ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ১৪ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

কাজ না করেই ভুয়া ভাউচারে ২ লাখ টাকা উত্তোলন প্রধান শিক্ষকের

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাকেরগঞ্জ, বরিশাল

প্রকাশিত: ১৯:০৮, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩

কাজ না করেই ভুয়া ভাউচারে ২ লাখ টাকা উত্তোলন প্রধান শিক্ষকের

বড়িয়া নন্দ পাড়া ১২১ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের বড়িয়া নন্দ পাড়া ১২১ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একই ভবনের জন্য ক্ষুদ্র মেরামতসহ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে বরাদ্দ করা হয়েছে তিনটি খাত থেকে। 

২০২২-২৩ অর্থ বছরে রুটিন_মেইনটেনেন্স এর ৪০ হাজার টাকা, লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের (স্লিপ) বিল ৫০ হাজার সহ ক্ষুদ্র মেরামতের ২ লাখ সর্বমোট এই বিদ্যালয়ে ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা বরাদ্দ পেয়েছে। 

কোন প্রকার কাজ না করেই ক্ষুদ্র মেরামতের ২ লাখ টাকা উত্তোলন করে নিয়েছেন বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক আঞ্জুম আরা।  কাজ না করেই তৈরি করা হয়েছে ভুয়া ভাউচার। আবার সেগুলো শিক্ষা অফিসে দাখিল করা হয়েছে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির স্বাক্ষর সহ। 

উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তার প্রত্যয়ন পত্র ছাড়াই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ক্ষুদ্র মেরামেতের ২ লাখ টাকা উত্তোলন করে নিয়েছে। এই সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে গণমাধ্যম কর্মীদের হুমকি দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক আঞ্জুমারা বেগম। ক্ষুদ্র মেরামতের ২ লাখ টাকার বিল উত্তোলনের বিষয় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে ফোন দিলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে প্রথমে বলেন বড়িয়া নন্দপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কোনো বিল দেয়া হয়নি। 

বিল উত্তোলন করতে হলে তো আমার স্বাক্ষর প্রয়োজন। বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তার দুই রকমের বিভ্রন্তিকর প্রশ্নের উত্তরে বেরিয়ে আসে সরকারি টাকা আত্মসাৎ এর মূল রহস্য। 

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২২-২৩ অর্থ বছরে ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য ২ লাখ টাকা, স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যান্ট (স্লিপ) ফান্ডের ৫০ হাজার টাকা ও রুটিন_মেইনটেনেন্স জন্য ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ পায় স্কুলটি। নিয়ম অনুযায়ী এই কাজগুলি স্কুল পরিচালনা কমিটির তত্ত্বাবধানে হওয়ার কথা। কাজ না করেই উপজেলা শিক্ষা অফিসের এটিও খগোপতি রায় কে ম্যানেজ করে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন স্কুলটির প্রধান শিক্ষকসহ ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ছালে আহমেদ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ক্ষুদ্র মেরামত ফান্ডের কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের ভবনের দেয়াল মেরামত ও রং করা, দরজা জানালা মেরামত ও রং করা, বারান্দায় নতুন গ্রিল লাগানো ও রং করা এবং বাগান তৈরি বাবদ ২ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

২৫ সেস্টেম্বর সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, স্কুল ভবন রং করা ব্যতীত দৃশ্যমান কোনো কাজ চোখে পড়েনি। এমন কী কর্মপরিকল্পনায় উল্লেখ থাক কোন কাজ করেনি প্রধান শিক্ষক। 

এছাড়াও স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যান্ট (স্লিপ) ফান্ডের ৫০ হাজার টাকা ও রুটিন মেরামতের জন্য ৪০ হাজার টাকার ভাউচারেও অসংগতি পাওয়া যায়। আবার স্লিপ ফান্ডের টাকা ইলেকট্রনিক ওয়ারলিং ও বাথরুমের পাইপ মেরামত এর কাজে ব্যয় করা হয়েছে বলে জানান প্রধান শিক্ষক আঞ্জুমানা বেগম।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনি বলেন, তিনটি ফান্ডে ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যয়ের কথা বলা হলেও প্রকৃত খরচ ৫০ হাজার টাকার বেশি হবে না। 

স্কুলের সামগ্রিক কাজের তথ্য জানতে চেয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের মোবাইল ফোনে ফোন দেয়া হলে জনকন্ঠ সংবাদ মাধ্যমকে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, স্কুলের সরকারি বরাদ্দের টাকা কীভাবে খরচ করতে হবে এটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। এ বিষয়ে যদি হিসাব দিতে হয় তাহলে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে দিব। সাংবাদিকদের জানার কোনো অধিকার নেই। আপনারা কেন বিদ্যালয় এসেছেন। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ছালে আহমেদ বলেন, আমি স্বাক্ষর দিয়েছি প্রধান শিক্ষক বিল উত্তোলন করেছেন। আমি বরিশাল শহরে বসবাস করি বিদ্যালয় কি পরিমান কাজ করেছে সেটা আমার ভালো জানা নেই। 

উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা আবুল খায়ের মিয়া জানান, এই বিদ্যালয়ের ব্যাপারে আমরা কোন প্রত্যয়ন পত্র দেই নাই। প্রধান শিক্ষক কিভাবে বিল উত্তোলন করেছে বিষয়টা আমাদের জানা নেই।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জনকণ্ঠকে জানান, আমার স্বাক্ষরে প্রধান শিক্ষক ব্যাংক থেকে বিল উত্তোলন করেছে। এবং এলজিইডি কর্মকর্তার প্রত্যয়ন পত্র পেয়েই আমি স্বাক্ষর দিয়েছি। বিদ্যালয়ে ক্ষুদ্র মেরামতের কাজে যে এতটা অনিয়ম করেছে সেই বিষয়টি আমার জানা ছিল না। 

জনকণ্ঠ সংবাদ মাধ্যমের কাছ থেকে খবর শুনে তাৎক্ষণিক আমি বিদ্যালয়টি পরিদর্শন এসেছি। প্রধান শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে। এবং তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষা কর্মকর্তা।
 

 

এসআর

×