী রবিবার (১৫ মার্চ) ভবানীগঞ্জ পৌরসভার নির্ধারিত স্থানে চাল বিতরণের কথা। সকাল থেকেই সেখানে চাল নিতে ভিড় করেন অসহায় ও দুস্থ মানুষজন।
তবে অভিযোগ উঠেছে, তালিকাভুক্ত অনেক প্রকৃত উপকারভোগী চাল পাননি। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে পৌর বিএনপির পক্ষ থেকে একটি সিন্ডিকেট গঠন করা হয়েছে।
অন্যদিকে পৌর জামায়াতের পক্ষে বিভিন্ন ওয়ার্ডে একটি তালিকা তৈরি করা হয়। সেই তালিকার প্রকৃত উপকারভোগীরা চাল নিতে এলে তাদের ধাক্কা দিয়ে সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরে পুলিশ এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
অভিযোগ উঠেছে, তাদের সামনেই পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র আব্দুর রাজ্জাক তার ছেলে ও দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে সংঘবদ্ধ হয়ে জামায়াত-শিবিরের দায়িত্বশীলদের ওপর হামলা চালান। অসহায় মানুষের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে তারা এই হামলার শিকার হন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে এক পর্যায়ে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয়রা দাবি করেছেন, গরিব ও অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি সহায়তা যেন প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছেই পৌঁছায়, সে জন্য প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
এ ব্যাপারে ভবানীগঞ্জ পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী লিটন মিয়া বলেন, তালিকা অনুযায়ী সুষ্ঠুভাবে চাল বন্টন করা হয়েছে তবে কিছু লোকজন তালিকার বাইরে এসেছিল তারা চাল পাননি।
এ ঘটনায় বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইদুল আলম বলেন, সংঘর্ষের খবরটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যসহ আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হয়। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
এম.কে








