অসুস্থতার কথা বলে মাত্র ১৪ দিনের ছুটি নিয়েছিলেন। কিন্তু সেই ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর চার মাস পেরিয়ে গেলেও কর্মস্থলে ফেরেননি তিনি। অভিযোগ উঠেছে, কাউকে কিছু না জানিয়েই স্থায়ীভাবে বসবাসের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়েছেন সুদূর অস্ট্রেলিয়ায়। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার নোয়াগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। নিখোঁজ ওই শিক্ষকের নাম প্রিন্স চন্দ্র তালুকদার। তিনি ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৪ নভেম্বর থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত মোট ১৪ দিনের জন্য শারীরিক অসুস্থতাজনিত ছুটি নিয়েছিলেন প্রিন্স চন্দ্র তালুকদার। কিন্তু ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি আর বিদ্যালয়ে যোগদান করেননি। দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে স্থানীয় শিক্ষা মহলে শুরু হয় কানাঘুষা।
দীর্ঘদিন লাপাত্তা থাকার পর সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার একটি ছবি ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে তাকে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি হারবার ব্রিজের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে দেখা গেছে। এতে স্থানীয়দের ধারণা আরও দৃঢ় হয় যে, তিনি শিক্ষা কর্তৃপক্ষকে ফাঁকি দিয়ে প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছেন।
বিষয়টির সত্যতা জানতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপালী রানী দাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার স্বামী দুলাল চন্দ্র তালুকদার (যিনি প্রিন্স চন্দ্র তালুকদারের বাবা) বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, প্রিন্স বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন, তবে ঠিক কোন দেশে আছেন তা তিনি খোলসা করেননি।
উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন জানিয়েছেন, প্রিন্স চন্দ্র তালুকদারকে পরপর তিনবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। তিনি এমনকি পাসপোর্ট করার জন্যও কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেননি। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল দাস জানান, অভিযোগের সত্যতা অনুযায়ী বিধি মোতাবেক তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজু








